ফিরে যেতে চান

খাদেমুল ইসলাম সমিতির ভূমিকা অনেকটাই রাজশাহী শহরের স্বর্গবাসী যতীন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় এর মতো। যিনি বড়কুঠির পাশে পদ্মাগর্ভে ডুবন্ত দু’জন নারীকে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেই সলিল সমাধি হন। যতীন্দ্রনাথ নারীদ্বয়কে উদ্ধার করে প্রজন্মের কাছে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। বিশ শতাব্দীর বিশ দশকে জন্মলাভের পর খাদেমুল ইসলাম সমিতিও কয়েকটি মানব কল্যাণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে বর্তমান নিজেই প্রায় অস্তিত্বহীন। কাজী মোহাম্মদ মিছেরের রাজশাহীর ইতিহাস (১ম খণ্ড, ১৯৬৫) গ্রন্থে এর নাম উল্লেখ আছে খাদেমুল ইসলাম সংঘ ও প্রতিষ্ঠাকাল বঙ্গাব্দ ১৩৩২। রাণীনগরে অবস্থিত এটা একটি প্রসিদ্ধ সংঘ। বঙ্গাব্দের হিসেবে ইংরেজি ১৯২৪ বা ১৯২৫ সালে স্থাপন হয়েছিল সমিতিটি। রাজশাহীর ইতিহাস (১ম খণ্ড, ১৯৬৫) গ্রন্থে এ সমিতির দ্বারা একটি মসজিদ ও স্কুল প্রতিষ্ঠার কথা বলা আছে।
২৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে রাণীনগরে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিকট থেকে জানা যায়, এর নাম খাদেমুল ইসলাম সমিতি।  ইসলামের খেদমতের উদ্দেশ্যে এ সমিতির নির্মাণ করা হয়েছিল ও নাম দেয়া হয়েছিল খাদেমুল ইসলাম সমিতি। ব্রিটিশ আমলে অবহেলিত মুসলমানদের জ্ঞানে-গুণে স্বাবলম্বীকরণই ছিল সমিতির মহৎ লক্ষ্য। প্রতিষ্ঠাতাদের নাম জানা যায় না। তবে কসিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি এর সঙ্গে বহু দিন সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে জানা যায়। ১৯২৭ সালে দ্বিতীয় বার সাহেব বাজার বড় মসজিদ নির্মাণে এ সমিতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।৬৪৬ ২৭ মার্চ ২০১৬ তারিখে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (তৎকালীন রাজশাহী মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশরেশন) প্রথম মেয়র অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী জানান, এ সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয় আমার জন্মের আগে। আমার দাদা বদরুদ্দিন, কসিমুদ্দিন, সফি মিয়া প্রমুখকে সমিতিতে সংশ্লিষ্ট থাকতে দেখেছি। রাণীনগর এলাকার নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য সমিতি প্রথমে একটি নাইট স্কুল চালু করেছিল বর্তমান খাদেমুল ইসলাম বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের জায়গাটিতে। পরে সেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন হয়। কেউ মৃত্যুবরণ করলে সমিতির সদস্যরা দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করতো। কাফন কেনার ব্যবস্থাও করতো। একটা মসজিদও নির্মাণ করেছিল নদীর ধারে। নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাবার সময় মসজিদটি বর্তমান জায়গায় স্থানান্তর করা হয়েছিল ১৯০০ সালের ৪০ এর দশকের প্রথম দিকে।৬৫১
রাজশাহীর ইতিহাস (১ম খণ্ড, ১৯৬৫) গ্রন্থে একটি মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে দ্বন্দ্বের বিবরণ আছে। এ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করেই হয়তো এ সমিতির উদ্ভব হয়েছিল। (বিস্তারিত সাহেব বাজার বড় মসজিদ)
এ সমিতি কর্তৃক নির্মিত খাদেমুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মসজিদ, একটি মাদ্রাসা, খাদেমুল ইসলাম বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ রাণীনগরে প্রায় পাশাপাশি বিদ্যমান।
খাদেমুল ইসলাম জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা: সাহেব বাজার-তালাইমারী সড়কের উত্তর পাশে মসজিদটির অবস্থান। মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল নদীর ধারে। নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাবার সময় বর্তমান জায়গায় স্থানান্তর করা হয়েছিল ১৯০০ সালের ৪০ এর দশকের প্রথম দিকে।৬৫১ দোতলা এ মসজিদের উত্তর পাশ সংলগ্ন একতলা মাদ্রাসা ভবন। মাদ্রাসাটি ২০০৭-২০০৮ সালে চালু করা হয়। মসজিদ ও মাদ্রাসা একই কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কমিটির বর্তমান সভাপতি কাজী মনজুর হোসেন।৬৪৬
খাদেমুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: এর সাইন বোর্ড অনুযায়ী বিদ্যালয়টি স্থাপন হয় ১৯৫১ সালে। শুরুতে ছিল খাদেমুল ইসলাম প্রাথমিক বলিকা বিদ্যালয়। দেশ স্বাধীনের পর হয় খাদেমুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়। বর্তমান নাম খাদেমুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বালক-বালিকা উভয়ই পড়ে। তাঁদের সংখ্যা ১৪০ জন। শিক্ষক সংখ্যা ৭ জন। সবাই মহিলা। অবস্থান সাহেব বাজার-তালাইমারী সড়কের উত্তর পাশে। ১৯৯২ সালে ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্ট ৭ কক্ষের ৪তলা বিশিষ্ট এর অবকাঠামোটি নির্মাণ করে দেয়। এ অবকাঠামো নির্মাণের পূর্ব পর্যন্ত বর্তমান খাদেমুল ইসলাম বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে ছিল এর অবস্থান।৬৪৭
খাদেমুল ইসলাম বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ: খাদেমুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের উত্তরমুখী গলিতেই  খাদেমুল ইসলাম বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ। ১৯৬৬ সালে খাদেমুল ইসলাম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় নামে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। এর প্রথম শিক্ষক মরহুম আব্দুর রব বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তাও ছিলেন। পরবর্তী শিক্ষক কাজী মঞ্জুর হোসেন। প্রথম ছাত্রী হোসনে বানু এক সময় এর শিক্ষকও হন। প্রথম প্রধান শিক্ষিকা নিয়োগ হয়েছিলেন মুস্তারী। ১৯৯৩ সালে বিদ্যালয়টিকে কলেজে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয় ও ১৯৯৪ সালে ছাত্রী ভর্তি শুরু হয়। মুস্তারী কলেজের অধ্যক্ষ হন। ১৯৯৮ সালে  কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। খাদেমুল ইসলাম প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখান থেকে বর্তমান অবকাঠামোয় স্থানান্তরিত হলে ১৯৯৬/১৯৯৭ সালে এখানে কেজি পদ্ধতিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু করা হয়। দু’বছর আগে তাঁর সঙ্গে শিশু শ্রেণি সংযোগ করা হয়। বর্তমানে শিশু থেকে দ্বাদশ শ্রেণি চালু আছে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত ছাত্রী সংখ্যা ৭০০ জন। শিক্ষক ৩৫ জন। এর গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো.আব্দুল হাদী (সাবেক মেয়র, রাসিক)।৬৪৮