ফিরে যেতে চান

আধুনিক চিকিৎসা/জেলা দাতব্য চিকিৎসালয় ও সদর প্রভিন্সিয়াল হসপিটাল

আধুনিক চিকিৎসা
 জেলা দাতব্য চিকিৎসালয় ও সদর প্রভিন্সিয়াল হসপিটাল

রাজশাহী সদর হাসপাতাল বর্তমান ডেন্টাল ইউনিট (পশ্চিমমুখী)

রাজশাহী কলেজ স্থাপনের পূর্বে ১৮৬৫ সালে কলেজ চত্বরে সম্প্রতি নির্মিত শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান ভবনের জায়গায় বিলুপ্ত কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি ভবনে একটি ক্ষুদ্র দাতব্য চিকিৎসালয়ের জন্ম হয়। সে সময় এর পরিচয় ছিল জেলা দাতব্য চিকিৎসালয়।১ এ দাতব্য চিকিৎসালয় রাজশাহীর আধুনিক চিকিৎসার সূতিকাগার।
দিঘাপতিয়ার জমিদার রাজা প্রসন্ননাথ রায় ১৯০২ সালে রাজশাহী সদর হাসপাতালের বর্তমান জায়গাটি দান করেন এবং একতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করেন। ভবন নির্মাণের পর তৎকালীন রাজশাহী পৌরসভা রোগীর স্থায়ী সেবা যত্নের জন্য কয়েকটি শয্যার ব্যবস্থা করে এবং কলেজ চত্বর হতে দাতব্য চিকিৎসালয়টি এখানে স্থানান্তরিত হয়। তবে কলেজের চিকিৎসালয়টি হাসপাতালের অতিরিক্ত অংশ হিসেবে বেশ কিছুকাল চালু ছিল এবং এর ব্যয় বহন করতো জমিদার হিরালাল ঘোষ ও ডায়মন্ড জুবিলি তহবিল। রাজা বাহাদুরের সহযোগিতায় হাসপাতালের ক্রমোন্নতি ঘটে। ১৯০৭ সালে এটা সরকারি হাসপাতালে পরিণত হয়।৪  তখন বাংলায় কলকাতার বাইরে এত ভাল হাসপাতাল ছিল না। ১৯৩৭ সালে বাংলা সরকার ভবনটি দোতলা করে।১ তারপর বয়েজ স্কাউট অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহীর তহবিলের ৪ হাজার টাকা ব্যয়ে এক্স-রে (X-Ray)  বিভাগের সূত্রপাত। তখন শয্যা ছিল ৬৮।১ সুবোধ চন্দ্র সান্যাল ইএসকিউআর এর সৌজন্যে বয় স্কাউটস এসোসিয়েশন এ অনুদান প্রদান করেন। সুবোধ চন্দ্র সান্যাল ইএসকিউআর তাঁর মরহুম পিতা ডাক্তার কে.সি সান্যাল (কৃষ্ণ চন্দ্র সান্যাল) বাহাদুরের স্মরণে এ অর্থ দান করেছিলেন। ভবনের খোদিত প্লেটের তথ্য অনুসারে ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৩৮ সালে এবং নামকরণ হয় কৃষ্ণ চন্দ্র সান্যাল এক্স-রে অ্যানেক্স।১৯৫৪ সালে রাজশাহী সদর হাসপাতাল প্রাদেশিক হাসপাতালে উন্নীত হয়। নামকরণ হয় সদর প্রভিন্সিয়াল হসপিটাল (Sadar Provincial Hospital)| ১৯৫৪ সালে তৎকালীন সরকার ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্যাপক উন্নতি সাধন করে। এর ফলে বেড সংখ্যা ৬৮ হতে ১৫০ টিতে উন্নীত হয়। ১৯৮৯ সাল হতে হাসপাতালটি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অংশ হিসেবে নাক, কান, গলা ও চক্ষু রোগীদের আবাসিক সুবিধাসহ অস্ত্রপাচারের ব্যবস্থা ছিল।৩ বর্তমানে ডেন্টাল ইউনিট হিসেবে পূর্ণাঙ্গ কলেজের মতোই কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে। তবে কলেজের সাংগঠনিক কাঠামো প্রণয়ন না হওয়ার কারণে এখনও ডেন্টাল ইউনিট। এ ইউনিটে ৫টি ডিপার্টমেন্ট আছে। শিক্ষকের সংখ্যা ১৭ জন। এছাড়াও আছে ৫০ জন ইন্টার্নী। শিক্ষার্থী সংখ্যা মোট ২০০ জন। পাস করার পর শিক্ষার্থীরা বিডিএস (BDS- Bachelor of dental Surgery) ডিগ্রি পেয়ে থাকে। ইউনিট প্রধানের পদবি ইউনিট প্রধান।৫০০​​​​​​​