ফিরে যেতে চান

রাজশাহী ক্যান্সার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার ট্রাস্ট

রাজশাহী ক্যান্সার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার ট্রাস্ট যাত্রা শুরু করেছিল রাজশাহী ক্যান্সার শেল্টার নামে। ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাসের উদ্যোগে ১৯৯২ সালে ক্যান্সার শেল্টারের সূচনা হয়। রাজশাহী ক্যান্সার শেল্টার পরিচালনার জন্য ডা. জুবাইদাকে সভাপতি ও ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাসকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। মহানগরীর সিপাইপাড়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ক্যান্সার শেল্টার অনানুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। ১৯৯৭ সালেই ক্যান্সার শেল্টারের আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয়।
প্রথম দিকে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত ক্যান্সার রোগীরা স্বল্প মূল্যে ক্যান্সার শেল্টারে থাকার সুযোগ পেয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করতো এবং এখান থেকে কেমওথেরাপি দেয়া হতো। 
রাজশাহী ক্যান্সার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার বর্তমানে মহানগরীর পূর্ব উপকন্ঠে শ্যামপুরের মাসকাটাদিঘিতে নিজস্ব ভবনে অবস্থিত। ৬ তলা ভিত্তি বিশিষ্ট এ ভবনের নিচতলা সম্পন্ন করে ২০০১ সালের ৯ নভেম্বর উদ্বোধন করা হয়।৭১  জনৈক জনহিতকর ব্যক্তি এ ভবন নির্মাণের জন্য ১ বিঘা (০.৩৩০৬ একর) জমি দান করেন। সমাজ সেবিকা ও ক্যান্সার শেল্টার নির্বাহী কমিটির সভাপতি ডা. জুবাইদা খাতুন ২০ হাজার মার্কিন ডলার, মহানগরীর বাসিন্দা খায়রুন্নেসা চৌধুরী ৩ হাজার মার্কিন ডলার এ ভবন নির্মাণের জন্য অনুদান প্রদান করেন। খায়রুন্নেসা চৌধুরীর ৩৮ বছরের কন্যা চিকিৎসক ক্যান্সারে প্রাণ হারান। এছাড়াও The Osaka Rotary Yodogawa Rotary Club- Japan অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য ১৮ হাজার মার্কিন ডলার, ইলেক্ট্রো ভিডিও এন্ডোসকপি ক্রয়ের জন্য ২০ হাজার মার্কিন ডলার, ভবন নির্মাণের জন্য ৩ হাজার মার্কিন ডলার, Oyodo Rotary Club- Osaka- Japan একটি অ্যাম্বুলেন্স ক্রয়ের জন্য ২৭ হাজার ৩৬৮ মার্কিন ডলার, জাপানের ক্যাথলিক চার্চের Rev. Mafred Fredrick  বিল্ডিং নির্মাণের জন্য ৯১ হাজার ৩৪৮ টাকা, জার্মানীর Cologne University এর প্রফেসর ড. এ. জাকারিয়া ১ লাখ ২৯ হাজার ১৩৫ টাকা, নরওয়ের Kristiansand Rajshahi City Friendship Committee ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮৭ টাকা, রাজশাহীর মিসেস তনুশ্রী ভদ্র (Mrs. Tanusree Bhadra) ৫০ হাজার টাকা, অস্ট্রেলিয়ার ড. এম শামিম খান ৫শ মার্কিন ডলার, রাজশাহীর এআইএম আজফার ১০ হাজার টাকা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোসা. গুল হোসনে বানু ১০ হাজার টাকা দান করেন। ২০০৩ সালের ২৫ জুলাই রাজশাহীর পদ্মা রোটারী ক্লাব ক্যান্সার শেলটারকে মেমোগ্রাম মেশিন প্রদান করেছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এ হাসপাতালের কার্যক্রমে সহযোগিতা করে আসছে। 
এখানে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আসা রোগীদের নাম মাত্র ভাড়ায় থাকার ব্যবস্থা ও রোগীদের কেমিও থেরাপি দেয়া হয়। উত্তরাঞ্চলে প্রথম স্থাপিত এ মেশিনের দ্বারা নির্ভুলভাবে স্তন ক্যান্সার নির্ণয় করা সম্ভব।৭০
নরওয়ে থেকে প্রাপ্ত আর্থিক সহায়তায় ৪র্থ তলা নির্মাণ ও ২০১৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন করা হয়। এ ফ্লোরে ৩০টি নতুন শয্যা স্থাপন করা হয়েছে। ফলে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৪৫ টিতে উন্নীত হয়। 
হাসপাতাল পরিচালনা করা হয় ৬ সদস্যের ট্রাস্টি বোর্ড। নির্বাচনের মাধ্যমে পাঁচ বছর অন্তর অন্তর ট্রাস্টি বোর্ড পুনরগঠিত হয়ে থাকে। নির্বাচকমণ্ডলী হলেন আজীবন সদস্য ও সাধারণ সদস্য। বর্তমান সদস্য সংখ্যা ২২৮ জন। ট্রাস্টি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ড. মো. খালেকুজ্জামান ও সদস্য সচিব ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাস। হাসপাতালে আউটডোর ও ইনডোর সেবা প্রদান করেন ৮ জন চিকিৎসক, ৫ জন নার্স, ১ জন ফার্মাসিস্ট, ১ জন ল্যাবরেটরী টেকনিশিয়ান, ৩ জন অ্যাসিসটেন্ট, ৪ জন আয়া, ২ জন অফিস সহায়ক, ২ জন নাইট গার্ড ও ২ জন ড্রাইভার।৩৫৫