ফিরে যেতে চান

মিয়াপাড়ায় অবস্থিত রাজশাহী ধর্মসভার বিলুপ্ত ভবন

রাজশাহী ধর্মসভা মহানগরীর মিয়াপাড়ায় অবস্থিত। প্রায় দেড়শ বছরের প্রাচীন ধর্মসভাটি রাজশাহীর একটি উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। রাজশাহীর সর্ব প্রাচীন প্রেস তমোঘ্ন যন্ত্রালয়সহ কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শনেরও সাক্ষী এ ধর্মসভা। 
ধর্মসভা স্থাপন হয়েছিল ব্রাহ্ম সমাজের কার্যক্রমের প্রতিক্রিয়া হিসেবে। ব্রাহ্ম সমাজ রাজশাহীতে মন্দির স্থাপন করলে স্থানীয় গোঁড়া হিন্দুরা তৎপর হয়ে ওঠে। তাঁরা তখন এ ধর্মসভা স্থাপন করে। তবে কোন্ তারিখে বা কোন সালে ধর্মসভাটি স্থাপন হয়েছিল তার সুনির্দষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। W.W Hunter লিখিত A Statistical Account of Bengal এর ৯০-৯১ পৃষ্ঠায় ধর্মসভার উল্লেখ আছে। এ তথ্য থেকে ধারণা করা যেতে পারে ১৮৫৯ ব্রাহ্মসভা স্থাপনের পর ঐ সালেই বা ষাট দশকের প্রথম ভাগেই ধর্মসভা স্থাপন হয়। এর সদস্যরা ছিলেন পৌরাণিক। ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দ (১২৭২ বঙ্গাব্দ১) থেকে এ সভা হিন্দু রঞ্জিকা নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতো। 
রাজশাহী এসোসিয়েশন সাহিত্য পত্রিকার ১ম সংখ্যায় রাজশাহীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য (১৮২৫-১৯৫২) প্রবন্ধে অধ্যাপক ফজলুল হক মত প্রকাশ করেন, রাজা কংস নারায়ণের উত্তরাধিকারী তাহেরপুরের রাজা চন্দ্রশেখরেশ্বর রায় বাহাদুরের সহযোগিতায় ধর্মসভার প্রথম ধর্মশালা বাংলা ১২৭১ সালে গোয়ালপাড়াতে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে নাটোরাধিপতি রাজা আনন্দনাথ রায় বাহাদুর শহরের কেন্দ্র স্থলে মিয়াপাড়ায় ধর্মসভা গৃহ নির্মাণ করেন। এখন ধর্মসভা চূড়ায় স্থাপনের যে ১২৬৭ সন লেখা আছে তার বিপক্ষে তিনি যুক্তিসঙ্গত মত প্রদান করেন। তাঁর মতে, ১২৭১ সনে ব্রাহ্মের সংখ্যা ও কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে প্রতিপক্ষগন ধর্মসভা প্রতিষ্ঠিত করেন। দ্বিতীয়ত, ১২৭২ সনে ধর্মসভা যে ফটো তোলা হয় সেই ফটোতে সন-তারিখের উল্লেখ নেই।
২০০৮ সালে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র নির্বাচিত হওযার পর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ধর্মসভার পুরাতন অবকাঠামো ভেঙ্গে নতুন কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।৫৬০ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তরের শিলা বিন্যাস করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। বর্তমানে কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ চলছে। ৩০ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে দেখা যায়, কমপ্লেক্সের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে একই আকৃতির দোতলা অবকাঠোমো নির্মিত হয়েছে। মাঝখানের মেঝে ফাঁকা। উত্তর পাশের ফাঁকা জায়গায় হবে পূজামন্ডপ।