ফিরে যেতে চান

 

হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) এর মাজার কমপ্লেক্সের প্রধান গেট(দক্ষিণমুখী)

পীর সাধকের পুণ্যভূমি রাজশাহী মহানগরী। যখন এ জনপদের মানুষ কুসংস্কার আর অপপ্রথার নিবিড় অন্ধকারের অতল গহ্বরে ডুবে থেকে নানান অপকর্মে লিপ্ত ছিল, দেব-দেবীর নামে নরবলি দেয়া হতো, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ছিল প্রকট; তখন থেকেই এ সকল পীর সাধকের আগমন ঘটতে থাকে সুদূর মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে।
তাঁরা অবোধ মানুষের মাঝে জ্ঞানের শিখা ছড়ানোর মহৎ উদ্দেশ্যে ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতিজ্ঞায় ও মনুষ্য সম্প্রদায়ের কল্যাণে জীবনের সব সময়টুকু ড়্গয় করে দেন। তাঁদের ডিঙ্গাতে হয় নানা  প্রতিকূলতার দেয়াল। এমনকি প্রাণ বিসর্জনও দিতে হয় কাউকে কাউকে। এদেরই একজন পদ্মা পাড়ে চিরশায়িত হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ)।
কাজী রওশন আলী সম্পাদিত বিভাগ গাইড রাজশাহী গ্রন্থে ও হযরত শাহ্ মখদুম  (রহ.) দরগাহ পাবলিক ওয়াক্ফ এস্টেট ট্রাস্টি বোর্ড প্রকাশিত ইতিহাস ও ঐতিহ্য গ্রন্থে অধ্যাপক মুহম্মদ আবু তালিব একখানি প্রাচীন বাংলা গ্রন্থের কলমী পুথি; হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) এর জীবনী তোয়ারিখ প্রবন্ধে হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) এর প্রকৃত নাম হযরত সৈয়দ আব্দুল কুদ্দুস উলেস্নখ করেছেন। তবে প্রবীণ লেখক অধ্যাপক এবনে গোলাম সামাদ তার রাজশাহীর ইতিবৃত্ত গ্রন্থে বলেন, এ পীরের (হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) আসল নাম কি ছিল, তা নিয়েও আছে বিতর্ক। তিনি সাধারণভাবে রাজশাহীবাসীর কাছে বাবা মখদুম নামেই পরিচিত। তিনি আরো উলেস্নখ করেন, মখদুম শব্দটি আরবী। শব্দগত অর্থে শিক্ষক, জ্ঞানী অথবা পরিচালক। তবে তিনি আধ্যাত্মিক সাধক, জ্ঞানী, কামিলিয়াত ছিলেন এ বিষয়ে কেউ দ্বিমত প্রকাশ করেননি। বিভিন্ন গ্রন্থে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায়, হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) ছিলেন বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) এর পৌত্র এবং আজালস্না শাহ্র ২য় পুত্র। তিনি ৬১৫ হিজরির ২ রজব বাগদাদে জন্ম গ্রহণ করেন। রূপোশ তার উপাধি। শব্দটি ফারসী। যার অর্থ মুখ আবরণকারী। তাঁর উপাধি থেকে একথা বোঝা যায় যে, সাধারণ মানব বৈশিষ্ট্য ছাড়াও তাঁর মধ্যে অসাধারণ ক্ষমতা লুকায়িত ছিল। তাঁর রাজশাহী আগমনের অনত্মরালে আছে এক বিসত্মৃত ইতিহাস।
১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দে মোগলীয় যোদ্ধা হালাকু খান বাগদাদ আক্রমণ করলে বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানীর বংশধরগণ বাগদাদ থেকে কাবুল, কান্দাহার ,পারস্য ও পাক-ভারতের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করেন। হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) এর পিতা আজালস্না শাহ্ দিলস্নীতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। তাঁর উন্নত চরিত্র ও গুণাবলীর প্রতি মুদ্ধ হয়ে দিলস্নীর সম্রাট ফিরোজ শাহ্ তাঁর কাছে বায়েত হন। পিতার সহচার্যে তিন পুত্র সৈয়দ মুনির উদ্দীন আহমেদ (রহ.), হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) ও সৈয়দ আহমদ তম্বরী (রহ.) আধ্যাত্মিক সাধনায় সমৃদ্ধ লাভ করেন। হালাকু খানের মৃত্যুর পর শাহ্ আজ্জালা বাগদাদে ফিরে গেলেও তাঁর পুত্রগণ ইসলামের বাণী প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে হেদায়েতের উদ্দেশ্যে অনুচরবর্গসহ বাংলায় আগমন করেন। তখন রাজশাহী নগরীর নাম ছিল মহাকাল গড়। এখানে মাহকাল দেও এর বিখ্যাত মন্দিরে নরবলি দেয়া হতো। মহাকাল গড়ে সে সময় বহু রকম দেও এর প্রতিমূর্তি ও মঠ-মন্দিরে পূর্ণ ছিল।
হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) রাজশাহী আগমনের পূর্বে হযরত তুরকান শাহ্ (রহ.) ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে ১২৭৯ খ্রিষ্টাব্দে মহাকাল গড়ে আগমন করেন।৭
ঐ সময়ে রাজ্য শাসন করতেন অংশুদেও চান্দভ-ী বর্মভোজ ও অংশুদেও খেজ্জুর চান্দখড়গ বর্মগুজ্জুভোজ। মুসলিম বিদ্বেষী এ রাজাদের দ্বারা তুরকান শাহ্র আগমনের পূর্বেও কতিপয় মুসলমান ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে মহাকাল গড়ে আগমন করেন এবং শহীদ হন।১৪২
এ সকল হত্যাকান্ডের প্রতিশোধ ও ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ  (রহ.)১২৮৯ খ্রিষ্টাব্দে৭ এ দেশ আগমন করে বাঘা নামক স্থানে উপস্থিত হন এবং ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি যে স্থানে কেলস্না নির্মাণ করেছিলেন তা মখদুম নগর নামে খ্যাত। বাঘা ছিল তৎকালীন সময়ে প্রসিদ্ধ নগরী। এ নগরীর সাথে সুলতানগণের প্রশাসনিক যোগসূত্র ছিল। গৌড়ের সুলতান হোসেন শাহ্র পুত্র নসরৎ শাহ্ ৯৩০ হিজরিতে বাঘা শরীফ পরিদর্শন করেন এবং একটি মসজিদ ও একটি পুকুর খননের নির্দেশ দেন। দিলস্নীর বাদশাহ শাহ্‌জাহান মখদুম নগরীতে অবসিত্মত মখদুম দরগাহ সংরক্ষণের জন্যে ৪২টি মৌজা দান করেছিলেন।৩
হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) কর্তৃক মহাকালগড় দখল সম্পর্কে বেশ লোমহর্ষক ও রহস্যময় ঘটনা শোনা যায়। কথিত আছে, মহাকাল গড়ের এক নাপিতের ৩টি পুত্র সনত্মান ছিল। তার মধ্যে দুটি নরবলি হওয়ার পর শেষ পুত্রটিও নরবলি দেবার সিদ্ধান্ত হয়। এ কথা জানার পর নাপিত দম্পতি দুঃখে শোকে ব্যাকুল হয়ে পড়েন এবং নিরুপায় হয়ে গোপনে মখদুম নগরে উপস্থিত হন। হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) বিস্তর ঘটনা শোনার পর বলন, যাও তোমার সনত্মানসহ নদীর ধারে অপেক্ষা কর আমার সাক্ষাৎ পাবে। 
এ নির্দেশ পাওয়ার পর বেশ কদিন নাপিত দম্পতি নদীর তীরে অপেক্ষা করেও হযরত শাহ্ মখদুমের সাক্ষাৎ না পেয়ে বলি হবার পূর্ব রাতে ডুবে মরার ইচ্ছায় পদ্মার পানিতে নামতেই হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) কুমিরে চড়ে আবির্ভূত হন এবং নাপিত দম্পতির সাথে কিছু কথা বলেন এবং পুত্র বলি না হওয়ার ও দেওরাজ ধ্বংস হওয়ার আশ্বাস দিয়ে কুমিরে চড়েই অন্তর্ধান হন। 
হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) এর জীবনী তোয়ারিখে উল্লেখ আছে, মহাকালগড়ের মন্দির প্রাঙ্গণে প্রাচীর বেষ্টিত জাদুকু- কূপ ছিল। দেও রাজাদ্বয় তা দ্বারা জাদুবিদ্যা পরিচালনা করে অসম্ভব অলৌকিক কার্য সফল করে নিজেকে ঈশ্বর হিসেবে দাবি করতো। মখদুম সাহেব ঐ নাপিতের কাছে সন্ধান নিয়ে যাবার কালে ঐ স্থান পরিদর্শন কেও ঐ সব জাদুগুণ নষ্ট করে যান। পরে ঐ জাদু স্থান উৎঘাটন করা হয়। তার তলদেশ হতে বিভিন্ন দেও পুতুল, নানা প্রকার জিনিস, অস্থী এবং ১টি জলীয় বৃক্ষ বের হয়েছিল। বর্তমানে ঐ স্থান পুকুর রূপে রয়েছে।  
যাহোক রাত অবসানের পর সকালে নাপিত পুত্রকে বলি দেবার জন্য দেও মন্দিরে আনা হয়। কিন্তু খাঁড়ার ঘাতে নাপিত পুত্র বলি হওয়া তো দূরের কথা বিন্দুমাত্র কষ্টও অনুভব করেনি। বরং মহাকাল প্রতিমা পড়ে যাবার মত হেলতে শুরম্ন করে। দেওরাজের নিকট এ সংবাদ পৌঁছালে সে ছুটে এসে পরিস্থিতি পর্যবেড়্গণ করে ও এ নরে দোষ আছে বলে নাপিত পুত্রকে ছেড়ে দেয়। এর কয়েক দিন পর হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) দেওরাজ্যের বিরুদ্ধে মহাকালগড় জয়ের উদ্দেশ্যে মওলাং ফকির, দরবেশ, গাজি দল পাঠিয়েছিলেন। তিনবার যুদ্ধ করার পর হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) মহাকালগড়ে নরবলি প্রথার পরিবর্তে ইসলামের আদর্শ ও শান্তিস্থাপন করেছিলেন।  প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল বর্তমান ঘোড়ামারায়। এ যুদ্ধে দেও ধর্মাবলসম্বীসহ অনেক ফকিরগণও মারা পড়েছিলেন এবং তাঁদের ঘোড়াও শহীদ হয়েছিল। ঘোড়া শহীদের কারণেই স্থানটির নামকরণ হয় ঘোড়ামারা। দ্বিতীয় যুদ্ধে মখদুম সাহেব মওলাং ফকির দরবেশকে গাজী প্রেরণ করেছিলেন এবং তিনি স্বয়ং বহু মওলাং ফকির সঙ্গে করে মহাকালগড়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। যুদ্ধে বহু দৈত্য ধর্মাবলম্বী ধরাশায়ী হয়েছিল। অনেক মঠ-মন্দির ভেঙ্গে চুরমার ও লুন্ঠিত হয়েছিল। দৈত্যরাজ স্বপরিজনে পালিয়েছিল এবং হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) বিজয়ী হয়ে মখদুম নগরে প্রত্যাগমন করেছিলেন। এরপর বনবাসী দেওরাজের অনুসারীরা পুনরায় সমবেত হয়ে তীর্থস্থান উদ্ধারের জন্য মহাকালগড়ে উপস্থিত হয়েছিল। এ সংবাদ পেয়ে হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) পুনরায় মহাকালগড়ে আগমন করে সমবেত প্রতিপক্ষ দলকে পাক পায়ের মাত্র ১পাট খড়ম ছুড়ে ধরাশায়ী করেছিলেন। অবশেষে পরিজনসহ দেওরাজ তাঁর পায়ে পড়ে আত্মসমর্পণ করেছিল। হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) মহাকাল দেও মন্দিরেই আসত্মানা স্থাপন করছিলেন। পানি পথে ছিল তাঁর কুমির বাহন, শুন্য পথের বাহন বসার পিঁড়ি, শুষ্ক পথের বাহন সিংহ ও বাঘ। তাঁর অলৌকিক ঘটনা ও বোজর্গী কেরামত দেখে অনেকে ইমান এনে মুসলমান হয়েছিলেন। অনেকে সভ্য হিন্দু সমাজে নীত হয়েছিলেন। অনেকে তাঁকে বড় জাদুকর বলে প্রচার করেছিলেন।
বিভিন্ন সূত্র অনুসারে, হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) বাংলায় দেও জাতিকে ইসলামের সুমহান আদর্শে দিক্ষীত করার উদ্দেশ্যে ১২৮৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজশাহী অঞ্চলে আগমন করেন এবং যুদ্ধজয়ের পর ১৩২৬ খ্রিষ্টাব্দে রাজশাহী মহানগরী বা সেকালের মহাকালগড়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এখানেই তিনি ১৩৩১ খ্রিষ্টাব্দে পরলোক গমন করেন। তাঁর মৃত্যুর পরও দরগা শরীফকে কেন্দ্র করে ইসলাম প্রচারের কাজ চলতে থাকে। তাঁর শিষ্য ও অনুসারীগণের মধ্যে কয়েক জনের নাম পাওয়া যায়। তাঁরা হযরত আব্বাস শাহ্ (রহ.), (মখদুম নগরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তাঁর মাজার বিলীন হয়ে গেছে), শাহ্ করম আলী (রহ.) (পুঠিয়া, বিড়ালদহ), হযরত দিলাল বোখারী (রহ.) (আলাইপুর, বাঘা), হযরত শাহ্ সুলতান (রহ.) (সুলতানগঞ্জ, গোদাগাড়ী)।
