ফিরে যেতে চান

সাহেব বাজার বড় মসজিদের সর্ব প্রাচীন অবকাঠামো নির্মাণের নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায় না।গবেষকদের ধারণায় বলা যায়, অস্টাদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে মসজিদটি নির্মাণ হয়েছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে শহর হিন্দু প্রধান হয়ে ওঠার কারণে মসজিদটিতে যত্নের অভাবে পড়ে। অযত্নের কারণে একটি পর্যায়ে এসে মসজিদটি নিশ্চিহ্ন হবার উপক্রম হয়েছিল। এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির প্রচেষ্টায় উনিশ শ দশ/বারো সালের দিকে এর অস্তিত্ব অম্লান ছিল। পরবর্তীতে কতিপয় সমাজ সচেতন ব্যক্তির প্রচেষ্টায় মসজিদটির পূর্ব ঐতিহ্য ফিরে আসে। একটি মাত্র মেহরাব থেকে পুনরায় নির্মাণ সম্ভব হয়েছিল।১

নবনির্মিত সাহেব বাজার বড় মসজিদ (উত্তর পাশ, ছবি- জানুয়ারি ২০১৭)

মসজিদটি মোঘল প্যাটার্নে তৈরি হলেও আধুনিক কারুকার্যের ফলে উত্তর বাংলার প্রথম আধুনিক ডিজাইনের মসজিদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। ১৯২৭ সালে মসজিদটির দ্বিতীয় বার ভিত্তি স্থাপন হয়েছিল এবং পূর্ণ আকৃতি পায় ১৯৫৪ সালে গিয়ে। নির্মাণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম কোরায়েশী ও জনৈক আমির আলী প্রমুখ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ জন্য তাঁদের প্রচুর ত্যাগ স্বীকার ও শ্রম দিতে হয়েছিল। তাঁরা ভারতের মধ্য প্রদেশের কোন এক মসজিদের অনুকরণে এর ডিজাইন তৈরি করেছিলেন। 
মসজিদটির প্রাচিনত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন জনশ্রুতির প্রচলন ছিল। অনেকে ১৯২১ সালের পূর্বে সেখানে একটি প্রাচীন তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের দাবি করতেন। কিন্তু সেখানে একটি মেহরাব ছাড়া অন্য কোন চিহ্ন অবশেষ ছিল না। এ মেহরাবকে কেউ কেউ কুঠিয়ালদের টাওয়ার (Tower), আবার কেউ কেউ একটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ বলে দাবি করতেন। গ্রবীণদের কেউ কেউ বলতেন, এখানে তিনটি বট গাছ ছিল। এ বটগাছের গোড়ায় পেরেক বিশিষ্ট দোলনায় কতিপয় সন্ন্যাসী উলঙ্গ অবস্থায়, কখনও কৌপিন পরে শুয়ে থাকতেন। ১৯২১ সালে সাধক সদাই ফকিরের শিষ্য মরহুম খোঁয়াজ আহমদ উক্ত মেহরাবকে কেন্দ্র করে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়, জেলা বোর্ড ও মিউনিসিপ্যালিটি কর্তৃক বাঁধাপ্রাপ্ত হন। এমন কি তিনি দু মাস জেলও খাটেন। অবশেষে ১৯২৩ সালে রাজশাহী সদর মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট সরেজমিন তদন্ত করে মসজিদ নির্মাণের রায় দেন। রাজশাহী কালেক্টরের মহাফেজখানায় (রেকর্ড রুম) রক্ষিত ১৮৪৯ সালের একটি সার্ভে নকশাতে এখানে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের নকশা আছে। এর দাগ নং ১৫১। ১৬শ গজের ৮ বিঘা জমির উপর এর চৌহদ্দী নির্দিষ্ট ছিল। হিন্দু  রঞ্জিকা পত্রিকায় এ মসজিদের উলেস্নখ আছে।১
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ ও গৃহীত প্রকল্পের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীতে এসে তৃতীয় বার নির্মিত হয়েছে সাহেব বাজার বড় মসজিদ। মসজিদটি পুনরায় নির্মাণের জন্য সড়ক ও জনপথকে মসজিদের সামনের রাস্তাটি ছেড়ে দিতে হয়। তবে রাস্তাটি সচল রেখেই মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদ কমপ্লেক্সে এমন প্যাটার্নে নির্মাণ হয়েছে যাতে রাস্তাও আছে, আবার তার ওপর ভবনও খাড়া হয়েছে। এ জন্য ৭.৯২ শতক জায়গা ছেড়ে নির্মাণ করা হয় ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোর।১৪৮ 
মো. মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র থাকাকালীন প্রায় ৩ কোটি টাকার গৃহীত প্রকল্পে ৪ তলা ভিত্তির উপর তিন তলা পযর্ন্ত নির্মিত হয়। বাইরের অংশসহ আরো কিছু কাজ অসমাপ্ত থাকে। ২০০৮ সালে এএইচএম খায়রম্নজ্জামান লিটন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর অবশিষ্ট কাজ শেষের জন্য নতুন একটি প্রকল্প গৃহীত হয়। ২০১১-১২ অর্থ বছর থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়। ১০ মে ২০১২ তারিখে ৪র্থ তলা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন মেয়র এএইচএম খায়রম্নজ্জামান লিটন।৬০২ এ প্রকল্প ব্যয় ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।৫৩৩ ১৫ দশমিক ৬০ শতক জায়গার উপর পুননির্মিত এ মসজিদে ৪টি ফ্লোরে একসঙ্গে ৩ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদ ভবনের উত্তর ও দক্ষিণে আছে দুটি সিঁড়ি। আছে ৪ টি ওজুখানা, ১টি গ্রন্থাগার, ইমাম ও মুয়াজ্জিনের থাকার ব্যবস্থা। মসজিদের ছাদে নির্মাণ করা হয়েছে ৪টি গম্বুজ ও ১টি মিনার। মসজিদের গ্রাউন্ড ফ্লোরের আয়তন ২ হাজার ৫০০ বর্গ ফুট। ২য়, ৩য় ও ৪র্থ প্রতি ফ্লোরের আয়তন ৪ হাজার ৫০০ বর্গফুট।৫৩৪ মসজিদের প্রধান দরজার দু’পাশে ও পশ্চিম পাশে বা পিছনে দোকান নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে।