ফিরে যেতে চান

শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রম, রাজশাহী

শ্রী রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রধান কেন্দ্র ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার ভাগীরথী নদীতীরে বেলুড় গ্রামে। শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের অন্যতম প্রধান সন্ন্যাসী শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন শ্রী রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন স্থাপনের সর্ব প্রথম প্রস্তাবক। ১৮৯৭ সালে এক সভায় তিনি প্রস্তাবক উপস্থাপন করেন। রামকৃষ্ণ মঠগুলি দুই প্রকারের হয়ে থাকে। প্রথমটি শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের ভক্ত সন্ন্যাসীদের দ্বারা ও দ্বিতীয়টি গৃহী ভক্তদের দ্বারা পরিচালিত হয়। শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রম, রাজশাহী গৃহী ভক্তদের দ্বারা পরিচালিত। অবকাঠামোর দিক থেকে রাজশাহীরটি নবীন প্রতিষ্ঠান। যার অবস্থান সুলতানাবাদ মহল্লার বোয়ালিয়াপাড়ায় ।

শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রমের প্রধান গেট (উত্তরমুখী, ছবি- জানুয়ারি ২০১৭)

১৯৯১ সালে রাজশাহী মহানগরীর কতিপয় রামকৃষ্ণের ভক্ত শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রম স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁদের উদ্দেশ্য অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক চেতনা থেকে শ্রী রামকৃষ্ণের ভাবাদর্শে সকল ধর্ম মতের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মাধ্যমে মানব কল্যাণ সাধন। এ উদ্যোগী মানুষগুলোর মধ্যে ছিলেন স্বর্গীয় মহাদেব কর্মকার, স্বর্গীয় নিখিল চন্দ্র চাকী, শ্রী জয়শংকর রায়, ড. সোমনাথ ভট্টাচার্য, স্বপন কুমার তালুকদার, শ্রী লক্ষণ চন্দ্র রায়, শ্রী সংকর চন্দ্র দাস, শ্রী রুহিনী মোহন ম-ল, শ্রী জগদীশ চন্দ্র সরকার, শ্রী ব্রজেন্দ্র নাথ প্রামানিক, ড. শ্রী হরিপ্রসাদ সিংহ, শ্রী দ্বীন দয়াল নন্দী, শ্রী সুকুমার সরকার, শ্রী শান্তি গোপাল পাল, শ্রী শ্যামল কুমার পাল, শ্রী প্রণব সরকার প্রমুখ। অনেক জল্পনা-কল্পনার পর ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি তাঁরা গোরহাঙ্গা নিবাসী মহাদেব কর্মকারের আহবানে তাঁর বাস ভবনে একটি সভায় মিলিত হয়েছিলেন। এ সভা সর্ব সম্মতিক্রমে শ্রী রামকৃষ্ণ মিশন, রাজশাহী নামে একটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সিদ্ধান্তের মধ্যে আরো ছিল আশ্রমের নিজস্ব অবকাঠামো না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে প্রতি ভক্তের বাড়িতে প্রতি শুক্রবার সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান হবে এবং এভাবে আশ্রমের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ঐ সভায় শ্রী মহাদেব কর্মকারকে প্রেসিডেন্ট, শ্রী সুকুমার রায়কে জেনারেল সেক্রেটারী, শ্রী লক্ষণ চন্দ্র রায়কে ফিন্যান্স সেক্রেটারী করে ৩০ সদস্যের কার্য নির্বাহী কমিটি গঠিত হয়। এরপর আশ্রম নির্মাণের জন্য জায়গা খোঁজা শুরু করেন এবং সুলতানাবাদ মহল্লার বোয়ালিয়াপাড়ার কৃষ্ণকান্ত পান্থাশ্রম এস্টেটের মজা পুকুরের সন্ধান পান। পান্থাশ্রম এস্টেটের পরিচালকগণ কোন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের নিকট জমিটি বিক্রি করতে সম্মত ছিলেন। পান্থাশ্রম এস্টেটের উইলের শর্ত মোতাবেক জেলা জজের নিকট নির্দিষ্ট কারণ দর্শে মিস কেসের মাধ্যমে জমিটি ক্রয় করা হয়। পরবর্তীতে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষরে নিকট ডোবা পুকুর ভর্তির অনুমতি নিয়ে আশ্রম নির্মাণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত কৃত্রিম সংকটের কারণে আশ্রম নির্মাণের কাজ বেশ কয়েক বছর বন্ধ থাকে। অবশেষে মেয়র এএইচএম খায়রম্নজ্জামান লিটনের সহযোগিতায় আশ্রমের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। লিটন এ কাজের জন্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন থেকে দশ লাখ টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছিলেন। সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ছিল জায়গা দখলের জটিলতা। এক্ষেত্রে ২০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুসত্মাক হোসেন রতন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। তাঁর মুখ্য ভূমিকার ফলে আশ্রম ১০ কাঠা জমির মধ্যে ৭ কাঠা আয়তনে প্রাচীর নির্মাণে সমর্থ হয়েছে। তিনিসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র মো. নিযাম উল আযীম আশ্রমের নেতৃবৃন্দকে আনুষ্ঠানিকভাবে জায়গাটি বুঝিয়ে দেন। এ অনুষ্ঠানে দিনাজপুর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের অধ্যক্ষ এবং অন্যান্য সন্ন্যাসী উপস্থিত ছিলেন। আশ্রমের সদস্যবৃন্দ স্বপ্রচেষ্টায় একটি টিনশেড মন্দিরের সঙ্গে একটি হোমিও চিকিৎসালয় স্থাপনের কাজ অব্যাহত রেখেছেন। অসম্পূর্ণ মন্দিরটি ২৯ এপ্রিল ২০১৬/১৬ বৈশাখ ১৪২৩ তারিখে উদ্বোধন করেন ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও মন্দিরের সন্ন্যাসী স্বামী পরদেবানন্দজী মহারাজ এবং ২০ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর মুসত্মাক হোসেন রতন।৭০৪ ৯ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে শারদীয় দুর্গোৎসবের অষ্টমীর দিন সকালে দেখা যায় ইটের বাউন্ডারীর ভিতর পূর্ব পাশে দুটি ছোট একতলা ভবন। ভবন দুটরি উত্তরটিতে লিখা ছিল টয়লটে, বাথরুম ও রান্নাঘর। দড়্গণিরেটি আশ্রমরে মূল ভবন। এ ভবনরে একটি ফলকে লিখা আছে- ‘শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রম, রাজশাহীর মন্দির নির্মাণের শুভ উদ্বোধন করেন স্বামী পরদবোনন্দজী মহারাজ, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, ঢাকা এবং মুসত্মাক হোসনে রতন, মাননীয় কাউন্সলির, ২০ নং ওর্য়াড, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন, তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ/১৬ বৈশাখ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ। প্রকৃতপক্ষে কোন ভিত্তি প্রসত্মর ফলক স্থাপন না হওয়ায় নির্মাণাধীন পর্যায়ে ২৯ এপ্রিল ২০১৬ ফলক টি স্থাপন করা হয়।