৯ আগস্ট ১৯৯৫ তারিখে হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) দরগাহ পাবলিক ওয়াক্ফ এস্টেট প্রকাশিত ‘ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ গ্রন্থের তৎকালীন দরগা এস্টেটের তত্ত্বাবধায়ক আলহাজ মনসুর উদ্দিন আহম্মদের প্রবন্ধ “হযরত শাহ্ মখদুম (রহঃ) এর জীবন কাহিনীর ঐতিহাসিকতা” থেকে তথ্য পাওয়া যায় ১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দের বাংলা পা-ুলিপিটি ছিল ১০৭৬ হিজরি সনে রচিত ফারসী পা-ুলিপির অনুবাদ। গ্রন্থটির প্রস্তবনায় সদস্য সচিব সা.ক.ম আনিছুর রহমান এ ফারসী পা-ুলিপির রচনা কাল উল্লেখ করেছেন ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দ।৭৪৪ ফারসী পা-ুলিপি ছিল হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) এর প্রথম লিখিত জীবন বৃত্তানত্ম।৭৪৩ এ পা-ুলিপি প্রণয়নকারীর নাম উলেস্নখ ছিল না। তবে সে সময়ের ওয়ারিশ ও খাদেমগণের স্বাক্ষর ও মোহর যুক্ত করে তা দিলস্নীর বাদশা আওরঙ্গজেবের সেনা বাহিনীর নিকট পেশ করা হয়েছিল। এ পা-ুলিপিটি তৈরির উদ্দেশ্য সম্পর্কে লিখা হয়েছে, দিলস্নীর সম্রাট আওরঙ্গজেবের সেনাবহর পদ্মা নদী দিয়ে জাহাজে যাবার সময় মাযার জিয়ারত ও রশদ সংগ্রহের জন্য এখানে নোঙর করে। সেনাবহরের সেনাপতি মাযার জিয়ারত ও দান-দড়্গিণা প্রদান করেন। সম্রাটের নিকট হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) তথ্য পেশ করার জন্য একটি বিবরণী চায়লে এ ফারসী পা-ুলিপিটি প্রস্তুত করে দেয়া হয়েছিল। তার একটি কপি ছিল এ পা-ুলিপি। যা জরাজীর্ণ হয়ে যাওয়ার কারণে ১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর বাংলা অনুবাদ করা হয়েছিল। এখানেও স্পষ্টভাবে অনুবাদকের নাম উলেস্নখ নেই। মৌলবী সৈয়দ এব্রাহীম হোসেন সেরেসত্মাদার, মৌলবী সৈয়দ মোরদার হোসেন উকিল, সৈয়দ মৌলবী মসিয়তুল্যা সদরে আলা ও মৌলবী আলী আহম্মদ খাঁ ডেপুটি কালেক্টরের যত্নে চেষ্টায় অনুবাদ করা হয়েছিল। যার আকার ছিল ১০ইঞ্চি ও ১১ ইঞ্চি। পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল ২৯।৭৪৬ ফারসী প-িুলিপির ১৮৩৮ সালের বাংলা অনুবাদটিকে বহু ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুলস্নাহ বাংলার প্রাচীনতম গদ্য রচনা হিসেবে গণ্য করেন। যাহোক হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) এর  মৃত্যুকাল ১৩৩১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ফারসী পা-ুলিপির রচনাকাল ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দের ব্যবধান ৩৩৫ বছর। তাঁর রাজশাহী অঞ্চলে আগমনের খ্রিষ্টাব্দ ১২৮৯ ও মহাকাল বিজয়ের খ্রিষ্টাব্দ ১৩২৬ উলেস্নখ করা হয়েছে। নিশ্চয়ই পা-ুলিপিকার ঘটনা কালের মানুষ নন। হয়তো তিনি লোককথাকেই পা-ুলিপিতে এনেছিলেন। কালের পরিক্রমায় লোককথায় অনেক ভুল তথ্য প্রবেশ করে যায়।
