ফিরে যেতে চান

মেহেদীপুর বা লক্ষ্মীপুর শাহী মসজিদ

মেহেদীপুর লক্ষ্মীপুর শাহী মসজিদ (ঝাউতলা) রাজশাহী মহানগরীর অন্যতম প্রাচীন মসজিদ। এর প্রথম বার নির্মাণের নির্ধারিত সময় আবিস্কার করা যায়নি। এক সময় মসজিদটির কেন্দ্রীয় প্রবেশপথের উপরে কৃষ্ণপ্রস্তরের একটি শিলালিপি ছিল। সম্প্রসারণের সময় শিলালিপিটি সরিয়ে ফেলা হয়। ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই দেখা যায়, শিলালিপিটি মসজিদের নিচতলার অভ্যন্তরে পশ্চিম অংশের উত্তর দেয়ালে উপরের দিকে স্থাপন করা হয়েছে। ফার্সি ভাষার শিলালিপির পাঠোদ্ধার করে তাঁর বাংলা অর্থ একটি শ্বেতপাথরে লিখে কালো পাথরের নিচেই স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে বাংলা অক্ষরে লিখা আছে- নির্মাণকালীন পাথর, সুমহান প্রভুকে আহবান কর যিনি সকল আশ্চর্যের দ্বার উন্মোচনকারী, দুর্লভ বস্তুর প্রাপ্তি ঘটান, বিপদ মসিবতে সর্বদা তুমি তাকে সাহায্যকারী পাবে, হে মুহম্মদ (সা.) আপনার নবুওতের দ্বারা দূরীভূত হবে, সকল চিন্তা ও পেরেশানী, হে মহান সত্বা, হে মহান সত্বা, হে মহান সত্বা তোমার শ্রেষ্ঠ দয়ায়। অর্থ বাণীর নিচে লিখা আছে- সম্ভবত প্রথম নির্মাণ ১৫৫২। 
তবে গবেষকরা মনে করেন, অষ্টাদশ শতকের প্রথমার্ধে বর্গীয় হাঙ্গামার কারণে আগত মোহাজের এখানে এসে বস্তি স্থাপন করলে স্থানটির নাম হয় মেহেদীপুর। তাঁরাই এ তিন গম্বুজ মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন।১ পরবর্তীতে হিন্দু প্রাধান্যের ফলে স্থানটির নাম মেহেদীপুর পরিবর্তন হয়ে লক্ষ্মীপুর হয়। পাকিস্তান আমলে আর একদল মোহাজের এসে এখানে বস্তি স্থাপন ও মসজিদটি সংস্কার করে। এর দৈর্ঘ্য ছিল সাড়ে সাইত্রিশ ফুট, প্রস্থ ১৫ ফুট।১ ১৮ ডিসেন্বর ২০০৩ তারিখে এ মসজিদের মোয়াজ্জিন কায়েম উদ্দিনের নিকট থেকে জানা যায়, ১৯৮৬-৮৭ সালে মসজিদটি আবারো সংস্কার হয় ও ১৯৯৮ সালে দ্বিতল করা হয়। পরে আরো সংস্কার হয়েছে।
২০১৬ সালের ২৩ জুলাই দেখা যায়, মসজিদের বারান্দার সামনে উঠানে একটি বাঁধানো কবর আছে। মসজিদটির প্রাচীন অবকাঠামোর সামনে আরো দুটি বাঁধানো কবর ছিল। মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য ১৯৮৭ সালের দিকে ভেঙে ফেলা হয়। ঐ কবরের জায়গা দুটি মসজিদ অভ্যন্তরে বর্তমান।৬৯১