ফিরে যেতে চান

রাজশাহী মহানগরীতে বাহাই ধর্মাবলম্বী মানুষও সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে বসবাস করেন। তাঁদের সংখ্যা অল্প। দেশ স্বাধীনের পর তাঁরা বাংলাদেশ জাতীয় বাহাই আধ্যাত্মিক পরিষদ গঠন করেন। ১৯৭৮ সালে রাজশাহী মহানগরীর লক্ষ্মীপুরে প্যারামেডিক্যাল রোডে বিভাগীয় বাহাই কেন্দ্র নামে একটি অফিস খোলা হয়। এখানে তাঁদের একটি উপাসনালয় আছে। এ উপসনালয়ে তাঁরা প্রতিদিন প্রার্থনা সভায় মিলিত হন। ২০১৬ সালের ৮ আগস্টের তাঁদের  এক প্রতিবেদন থেকে তথ্য পাওয়া যায়, বাহাই কেন্দ্র ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁরা বিভিন্ন ধরনের সেবা ও গঠনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। যেমন-স্বাস্থ্য , শিক্ষা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা, নারী অধিকার স্থাপন ইত্যাদি। কিশোর-কিশোরীদের নৈতিক ও মানসিক শক্তি বিকাশে তাঁরা কাজ করেন। বাহাইদের শিক্ষার একটি মৌলনীতি ‘বিভিন্নতার মাঝে একতা’। এ নীতির ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কিশোর-কিশোরীরা এখানে এসে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। কিশোর-কিশোরীদের ৬টি কোর্সে শিক্ষা প্রদান করা হয়। তাঁরা নারী-পুরুষ উভয়ের সম্মিলিত শ্রমকে সামাজিক সমৃদ্ধির স্তম্ভ হিসেবে বিশ্বাস করেন। বাহাইদের আন্তর্জাতিক সংগঠন বিদ্যমান। এর নাম আন্তর্জাতিক বাহাই সমাজ। জাতিসংঘের বেসরকারি সংস্থা হিসেবে আন্তর্জাতিক বাহাই সমাজ ১৯৭৪ সালে ইসিওএসওসি (ECOSOC) এর মন্ত্রণা সভা, ১৯৭৬ সালে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (UNICEF) ও গত আশির দশকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর পরামর্শদাতার মর্যাদা লাভ করে। তাঁরা নিউইয়র্ক ও জেনেভায় অবস্থিত জাতিসংঘের অফিস এবং নাইরোবির পরিবেশ কর্মসূচিতে কাজ করছেন।৭০২

বাহাই সমাজের ভবন

বাহাই ধর্মাবলম্বী শাহলা নামের এক পার্সীভাষী ইরানী ১৯৭৬ সালে মেডিক্যাল সায়েন্স পড়তে এসে রাজশাহী মহানগরীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এক সময় তিনি খ্রিষ্টীয়ান মিশন হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। তিনি তাঁর পেশায় বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন ও ইরানী ডাক্তার নামে পরিচিতি পান। তিনি উপশহরে মাদার্স ক্লিনিক স্থাপন করেন। বর্তমানে তিনি ক্লিনিকটির পরিচালক । তাঁর এক মেয়ে ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে পড়ে।