এ গ্রন্থে হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) এর আগমনের প্রামাণিক তথ্য হিসেবে নোয়াখালির হযরত সৈয়দ জকিম উদ্দীন হোসেনী (রহ.) এর শামপুর মাজার শরীফে বিদ্যমান একটি তাম্রলিপির উলেস্নখ আছে। ফারসী ভাষায় এ তাম্রলিপির লিখনকাল ৯৯০ হিজরি অনুসারে ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দ। এর আকার ছিল ১৪ ইঞ্চি ও ৩২ ইঞ্চি। এ তাম্রলিপির বাংলা অনুবাদ-
‘বিসমিলস্নাহির রাহমানির রাহিম। পীরানপীর দসত্মগীর বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) এর জনৈক সনত্মান হযরত আজালস্না শাহ (রহ.)। তাঁর তিন পুত্র হযরত সৈয়দ আহম্মদ তন্নরী ওরফে মিরান শাহ্ (রহ.), হযরত আব্দুল কুদ্দুস শাহ্ মখদুম (রহ.) ও হযরত সৈয়দ মুনির আহম্মদ শাহ্ (রহ.)।
হযরত মিরান শাহ্ (রহ.), হযরত সৈয়দ আব্দুল কুদ্দুস (রহ.) বাগদাদ শরীফ থেকে আগমন করেন ৬৮৫ হিজরি সনে। হযরত মিরান শাহ্ (রহ.) তাঁর অনুচরসহ কাঞ্চনপুরে আসত্মানা করেন। হযরত সৈয়দ আব্দুল কুদ্দুস (রহ.) তাঁর সঙ্গীসহ শামপুর এলাকায় আসত্মানা করেন। দুই বৎসর অধিক কাল শামপুর এলাকার বিভিন্ন অঞ্চলে তিনি ইসলাম প্রচার করেন এবং হযরত সৈয়দ কুদ্দুস শাহ্ (রহ.) তাঁর মুরীদ হযরত সৈয়দ জাকিম উদ্দিন হোসেনী (রহ.) কে শামের মোকামের খলিফা নিযুক্ত করে হঠাৎ ৪ জন কামেল দরবেশসহ হযরত কুদ্দুস শাহ্ (রহ.) কুমীর বাহনে নদীবক্ষে গৌড় রাজ্য অভিমুখে যাত্রা করেন। ৪ জন কামেল দরবেশ সঙ্গী ছিলেন হযরত দিলাল বোখারী (র), হযরত সৈয়দ আব্বাস (রহ.), হযরত সুলতান শাহ্ (রহ.) এবং হযরত করম আলী শাহ্ (রহ.)।
পনেরো শতাব্দীর শেষভাগে হযরত আব্দুল কুদ্দুস শাহ (রহ.) এর সহদোর ভ্রাতা হযরত মুনির আহম্মদ শাহ (রহ.) এর বংশধর হযরত শাহ্ নূর (রহ.) বোয়ালিয়ার দরগাহ্ পাড়া অঞ্চলে তাঁর খলিফা পদে নিযুক্ত আছেন বলে জানা যায়। আরো জানা যায়, হযরত কুদ্দুস শাহ্ (রহ.) বোয়ালিয়া আসত্মানায় ৭৩১ হিজরি সনের ২৭ শে রজব তারিখে ইন্তেকাল করেন।
এই মহান দরবেশের স্মৃতি রক্ষার্থে শামপুর দায়রা শরীফে তাঁর বিবরণী রক্ষা করা গেল হিজরি ৯৯০ সন।
স্বাক্ষরঃ সৈয়দ নঈমুদ্দিন হোসেনী-মোতাওয়ালস্নী, শামপুর দায়রা শরীফ, জেলা নোয়াখালী। ১০/৮/১৮৯৮ খৃঃ’
১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দের তাম্রলিপিটি মোতাওয়ালস্নী সৈয়দ নঈমুদ্দিন হোসেনী প্রদর্শনের জন্য প্রতিস্থাপন করেন বলে মনে হয়। হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) এর মৃত্যু ১৩৩১ খ্রিষ্টাব্দের সঙ্গে তাম্রলিপি লিখনেরও ব্যবধান ২৫১ বছর। মৃত্যু ও রচনার দীর্ঘ দিনের ব্যবধান তথ্য বিভ্রাটে সহায়তা করবে সন্দেহ নাই ।
উপরোক্ত প্রবন্ধের তথ্যানুসারে হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) এর মাজার শরিফের প্রবেশ দরজার বাহির চৌকাঠের মাথার উপর ৪ লাইনের ফারসী ভাষার শিলালিপি থেকে তাঁর অবস্থানের প্রমাণ পাওয়া যায়। শিলালিপির আয়তন 10''´36''| কোন কোন গ্রন্থে 11''´36'' উলেস্নখ করা হয়েছে। কালো ব্যাসাল্ট পাথরে উৎকীর্ণ ও নাসতালিক বর্ণমালার স্থপতি পারস্য দেশীয় সাভাবী বংশোদ্ভূত দ্বাদশ শিয়া মতাবলম্বী মির্জা আলী কুলি বেগ (রহ.)। তিনি মাজার সংস্কার ও শিলালিপিটি স্থাপন করেন।
