ফিরে যেতে চান

পদ্মার জল ধোয়া বাতাস স্বাস্থ্যের জন্য অনুকূল। বার্ধক্য ও ভগ্ন স্বাস্থ্যের লোকজন বায়ু পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে এখানে আসতো। ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মচারী ও জমিদারেরা পদ্মার তীরে স্বাস্থ্য নিবাস বা কুঠি নির্মাণ করেছিল। তবে চিকিৎসার উন্নত ব্যবস্থা ছিল না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের যাত্রা শুরুর পূর্বে বিভিন্ন ধরনের মন্ত্র ও গাছ-গাছড়ার ব্যবস্থা ছিল। রোগ সম্পর্কে মানুষ নানা ধরনের কুসংস্কার বিশ^াস করতো। কলেরা-বসন্ত রোগ সম্পর্কে নানা রকম গল্প ছিল। বিভিন্ন রোগকে জিন-ভূতের কারণ মনে করতো। জিন-ভূতের প্রভাব থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে ফকির-পীরদের সাহায্য বাড়ি বন্ধ, ঘর বন্ধ কুসংস্কার চালু ছিল। মাহবুব সিদ্দিকীর শহর রাজশাহীর আদিপর্ব গ্রন্থে রাজশাহীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস প্রবন্ধে ফজর আলি খাঁন (১৮৯৫-১৯৮০) লিখেছেন, মুসলমান সম্প্রদায়ের একজন ফকির একটি পিতলের তিনবার পাঁচমুখি বাতি জ¦ালাইয়া সন্ধ্যার পর বাড়ী বাড়ী যাইয়া ছেলেমেয়েদের মুস্কিল আসানের ফোটা দিত। আর একদল লোক একটা লম্বা বাসের (বাঁশের) আগায় আলগা চুল লাগাইয়া নাচাইয়া নাচাইয়া “দোমমাদার, দোমমাদার” করিত। কতিপয় হিন্দু তেল ও সিন্দুর মাখান শীতলা দেবীর মুর্ত্তি দেখাইয়া বাসি (বাঁশি) বাজাইয়া বলিত “আমার বসন্ত মাকে যে করিবে হেলা, তার চোখ-মুখ হতে বের হবে ঢেলা।” কুসংস্কার এখনও দেখতে  পাওয়া যায়। মুসলিম যুগে বাইরে থেকে হাকিমি বা ইউনানী চিকিৎসা পদ্ধতি এসেছিল। এ চিকিৎসার ঔষধ প্রস্তুতের জন্য বিভিন্ন প্রকারের লতা, গুল্ম, গাছের ছাল, শিকড় ইত্যাদি ব্যবহার করা হতো।৪