ফিরে যেতে চান

রাজশাহী জেলা সমিতি, ঢাকা প্রকাশিত ‘ডিরেক্টরি ২০১৬’ তথ্যানুসারে রাজশাহীর যে সব মানুষ চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন তাগিদে ঢাকায় বসবাস করেন তাঁদের উদ্যোগে রাজশাহী জেলা সমিতি, ঢাকা গঠন করেন ১৯৮৯ সালে। তবে সমিতির প্রকাশনা স্মরণিকা’ ৮৯ এ ড. মো. রেজাউল করিমের প্রবন্ধ ‘রাজশাহী জেলা সমিতি, ঢাকা এর পেছনের কথা’ পাঠে স্পট হওয়া যায়, রাজশাহী জেলা সমিতি, ঢাকার ইতিহাস আরো প্রাচীন। ড. মো. রেজাউল করিম প্রবন্ধের প্রথমেই লিখেছেন, ‘রাজশাহী জেলা ভেঙ্গে যখন রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলা হয়ে যায় তখন প্রাক্তন রাজশাহী জেলা সমিতির নাম রাখা হয় বৃহত্তর রাজশাহী জেলা সমিতি। ওদিকে  একে একে নবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর জেলা সমিতি গঠিত হয়ে যায়। ফলে রাজশাহী সমিতি গঠনের আগ্রহ ও প্রয়োজনীয়তা তরান্বিত হয়।’ প্রবন্ধের এ অংশটি পড়ে সহজভাবে বলা যায়, রাজশাহী জেলা সমিতি, ঢাকার জন্ম ১৯৮৪ সালের আগে। কারণ ১৯৮৪ সালে মহাকুমাগুলো জেলায় পরিণত হয়েছিল। রাজশাহী জেলার অন্তর্গত চারটি মহাকুমাও চারটি স্বতন্ত্র জেলায় পরিণত হয়। রাজশাহী সদর মহাকুমা রাজশাহী জেলা নামেই প্রচীন শিরোনাম ধরে রাখে। পূর্বতন রাজশাহী জেলার আয়তন বৃহত্তর রাজশাহী জেলা নামে পরিচিতি পায়। অর্থাৎ ১৯৮৪ সালে মহাকুমাগুলো জেলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নবগঠিত রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর জেলা একসঙ্গে বৃহত্তর রাজশাহী শিরোনাম পায়। যদিও এ নাম বিকেন্দ্রীকরণের কোন প্রশাসনিক ইউনিট ছিল না। তাই রাজশাহী জেলা সমিতির নামে পরিবর্তন এনে বৃহত্তর রাজশাহী জেলা সমিতি রাখা হলেও চাঁপাই নবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর জেলার মানুষকে একই ফ্রেমে বেঁধে রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে  রাজশাহী জেলা সমিতি, ঢাকার পুনর্গঠন অনিবার্য হয়ে উঠে এবং ১৯৮৯ সালে পুনর্গঠিত হয় রাজশাহী জেলা সমিতি, ঢাকা।  এ পুনর্গঠিত সমিতিকে যদি একটি নতুন সমিতি বিবেচনা করা যায়, তাহলে তার জন্ম ১৯৮৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কৃষি ভবনে। এ দিন দুপুর ২ টায় কৃষি ভবনে রাজশাহী জেলা সমিতি, ঢাকা গঠন সংক্রান্ত একটি সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়। সভাটিতে সভাপতিত্ব করেছিলেন ড. মো. রেজাউল করিম। এ সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে আহমেদ ইউনুস সভাপতি  হয়েছিলেন। ড. মো. রেজাউল করিমকে সাধারণ সম্পাদক ও একেএম ফজলুল হককে কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছিল। এ ছাড়া সভায় সমিতির একটি গঠনতন্ত্র পঠনের পর আলোচনা ও অনুমোদিত হয়েছিল। এর প্রায় ১০ বছর পর গঠনতন্ত্রটিকে যুগোপযোগীকরণের উদ্দেশ্যে একটি কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটি কর্তৃক গঠনতন্ত্রের সংশোধনী প্রস্তাব ১৯৯৯ সালের ২৪ এপ্রিল সাধারণ সভায় ও সমাজ সেবা অধিদপ্তর কর্তৃক গৃহীত হয়।
১৯৯৬ সালে  সমিতি সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনভুক্ত হয়। ২০০১ সালে সমিতি তার অফিসের জন্য ঢাকার তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজার ১০ম তলায় কক্ষ ক্রয় করে। যাতে ব্যয় হয় প্রায় সাত লাখ টাকা। ঢাকায় বসবাসরত রাজশাহীর মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যতা নির্মাণ ও জনকল্যাণমুখী কর্মের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক অবস্থা উন্নয়ন হচ্ছে সমিতির মূল লক্ষ্য। লক্ষ্যকে সামনে রেখে সমিতিকে বিভিন্ন কার্যক্রম করতে দেখা যায়। যেমন সমিতির আয়োজনে ২০১১ সালের ২১-২৫ জুন রাজশাহী উৎসব পালিত হয়। উৎসব উপলক্ষে ‘হৃদয়ে রাজশাহী’ শিরোনামে বই আকৃতির অতিরিক্ত পাতা ব্যতীত ১৫২ পৃষ্ঠার একটি স্যুভেনির প্রকাশ করা হয়। স্যুভেনিরে রাজশাহীর বিভিন্ন বিষয়ের উপর ২২টি প্রবন্ধ স্থান পায়। যার সম্পাদক ছিলেন খোন্দকার ইকবাল হোসেন। ২০১৬ সালে সমিতি ১৬৪ পৃষ্ঠার ‘ডিরেক্টরি ২০১৬’ প্রকাশ করে। যাতে ৮ টি প্রবন্ধ, ৩টি কবিতা, সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের শুভেচ্ছা বক্তব্য, ডাইরেক্টরি সমিতির আহবায়কের কথা এবং সদস্যদের ছবিসহ পরিচিতি দেয়া হয়েছে। ডাইরেক্টরি ২০১৬ সম্পাদনা করেন মো. আব্দুল মান্নান। সমিতি বিভিন্ন সময় শীতবস্ত্র বিতরণ, মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান, আইক্যাম্প, হার্ট ক্যাম্প, ক্যান্সার ক্যাম্প, মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনার আয়োজনসহ জটিল রোগে আক্রান্তদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের তথ্য পাওয়া যায়। সমিতি বঙ্গবন্ধু সেতুর উপর রেললাইন স্থাপন, রাজশাহীতে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহসহ বিভিন্ন ধরনের জনস্বার্থ বিষয়ে সভা/সেমিনারের আয়োজনের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে।
স্মরণিকা ’৮৯ য়ে উল্লেখ আছে- সমিতির সাধরণ সদস্য ফি ১৫০ টাকা, আজীবন সদস্য ফি ৫৫০ টাকা ও পৃষ্ঠপোষক সদস্য ফি ৩ হাজার টাকা।