ফিরে যেতে চান

আজিজুল আলম (ওয়াক্ফ) রাজশাহী লায়ন্স চক্ষু হাসপাতাল

আজিজুল আলম (ওয়াক্ফ) রাজশাহী লায়ন্স চক্ষু হাসপাতাল, শেখপাড়া

১৯৬৮ সালে ৫ জুন রাজশাহী মহানগরীতে লায়ন ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ প্রতিষ্ঠিত  হয়। খ্যাতনামা আইনজীবী মরহুম লায়ন মির্জা সেকেন্দার প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন। মহানগরীর নিউ মার্কেটের  পাশে এ ক্লাবের ৩০ শয্যা বিশিষ্ট একটি আধুনিক চক্ষু হাসপাতাল ছিল। গরীব ও দুস্থ লোকদের এখানে বিনা খরচে চিকিৎসা ও চোখের  ছানি অপসারণের ব্যবস্থা করা হতো।৩
বিশ শতাব্দীর নব্বই দশকের প্রথম ভাগে এ হাসপাতাল নগরীর শেখপাড়ায় ফায়ার ব্রিগেডের পূর্ব পাশে স্থানান্তরিত হয়। শেখপাড়ায় হাসপাতালটি স্থাপনে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, রাজশাহী মহানগরী ইউনিটের প্রাক্তন আজীবন সদস্য মরহুম মো. জিল্লুর রহমানের বিশেষ অবদান আছে।
বর্তমান শেখপাড়ার একতলা হাসপাতাল ভবনটি পূর্বে কোন হিন্দু জমিদার বা ভূস্বামীর বাড়ি ছিল। বিংশ শতাব্দীর চল্লিশের দশকে অ্যাডভোকেটর আজিজুল আলম তাঁর নিকট থেকে ক্রয় করেন। তাঁর মৃত্যুর পর বিধবা স্ত্রী মোসাম্মৎ উম্মে রুমান (মৃত) ও একমাত্র কন্যা মোসাম্মৎ হাসিনা ইসলাম ১৯৭১ সালের ১৮ অক্টোবর বাড়িটিকে ওয়াক্ফ করে দেন। ওয়াক্ফ কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে ৩৮ শতক চত্বরসহ রাজশাহী লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালকে দান করে। ২০০৮ সালের ১২ এপ্রিল দানকৃত সম্পত্তিতে পরিবর্তন আসে। এ চুক্তি মোতাবেক ১৬.৫ শতক জমি হাসপাতালের ও অবশিষ্ট মোসাম্মৎ হাসিনা ইসলাম ও তাঁর আত্মীয় স্বজনের জন্য রাখা হয়। ওয়াক্ফর শর্ত অনুযায়ী পূর্ব অনুমতি ব্যতীত হাসপাতাল এ ভবনে নতুন কোন ভবন নির্মাণ করতে পারবে না। কাউকে ভাড়া দিতে পারবে না। কোন কারণে হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেলে সমস্ত সম্পতি ওয়াক্ফতে চলে যাবে।
১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়াক্ফ নিউ মার্কেটের দক্ষিণ পাশের একটি ভবনে রাজশাহী লায়ন্স চক্ষু হাসপাতাল স্থাপন করে এবং তিন/চার বছর পর বর্তমান স্থানে স্থানান্তর হয়। এখানে আসার পর আজিজুল আলম (ওয়াক্ফ) শব্দগুলো সংযুক্ত হয়ে নামকরণ হয় আজিজুল আলম (ওয়াক্ফ) রাজশাহী লায়ন্স চক্ষু হাসপাতাল। ২০০০ সালের ৬ আগস্ট ওয়াক্ফ আনুষ্ঠানিকভাবে ভবনটিকে হাসপাতালের নামে দান করে। 
এখানে স্বল্প খরচে চোখের চিকিৎসা  করা হয়। বর্তমানে ১০টি শাখা আছে। আউটডোর ও ইনডোর সেবার ব্যবস্থা আছে। ২০১৩ সাল থেকে এখানে আউটডোরে ডায়াবেটিক ও মেডিসিন চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। সপ্তাহে তিন দিন রোগীর চোখ অপারেশন করা হয়। চিকিৎসা প্রদানের জন্য আছে ১ জন কনসালটেন্ট, ৩ জন মেডিক্যাল অফিসার ও ৩ জন খণ্ডকালীন সার্জন। এছাড়াও আছে ২৬ জন কর্মচারী। এর মধ্যে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হলেন নির্বাহী প্রধান। হাসপাতালটি ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী  পরিষদের দ্বারা পরিচালিত হয়। তাঁরা বছর অন্তর লায়ন্সের মধ্যে থেকে নির্বাচিত হন। লায়ন্সের সংখ্যা ৩৬ জন। বর্তমান কার্যনিবাহী পরিষদের সভাপতি লায়ন্স ড. খালেকুজ্জামান, সহ-সভাপতি লায়ন্স ডা. ওয়াসিম হোসেন. সাধারণ সম্পাদক লায়ন মখলেসুর রহমান।৩০১