স্থাপন কাল ১০৪৫ হিজরি বা ১৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দ। পাকিসত্মান সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তৎকালীন পরিচালক শামসুদ্দীন আহম্মদ ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে এর প্রথম পাঠোদ্ধার করেন। যা রাজশাহী বরেন্দ্র গবেষণা পত্রিকায় ‘বরেন্দ্র প্রাচীন মনুমেন্ট’ শীর্ষক প্রবন্ধে প্রকাশিত হয়। এর বাংলা অনুবাদ-
‘সৈয়দ সনদধারী, মরহুম মগফুর খুদা- সন্নিধান প্রানত্ম, মহা সম্ভ্রানত্ম বংশজ অসীম ড়্গমতাশালী মহোত্তম আদর্শের প্রতীক, শাহ্ রূপোশের কবরের উপর ম্বজ নির্মাণের সৌভাগ্যপ্রাপ্ত (আলী কুলি বেগ); মহাসম্মানীত সম্রাট ইউসুফ সদৃশ প্রভু, মহাসম্মানীত শাহানশাহদের প্রিয়তম সঙ্গী, সুলতানদের ভূষণ, সৈয়দুর মুরসালীন রসুলুলস্নাহের (দ.) বংশধর, সুলতানের পুত্র সুলতান, সম্রাটের পুত্র সম্রাট, ইরানের অধিপতি দ্বাদশ ইমামের অনুসারী; শ্রেষ্ঠমানব হযরত পয়গম্বর (দঃ) ও আমীরম্নল মুমিনীন হযরত আলী (রা.) আঙ্গিনার কুত্তাসদৃশ প্রহরী, বংশোদ্ভূত শাহ্ আব্বাস হুসাইনী (র.) এর ভৃত্য আলী কুলি বেগ (রহ.) কর্তৃক এই ¸ম্বR ১০৪৫ হিজরি সনে নির্মিত হলো। অস্তিত্বের চিরস্থায়ীত্ব নেই জেনেও স্মৃতি রক্ষার্থে এই ¸¤^R নির্মাণ করা হলো।’৭৪৩ 
এ শিলালিপিটি হযরত শাহ্ মখদুম (রহ.) এর আগমন ও তাঁর মাজার শরীফের অবস্থান নিশ্চিত করলেও তাঁর আগমনের সময় ও প্রকৃত নাম সুনির্দিষ্ট করে না।
মো. আবুল কাসেম রচিত হযরত শাহ মখদুম রূপোশ (রহ.): যুগ মানস গ্রন্থে  হযরত শাহ্ মখদুম (রহ.) এর দিলস্নী থেকে প্রথম বাংলায় আগমন গৌড়ের কথা উলেস্নখ আছে। এ গ্রন্থের তথ্যানুসারে তিনি দিলস্নী হতে গিয়াসউদ্দিন বলবনের সাথে বাংলায় আগমন করে গৌড়ে অবস্থান নেন। গৌড়ের সুলতান বোখরা খান ও তাঁর পুত্র সুলতান রম্নকনুদ্দিন কায়কাউসহ শামসুদ্দির ফিরোজ শাহের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেখান থেকে তিন ৬৮৫ হিজরি/১২৮৭ খ্রিষ্টাব্দে নোয়াখালী গমন করেন এবং ৬৮৫-৬৮৭ হিজরি/১২৮৭-১২৮৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যনত্ম দুই বছর অবস্থান করেন। সেখান থেকে নৌযানে ১২৮৯ খ্রিষ্টাব্দে বাঘায় উপস্থিত হন।৭৪৬ ৬৮৭ হিজরি/১২৮৯ খ্রিষ্টাব্দ হতে ৭৩১ হিজরি/১৩৩১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যনত্ম তিনি ৪৪ বছর মহাকালগড়ে পদচারণা করেন।৭৪৬  ৭৩১ হিজরির ২৭ রজব (১৩৩১ খ্রিষ্টাব্দ) মতানত্মরে ১৩২৪ খ্রিষ্টাব্দে আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টায় তিনি ইহকাল ত্যাগ করেন।৭৪৬  এ গ্রন্থের তথ্যানুসারে তিনি ১২৮৯ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমান রাজশাহী মহানগরী আগমন করেছিলেন এবং তাঁর মৃত্যু তারিখ সম্পর্কে মতভেদ বিদ্যমান। প্রাচীন ফারসী পা-ুলিপির বিবরণ অনুসারে তিনি ১৩২৬ খ্রিষ্টাব্দে মহাকালগড় বিজয় লাভ করলে ১৩২৪ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুর প্রশ্নই আসে না। এ সব বিভ্রানিত্ম মুক্তির জন্য আরো অনুসন্ধান প্রয়োজন। তাঁকে ‘মুজাররাদ’ বলা হয়। যার অর্থ ‘অবিবাহিত’।৭৪৬ এ মহামানব মানব কল্যাণ, জ্ঞান সাধনা ও খোদার নৈকট্য লাভে নিমগ্ন ও অকৃতদার ছিলেন।
 
হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) বংশানুক্রম৭৪৬

আমিরম্নল মুমেনীন সায়্যিদুনা হযরত আলী (রা.)

আমিরম্নল মুমেনীন হযরত ইমাম হাসান (রা.)

আবদুলস্নাহ আজ মাহাজ (র.)

সায়্যিদ মুসা আল জওন (র.)

সায়্যিদ আবদুলস্নাহ সানী (র.)

সায়্যিদ দাউদ (র.)

সায়্যিদ মুহাম্মদ (র.)

সায়্যিদ ইয়াহিয়া আল যাহেদ (র.)

সায়্যিদ আবি আব্দুলস্নাহ (র.)

সায়্যিদ আবু সালেহ মুসা জঙ্গী (র.)

সায়্যিদ আবদুল কাদের জিলানী (র.)

সায়্যিদ আযালস্নাহ শাহ্ (র.)

সায়্যিদ আবদুল কুদ্দুস শাহ্ মখদুম রূপোশ (র.)

হযরত শাহ মখদুম রূপোশ (রহ.) এর সমাধি: সমাধির অভ্যনত্মরীণ পরিমাপ ৫.২৭ মি. (১র্৭-৩.র্৫ ©)। কড়্গে অবস্থিত মূল সমাধির দৈর্ঘ্য ২.৯১ মি. (র্৯-র্৭ ©) ও প্রস্থ ১.৮৩ মি. (র্৬-র্৭ ©)। সমাধি কড়্গের ভিতরে কবর ফলকের পশ্চিম পাশে শাহ মখদুম (রহ.) এর ভাতিজা হযরত শাহ নূর (রহ.) এর কবর আছে। (বিস্তারিত প্রত্ন ইমারত অধ্যায়)
মসজিদের সামনে দরগার তোরণটি নির্মিত হয় ১৩০৫ বঙ্গাব্দে। তোরণটিতে আয়াতে কোরআন খোদিত প্রাচীন লিপি আছে।১
দরগার হুজরাখানা ও মসজিদ: হুজরাখানাটি এ শহরের সর্বপ্রাচীন ইমারত ও সর্বপ্রথম মসজিদ বলে অনুমিত হয়। বর্তমানে প্রাচীর বেষ্টিত সমাধি প্রাঙ্গণের পশ্চিম পাশে এটি অবস্থিত। ইট ও চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত এক গম্বুজ বিশিষ্ট এ ইমারতটির পশ্চিম দেয়ালে ক্ষুদ্র ও স্বল্প গভীরতা সংবলিত একটি মিহরাব এবং পূর্ব দেয়ালে একটি ছোট্ট প্রবেশপথ বিদ্যমান। প্রায় বর্গাকার কক্ষটির ভিতরের আয়তন উত্তর-দক্ষিণে 8-10Ges পূর্ব-পশ্চিমে ২.৭৫ মি. (9-0)| প্রবেশপথের উচ্চতা ১.৫৫মি. (5-1) ও প্রস্থে  ৯২ মি. (র্৩-র্০ ©)। সমগ্র ইমারতটি একটি বিশাল গম্বুজে আচ্ছাদিত এবং চার কোণায় চারটি সরম্ন চূড়া সংযুক্ত। উচ্চতা ৩.৪৮ মি. (১র্১-র্৫ ©) এবং বহির্ভাগে গম্বুজটির ব্যাস ৪.৭৮ মি. (১র্৫-র্৯ ©)। কড়্গটির ভিতরে দুই সারিতে ৮/১০ জন মুসল্লি নামাজ পড়তে পারে। একমাত্র প্রবেশপথটি ব্যতীত আর কোন দরজা-জানালা নেই। কাজী মোহাম্মদ মিছের এটাকে হযরত শাহ মখদুম রূপোশ (রহ.) এর হুজুরাখানা বা সাধন পিঠ হিসেবে অনুমান করেছেন।১ বর্তমানে এ অবকাঠামোটিকে সংস্কার করা হয়েছে। (বিস্তারিত প্রত্ন ইমারত অধ্যায়)
