ফিরে যেতে চান

রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল

রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং ভিত্তিপ্রস্তরের শিলালিপি (ছবি-২০১১)

রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ১৯৬৬ সালে প্রসিদ্ধ রাজনীতিবিদ ও সমাজ সেবক মাদার বখশের উদ্যোগে স্থাপন করা হয়। কলেজটি স্থাপন হয় মিয়াপাড়ায় পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে। বাড়িটি রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগারের দক্ষিণ প্রাচীর সংলগ্ন। এটা ছিল এক সময় উপমহাদেশের বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋতিক ঘটকের নানা বাড়ি। তাঁর নানা বাড়িটি ঋতিক ঘটকের পিতাকে দান করেছিলেন বলে শোনা যায়। দেশ বিভাগের পূর্বে ও রাজশাহী কলেজে পড়াকালীন ঋতিক ঘটক এ বাড়িতেই থাকতেন। রাজশাহী জেলায় এটা ব্যতীত আর হোমিওপ্যাথিক কলেজ নাই।হোমিও ডাক্তার আবুবকর, হোমিও ডাক্তার কমর উদ্দীন এ কলেজের প্রথম দিকের শিক্ষক ছিলেন। মুষ্টিমেয় কিছু শিক্ষার্থী নিয়ে কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ১৯৭৩ সালে কলেজটি বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড, ঢাকার অনুমোদন প্রাপ্ত হয়। এ বছরেই শিক্ষার্থীরা প্রথম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায় ও ডিএইচএমএস (DHMS- Diploma in Homeopathy Medicine and Surgery) সনদ অর্জন করে। এ কলেজের শিক্ষকরা আজও এমপিওভুক্ত হননি। তবে কলেজটি উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান আছে। ১৯৮৪ সালে তাঁদের উদ্যোগেই টিনশেডের সংস্কার করা হয়। তাঁদের অনুদানেই ২০০৬ সালে দোতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০০৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. মিজানুর রহমান মিনু এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ঋতিক ঘটকের স্মৃতিকে অমর রাখার উদ্দেশ্যে এ কলেজের মিলনায়তনের নাম ঋতিক ঘটক মিলনায়তন রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০১২ সালের ৯ নভেম্বর কথা শিল্পী হাসান আজিজুল হক এর নাম ফলকও উন্মোচক করেন। ফলকে কলেজ স্থাপনের সাল ১৯৬৭ আছে। প্রকৃতপক্ষে হবে ১৯৬৬। ১২ মার্চ ২০১৫ দেখা যায় নামফলক স্থাপন হলেও অডিটোরিয়াম নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি।
বর্তমানে কলেজের শিক্ষার্থী সংখ্যা ৬৫০ জন। একজন অধ্যক্ষ ও ১জন উপাধ্যক্ষসহ শিক্ষক সংখ্যা ১৯ জন। সর্বনিম্ন এসএস সি পাসের পর এখানে ভর্তি হওয়া যায়। কোর্স ৪ বছরের। ১৯৮৬ সাল থেকে শেষের ৬ মাসকে ইন্টার্নশিপের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এখানে পাঁচ টাকার ফি-এ রোগীদের আউটডোর চিকিৎসা দেয়া হয়। কলেজ কর্ম দিবসে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টি পর্যন্ত রোগীরা এ সেবা পান।৪৫৪