ফিরে যেতে চান

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে)

রাজশাহী মহানগরীতে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন নামে দুটি প্রতিষ্ঠান আছে। একটির অফিস ছিল পুরাতন নগর ভবনে এবং অপরটি রাজশাহী মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাব অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে পৃথক জায়গায় উভয় কমিটির কার্যক্রম আছে। উভয় ইউনিটই বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন অনুমোদিত এবং বাংলাদেশ সরকারের ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন শাখার রেজিস্ট্রেশনভুক্তির দাবি করে। তবে ১৪ মে ২০১৭ তারিখে যুগ্ম শ্রম পরিচালকের অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় ১৯৯৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হয়। রেজিস্ট্রেশন নং ১০৮৮। রেজিস্ট্রেশন অনুসারে এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান খান ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জামিলুর রহমান দুলাল।
সংবাদপত্রে পূর্ণকালীন সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ব্যক্তিদের পেশাগত স্বার্থ দেখাশোনা ও দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে প্রথম ১৯৭৭ সালে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে এ ইউনিয়নের সদস্যদের অংশ বিশেষ রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) নামে আর একটি ইউনিয়ন গঠন করে। 
১০ নভেম্বর ২০০৫ তারিখের ১৯৭৭ সালে গঠিত রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও তিন মেয়াদের (২০০৬-২০১৫) সভাপতি সাংবাদিক আকবারুল হাসান মিল্লাতের তথ্যানুসারে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের অস্থায়ী অফিস রাজশাহী মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাব। এর সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক জামিলুর রহমান দুলাল। এ ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দু’জন সদস্য সাংবাদিক হাসান মিল্লাত ও সংবাদের রাজশাহী প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম আকাশ। এ ইউনিটটি ইকবাল সোবহান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ফেডারেশন সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য। ২০১৫ সালের আগস্টের নির্বাচনে এ ইউনিটের কাজী শাহেদ সভাপতি ও মামুন-অর-রশিদ মামুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আকবারুল হাসান মিল্লাত ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে জানান, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রথম রেজিস্টেশেন যুগ্ম শ্রম অধিদপ্তর থেকে হয়। এর প্রথম সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক জামিলুর রহমান দুলাল। ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে সুলতানাবাদে একটি এনজিও অফিসে সাংবাদিক ও আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান (জন্ম ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৪)-এর তথ্য অনুযায়ী তিনি ও জামিলুর রহমান দুলাল রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রথম সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এ কমিটি গঠনের কিছুকাল পরেই রেজিস্ট্রেশন করা হয়। রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১০৮৮। এর বেশ কিছু কাল পর রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়। তারাও এ রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করেন। বর্তমান আমাদের অফিসের ঠিকানা- বোয়ালিয়া মডেল থানার পশ্চিম পাশে জননী বিল্ডিং এর ৪র্থ তলা। ২০১৬ সালের ২৯ অক্টোবর আকবারুল হাসান মিল্লাতের নিকট থেকে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সংবিধানের একটি ফটোকপি পাওয়া যায়। কপিটিতে সংবিধান প্রণয়নের তারিখ ও স্থানের উল্লেখ নেই। তবে ধারা-২ এ উল্লেখ আছে, ‘ইউনিয়নের প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা হইবে- মাতৃকা শিরোইল ৬১০৭ রাজশাহী’। ধারা-৫ এ প্রবেশাধিকার সম্পর্কে উল্লেখ আছে, ‘সকল সদস্যগণ প্রার্থীকে ১৯৭৭ সনের শিল্প রুলের ৫ (১) ধারার “ডি” ফরমের মাধ্যমে আবেদন করিতে হইবে এবং এই মর্মে ঘোষণা করিতে হইবে যে, তিনি অন্য কোন রেজি: ইউনিয়নের সদস্য নহেন।’ ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যগণ জানান, ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭৭ সালে এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক জামিলুর রহমান দুলাল। প্রণীত গঠণতন্ত্রে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁদের স্বাক্ষরও পাওয়া যায়। এ সব প্রাপ্ত তথ্য থেকে বলা যায় ১৯৭৭ সালে ১৯৭৭ সনের শিল্প রুল ঘোষণার আগে বা পরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের যাত্রা শুরু হয়। তার প্রথম অফিস ছিল শিরোইলে ‘মাতৃকা’ নামের একটি বাড়িতে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৫ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটিতে আছেন ১জন সভাপতি, ১জন সাধারণ সম্পাদক, ১জন অর্থ সম্পাদক ও ২জন সদস্য।
আর একটি রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি সাংবাদিক সরদার আবদুর রহমানের ১২ নভেম্বর ২০০৫ ও ২৭ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে প্রদত্ত তথ্যানুসারে ১৯৭৭ সালে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন গঠিত হয় এবং প্রধানত দৈনিক বার্তাকে কেন্দ্র করে এ ইউনিয়ন পরিচালিত হতো। প্রথম কমিটির সদস্য ছিলেন রঞ্জন কিশোর চৌধুরী, শাহ আনিসুর রহমান, মোহাম্মদ আলী সরকার, এসএমএ কাদের, ফরিদ উদ্দিন আহমদ, আ ন ম গোলাম রহমান, মাহমুদ আনোয়ার হোসেন, আব্দুল মজিদ কামালী, আশিষ লাহিড়ি, সরদার আবদুর রহামান। সরদার আবদুর রহামান ব্যতীত সবাই ছিলেন দৈনিক বার্তার সাংবাদিক। আর তিনি ছিলেন দৈনিক সংগ্রামের স্টাফ রিপোর্টার। পরবর্তীতে দৈনিক বার্তার পরিস্থিতির সঙ্গে আরইউজের পরিস্থিতিও নাজুক হয়ে পড়ে। ১৯৯৯ সালে রাজশাহীতে কর্মরত বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিনিধি ও স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিকদের সমন্বয়ে এ ইউনিয়ন আবারো সতেজ হয়ে ওঠে। দৈনিক দিনকালের রাজশাহী ব্যুরো চীফ আব্দুস সবুরকে আহ্বায়ক করে এ ইউনিয়ন পুনর্গঠিত হয়। দৈনিক সংগ্রামের সিনিয়র রিপোর্টার সরদার আব্দুর রহমানকে আহ্বায়ক করে এর গঠনতন্ত্র পুনর্গঠন কমিটিও গঠিত হয়। ১২ এপ্রিল ২০০৪ তারিখে এ ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত কর্মরত সাংবাদিকদের গৃহ সংস্থানের লক্ষ্যে একটি হাউজিং কমিটি গঠিত হয়।২১৩  
২৫ এপ্রিল ২০১৭ তারিখের প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে এ ইউনিয়নের রেজি. নং: রাজ-১০৮৮। অফিসের ঠিকানা- ২১/মালোপাড়া, সোনাদিঘির মোড়। মেয়াদভিত্তিক কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক/আহবায়ক ও সদস্য সচিব:
১৯৯৫-১৯৯৮: সভাপতি শাহ আনিসুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক  ফরিদউদ্দীন আহমদ।
১৯৯৯ - ২০০১: আহ্বায়ক রেজাউল করিম রাজু, সদস্য সচিব আবদুস সবুর।
৫ ডিসেম্বর ২০০১ - ১১ এপ্রিল ২০০৪: নির্বাচন ৪ ডিসেম্বর ২০০১। সভাপতি রেজাউল করিম রাজু, সাধারণ সম্পাদক আবদুস সবুর।
১২ এপ্রিল ২০০৪ -৯ জুন ২০০৬: নির্বাচন অনুষ্ঠান ১২ এপ্রিল ২০০৪। সভাপতি নাজিব ওয়াদুদ, সাধারণ সম্পাদক সরদার আবদুর রহমান।
১০ জুন ২০০৬ - ১৪ মার্চ ২০০৮: নির্বাচন ২৬ মে ২০০৬। সভাপতি এসএমএ কাদের, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব অপু।
১৫ মার্চ ২০০৮ -১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১০: নির্বাচন ১৫ মার্চ ২০০৮। সভাপতি এসএমএ কাদের, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব অপু।
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১০ -১৩ অক্টোবর ২০১০: নির্বাচন ২৩ জানুয়ারি ২০১০। সভাপতি তসিকুল ইসলাম বকুল, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান শাহীন।
১৪ অক্টোবর ২০১০ - ১৩ জুন ২০১৩: নির্বাচন ১০ অক্টোবর ২০১০। সভাপতি এসএমএ কাদের, সাধারণ সম্পাদক সরদার এম. আনিছুর রহমান।
১৪ জুন ২০১৩ - ৩০ জুন ২০১৪: সভাপতি সরদার আবদুর রহমান (ভারপ্রাপ্ত), সাধারণ সম্পাদক সরদার এম. আনিছুর রহমান/মুহা. আবদুল আউয়াল (ভারপ্রাপ্ত)।
১ জুলাই ২০১৪ -১২ জানুয়ারি ২০১৭: নির্বাচন ২৯ জুলাই ২০১৪। সভাপতি সরদার আবদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মুহা. আবদুল আউয়াল। 
১ জানুয়ারি ২০১৭ - চলমান: নির্বাচন ৪ জানুয়ারি ২০১৭। সভাপতি সরদার আবদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মুহা. আবদুল আউয়াল।