তিন গম্বুজ মসজিদ: প্রাচীন তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি ভেঙে ফেলে তার জায়গায় গম্বুজবিহীন   দ্বিতল বিশিষ্ট বিশাল আকারের মসজিদ নির্মিত হয়েছে। জনশ্রম্নতি আছে, মসজিদটি নবাবী আমলে নির্মাণ হয়েছিল। জনৈক মুসলিম সওদাগর নদী পথে বিপদগ্রসত্ম হয়ে হযরত শাহ্ মখদুমকে স্মরণ করেন এবং বিপদমুক্ত হওয়ার কারণে মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। তবে এ জনশ্রম্নতি ঐতিহাসিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। সত্য উদ্ঘাটনের জন্য ব্যাপক গবেষণা প্রয়োজন। প্রাচীন তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির আয়তন ছিল বহির্ভাগে 12.184.88 মি. (৪র্০-র্০ ©16©-0© ©) এবং অভ্যনত্মরে 10.363.30 মি. (৩র্৪-৫.র্৫ ©10©-10© ©)।১ (বিস্তারিত প্রত্ন ইমারত অধ্যায়)
শিলালিপি ও আলীকুলী বেগ (রহ.): হযরত শাহ মখদুম রূপোশ (রহ.) এর সমাধি সৌধের প্রবেশ দ্বারের উপরিভাগে হযরত আলীকুলী বেগ (রহ.) কর্তৃক রচিত 1036 চার লাইন বিশিষ্ট ফারসী অড়্গরে লিখিত একটি শিলালিপি বিদ্যমান। শিলালিপিতে ১০৪৫ হিজরিতে শাহ দরবেশের কবরের উপর গম্বুজ নির্মাণের কথা উল্লেখ আছে। হিসেব অনুসােও ১০৪৫ হিজরি ১৬৩৪ বা ১৬৩৫ খিস্টাব্দ হয়। শিলালিপির সারমর্ম অনুযায়ী হযরত আলীকুলী বেগ (রহ.) দ্বাদশ মতাবলম্বী গোঁড়া শিয়া মুসলমান ছিলেন। তিনি পারস্যের (ইরানের) শাহ্ আব্বাসের একজন ভক্ত ছিলেন। হয়তো নবাগত হিসেবে স্থানীয় মুসলমানদের সহানুভূতি লাভ বা অন্য উদ্দেশ্যে হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) এর সমাধি সৌধ নির্মাণ করেছিলেন। তিনি হয়তো মখদুম সাহেবের প্রকৃত পরিচয়ও জানতেন না। তাই শিলালিপিতে হযরত শাহ মখদুম রূপোশ (রহ.)কে  শাহ্ দরবেশ সম্বোধন করেছেন। অথচ ফারসী তায়েদাদে হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ নামের উল্লেখ আছে এবং আজও তিনি শাহ্ মখদুম, মখদুম সাহেবের দরগা, হিন্দুদের নিকট মখদুম বাবা ইত্যাদি নামে অভিহিত।১