ফিরে যেতে চান

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, রাজশাহী জেলা শাখা

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ভবন (পূর্বমুখী গেট)

ছড়াকার সুখেন কুমার মুখার্জী ১৯৮১ সালের ৯ এপ্রিল জেলা প্রশাসক আব্দুল হালিমের নিকট জেলা সংগঠক পদে যোগদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, রাজশাহী জেলা শাখার সূচনা হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে লাইব্রেরিয়ান, অফিস সহকারী, নৈশ প্রহরী, পিয়ন নিয়োগ প্রাপ্ত হন। লক্ষ্মীপুরে অবস্থিত নীড় নির্মাল্য ভবনের নিচতলা ভাড়া নিয়ে এর প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের সহযোগিতায় এ একাডেমির ক্রমবিকাশে প্রতিষ্ঠাতা জেলা সংগঠক অবদান রাখতে সক্ষম হন। 
১৯৮৩ সালে একাডেমি নীড় নির্মাল্য ভবন থেকে সিঅ্যান্ডবি মোড়ের মনিবাজারের জেলা পরিষদ মিলনায়তনের নিচতলায় চলে আসে। একাডেমির জন্য তৎকালীন জেলা প্রশাসক একেএম আব্দুস সালাম  জেলা পরিষদ মিলনায়তনের নিচতলা নামমাত্র ভাড়া নির্ধারণ করেছিলেন। তিনিই একাডেমির নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য সার্কিট হাউসের দক্ষিণে শ্রীরামপুরের ৫৮ শতক জমি ৯৯ বছরের জন্য ইজারা প্রদানের ব্যবস্থা করেন। তাঁকে সহযোগিতা করেছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাফায়েত আলি। তাঁদের প্রচেষ্টাতে শিশু একাডেমির নিজস্ব ভবন নির্মাণ হয়েছিল। ২১ ডিসেম্বর ১৯৮৪ তারিখে ভবন নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসক একেএম আব্দুস সালাম। 
জেলা প্রশাসক একেএম আব্দুস সালাম ও পরবর্তী জেলা প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের সহযোগিতায় রুটিন ওয়ার্কের বাইরেও শিশু একাডেমি আয়োজন করতো বিভাগীয় শিশু সঙ্গীত সম্মেলন, শিশু অধিকার সচেতনতার উদ্দেশ্যে ইউনিসেফের অর্থায়নে কবিতা উৎসব ও অন্যান্য অনুষ্ঠান। পর্যায়ক্রমে শিশু একাডেমির উন্নয়নে অনেকের অবদান আছে। জেলা প্রশাসক সৈয়দুর রহমান বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণে ভূমিকা রাখেন। রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ বিশেষ আর্থিক অনুদান প্রদান করেছিলেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপিকা জিনাতুন নেসা তালুকদার তোরণ নির্মাণে সহযোগিতা করেন। জেলা প্রশাসক আজিজ হাসান মুক্ত মঞ্চ নির্মাণসহ একাডেমি চত্বরকে সাজানোর উদ্যোগ নিলে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন একাডেমি পরিচালনা কমিটির সদস্য সালেহ উদ্দিন বেবী। তাঁদের প্রচেষ্টায় চত্বরের দক্ষিণ পাশে মুক্তমঞ্চ, ছাতা নির্মাণ ও চত্বরের উন্নয়ন সাধন হয়।৪১৫ 
শিশু একাডেমির বর্তমান অফিস প্রধান হলেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা। একাডেমি পরিচালনা করে ১৩ সদস্যের পরিচালনা কমিটি। পদাধিকারবলে জেলা প্রশাসক কমিটির সভাপতি ও জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সদস্য সচিব। একাডেমিতে শিশুদের চিত্রাংকন, নৃত্য, সঙ্গীত, আবৃত্তি, অভিনয় প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম হয়ে থাকে। দরিদ্র শিশুদের জন্য শিশু বিকাশ শিক্ষা কেন্দ্র, প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রও এ একাডেমিতে অবস্থিত।৪১৬ 
মেয়র মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি ১৪১১ বঙ্গাব্দের ১ বৈশাখ/২০০৪ সালের ১৪ এপ্রিল  বিকেলে নববর্ষ উৎসব পালনের মাধ্যমে মুক্তমঞ্চ উদ্বোধন করেন। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আর্থিক সহযোগিতায় মঞ্চটি নির্মিত হয়।