ফিরে যেতে চান

এ জমিদারি সূচনা হয় নাটোর জমিদারির দান সম্পত্তির ভিত্তিতে। নাটোর জমিদারির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রামজীবন জীবিতকালেই একমাত্র পুত্র কালিকা প্রসাদকে হারিয়েছিলেন। তাই তিনি নাটোর জেলার সিংড়া থানা চৌগ্রাম নিবাসী রামকান্তকে দত্তক গ্রহণ করেন। বিনিময়ে  রামজীবন রামকান্তর পিতাকে চৌগ্রাম ও রংপুর জেলার ইসলামাবাদ পরগণা দুটি দান করেন। এভাবে চৌগ্রাম জমিদারির উৎপত্তি ঘটে। শ্রীকালীনাথ চৌধুরী তাঁর রাজসাহীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস গ্রন্থে তথ্য দিয়েছেন, রামকান্তর বাবার নাম রসিকরায়। এ জমিদারির পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে রোহিনীকান্ত রায় রাজা নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তিনি চৌগ্রামের রাজবাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। পুত্র সন্তানের জনক না হওয়ার কারণে তিনি রমনীকান্তকে দত্তক গ্রহন করেন। তিনি একজন শিক্ষিত ও সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। ব্যবসার উদ্দেশ্যে তিনি  কোলকাতায় ৪৪/২ ল্যান্স ডাউন রোডে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে সেখানে স্থায়ীভাবে বাস করতে থাকেন। তিনি হিন্দুস্থান লাইফ ইন্সিওরেন্স কোম্পানির প্রথম চেয়ারম্যান এবং হিন্দুস্থান ব্যাংকের একজন ডাইরেক্টর নিযুক্ত হয়েছিলেন। তাঁর আমলে চৌগ্রাম জমিদারির আয়তন বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছিল ৪৬.০৭ বর্গমাইল। ১৯৪৫ সালে ৮০ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুত্র যথাক্রমে রবীন্দ্রকান্ত ও রমেন্দ্রকান্ত রংপুর নিবাসী নলডাঙ্গার জমিদার যতীন্দ্রনাথ লাহিড়ীর দুই কন্যা শান্তি দেবী ও ঊষা দেবীকে বিয়ে করেন। প্রথম কন্যা ইন্দুপ্রভার বিয়ে হয় বালিহারের জমিদার বিমলেন্দু রায়ের সঙ্গে। দ্বিতীয় কন্যার বিয়ে হয় রংপুর জেলার নলডাঙ্গার জমিদার হরিদাস চন্দ্র লাহিড়ীর সঙ্গে এবং তৃতীয় কন্যা মায়াপ্রভার বিয়ে হয় ডা. দ্বিজেন্দ্রনাথ বাগচীর সঙ্গে।