ফিরে যেতে চান

তিন প্রেস ক্লাবকে একটি প্রেস ক্লাবে পরিণতকরণের উদ্যোগ

রাজশাহী প্রেস ক্লাব রাজশাহীর সর্বপ্রথম প্রেস ক্লাব। তবে সাংবাদিকদের মধ্যে মতানৈক্যের কারণে রাজশাহী সিটি প্রেস ক্লাব ও মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাব, রাজশাহীর জন্ম হয়। সাংবাদিকদের সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে এ তিনটি প্রেস ক্লাবকে একত্রীকরণের প্রচেষ্টা চলেছে বেশ কবার। সর্বশেষ প্রচেষ্টা চলে ২০০৪ সালের গোড়া থেকে খুলনার সাংবাদিক মানিক সাহা হত্যাকে কেন্দ্র করে। ১৫ জানুয়ারি ২০০৪ তারিখে কতিপয় দু®কৃতকারীর বোমায় খুলনার বিশিষ্ট সাংবাদিক মানিক সাহা নিহত হলে রাজশাহীতে সাংবাদিকবৃন্দ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা ঐ দিনই বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং মিছিল শেষে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এক পথ সভায় মিলিত হন। সভায় রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রেজাউল করিম রাজু, মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাসান মিল্লাত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৩ দিনব্যাপী শোক পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন এবং সাংবাদিকদের কালো ব্যাজ ধারণ।২০৯ পরের দিন ১৬ জানুয়ারি ২০০৪ তারিখে দৈনিক ইনকিলাবের রাজশাহী অফিসে দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে রাজশাহী সাংবাদিক সমাজের ডাকে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় ৩ দিনের বদলে ৪ দিনব্যাপী শোক পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।২১০ ১৮ জানুয়ারি ২০০৪ তারিখে মানিক সাহা হত্যার প্রতিবাদে সর্ব পর্যায়ের সাংবাদিক নিয়ে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সভাতেই রাজশাহী প্রেস ক্লাবের আওতায় তিন প্রেস ক্লাবসহ পেশাগত অন্যান্য ফোরামের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটি প্রেস ক্লাব গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং একত্রীকরণ প্রেস ক্লাবের ২৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক শাহ আনিসুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন দৈনিক সোনালী সংবাদের সম্পাদক মো. লিয়াকত আলী, দৈনিক বার্তার সম্পাদক এসএমএ কাদের, দৈনিক সোনার দেশের সম্পাদক আবুল হোসেন মালেক ও দৈনিক উপচারের সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সদস্য ছিলেন ডা. দায়েম উদ্দিন, ডা. নাজিব ওয়াদুদ, আনু মোস্তফা, মোস্তাফিজুর রহমান খান, রেজাউল করিম রাজু, সাইদুর রহমান, হাসান মিল্লাত, মো. জুলফিকার, রফিকুল হাসান ফিরোজ, গোলাম মোস্তফা মামুন, মঞ্জুয়ারা খাতুন, সুজা উদ্দিন ছোটন, শাহাদৎ হোসেন বাদশা, জাহিদ হাসান, আনোয়ারুল আলম ফটিক, আবু সালেহ মো. ফাত্তাহ ও মাহাতাব চৌধুরী এবং সদস্য সচিব ছিলেন দৈনিক দিনকালের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান আব্দুস সবুর।২১১
এ কমিটির সদস্যবৃন্দ নগরীর সিটি মেয়র, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সংগঠন ও সুধীজনদের সঙ্গে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে মত বিনিময় করে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত কিছু সাংবাদিকের মতানৈক্যের কারণে একত্রীকরণ সম্ভব হয়নি। এছাড়া এর পূর্বেও প্রেসক্লাবসমূহ একত্রীকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল সে উদ্যোগও ভেস্তে যায়।