ফিরে যেতে চান

রাজা রামমোহন রায় ও সচেতন নের্তৃস্থানীয় ব্যক্তিগণ ১৮২৮ সালে১৫৩ কলকাতায় যে ব্রাহ্ম সমাজ  গঠন করেছিলেন ১৮৫৯ সালে রাজশাহীতে তার একটি উপকেন্দ্র বা  ধর্মশালা ও একটি শাখা গড়ে উঠেছিল।১১৫ তৎকালীন রাজশাহী শহরের বাহিরে অর্থাৎ স্থায়ী ধর্মশালাটি এবং গোঁড়া হিন্দু অধ্যুষিত শহরের বাহিরের স্থায়ী ধর্মশালার দূরত্ব ছিল প্রায় এক মাইল। ক্রমশ শহরের আয়তন বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান এ স্থায়ী ধর্মশালার জায়গাটিও মহানগরীতে অবস্থান করছে। অনুসন্ধানে দেখা যায় স্থায়ী ধর্মশালাটি বর্তমান হোসেনীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও শাখাটি বর্তমান বোয়ালিয়া মডেল থানার পূর্ব-দক্ষিণ পাশে আলুপট্টি জামে মসজিদের পিছনের একটি বাড়ি। এ বিষয়ে ডব্লু ডব্লু হান্টার লিখেছেন, `….. The Samaj first started in Rajshahi in 1859, when a weekly prayer-meeting was formed, which for some years was attended by an average congregation of ten, the gathering being held at the private house of one or other of the members. Subsequently, on the numbers increasing, a sum of £500 was subscribed for the creation of a suitable building for these meetings; and a substantial church was built just outside the town of Rampur Beauleah….’115-c„.52 

প্রবীণ ব্যক্তিদের নিকট থেকে জানা যায়, ঘোষপাড়া মিলন মন্দিরের পাশে হোসেনীঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ছিল ব্রাহ্ম সমাজের ধর্মশালা। সম্ভবত ব্রাহ্ম সমাজের সদস্যবৃন্দ শিক্ষা বিস্তারে উদ্দেশ্যে ধর্মশালা পাঠ শালার ব্যবস্থা করেছিলেন। এ পাঠ শালার গত শতাব্দীর ৬০ দশকের ছাত্র মিলন মন্দির সাধারণ সম্পাদক অনিল কুমার ঘোষের মতে, ধর্মশালার আকৃতি ছিল বর্তমান মিয়াপাড়ায় অবস্থিত ধর্মসভার মত। এর পাশে টিন শেডের আরো কয়েকটি ঘর ছিল। দিনের বেলায় ধর্মশালা পাঠশালা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ধর্মশালার মূল গৃহের মেঝেতে মাদুর বিছিয়ে মেয়েদের পাড়ানো হতো এবং টিন শেডে ছেলেদের পড়ানো হতো। রাতে ব্রাহ্ম সমাজের লোকজন কীর্তন করতো। তাঁরা পূজা করতো না। ৪ জানুয়ারি ২০০৪ তারিখে ঘোষপাড়া নিবাসী প্রায় ৬০ বছর বয়স্ক মহসিন রেজা লাট্টু অনিল কুমারের মতকে সমর্থন করেন। তিনিও ঐ পাঠশালার ছাত্র ছিলেন।১৮৭০-১৮৭১ সালে স্থায়ী ধর্মশালার সদস্য ছিল মাত্র ২৭ জন। তার মধ্যে মাত্র ২ জন ছিল স্থানীয় বাসিন্দা এবং অবশিষ্ট সবাই ছিল শহরে আগত বিভিন্ন পদের সরকারি চাকরিজীবী। ১৮৭১ সালে শহরের শাখার সদস্য সংখ্যা ছিল মাত্র ৮ জন এবং সবাই ছিল স্থানীয়।১১৫
প্রার্থনা, ধর্ম বিষয়ক ভাষণ ও অন্যান্য উদ্দেশ্যে ব্রাহ্ম সমাজের সদস্যদের সাপ্তাহিক সভা অনুুষ্ঠিত হতো। সমাজের কেন্দ্র কলকাতা থেকে একজন প্রতিনিধি এসে সাধারণ সভার সভাপতিত্ব করতেন। ব্রাহ্ম সমাজ ১২৭৭ বঙ্গাব্দে রাজশাহী সংবাদ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করতো। এর সম্পাদক ছিলেন জগচ্চন্দ্র সরকার । ১২৮২(?) বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।১

গবেষক মাহবুব সিদ্দিকীর শহর রাজশাহীর আদিপর্ব (২০১৩) গ্রন্থে কবি ফজর আলি খাঁন (১৮৯৫-১৯৮০) রাজশাহীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস শিরোনামের পা-ুলিপিতে উল্লেখ করেছেন,‘ ব্রাহ্ম সমাজের ব্রাহ্ম মন্দির হেতেমখাঁয় ও অপরটি বোয়ালিয়ায় স্থাপিত হয়। বর্তমানে মন্দির দুটি পাঠশালায় পরিণত হইয়াছে। রাজশাহী কলেজের প্রফেসর অপূর্বচন্দ্র দত্ত ঐ ব্রাহ্ম মন্দিরের পরিচালনা করতেন।”
৩০ জুলাই ২০১৬ তারিখে অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, পাঠশালাটি বোয়ালিয়া মডেল থানার পূর্ব-দক্ষিণ পাশের আলুপট্টি জামে মসজিদের পূর্বপাশে অবস্থিত। সেখানে বাস করছেন মুসলিম পরিবার। পরিবারটির প্রধানের নাম বাবলু । তাঁর বাবা সিদ্দিক তৈয়ব ১৯৬২ সালে বাড়িটি কিনে নেন। পূর্বতন মালিকের নাম ছিল মানস গোবিন্দ। তাঁর নামানুসারে পাঠশালার নাম ছিল মানস মন্দির। বাড়িটি বিক্রি হবার পর পাঠশালাটি স্থানান্তরিত হয় বর্তমান শাহ মখদুম কলেজের বিলুপ্ত ভবনে। যা তৎকালে ছিল পুঠিয়ার পাঁচআনী জমিদারের পরিত্যাক্ত বাড়ি। পরবর্তীতে তাঁর পাশে পূর্ব-দক্ষিণ কোনায় প্রতিষ্ঠানটি স্থানান্তরিত হয়। ৫ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানটি বহুতল ভবনে অবস্থিত। নাম ও প্রতিষ্ঠাকাল লিখা আছে ঘোড়ামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-১৯১৫। ৫ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষক লাউঞ্জে বসে কর্মরত শিক্ষিকাবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তাঁরা  শতবর্ষী এ ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অজ্ঞাত। তবে তাঁদের পরামর্শে এ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক  ইদ্রিস হোসেন মোল্লার সঙ্গে ফোনালাপে তথ্য পাওয়া গেল, ঘোড়ামারার বাড়িটির মালিক ১৯৬৫ সালে বিক্রি করে দিয়ে ভারত গমন করেন। তারপর পাঠশালাটি এখানে চলে আসে এবং এর নামকরণ হয় ঘোড়ামারা প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়ে নামকরণ হয় ঘোড়ামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।