ফিরে যেতে চান

এক সময় সংস্কৃতিচর্চার ক্ষেত্রে নাটক রাজশাহী মহানগরীর খুব জনপ্রিয় মাধ্যম ছিল। পূর্বে নাটক বলতে মঞ্চ নাটককেই বোঝাত। বোয়ালিয়ায় গোপাল রায়ের বাড়িতে থিয়েটার অনুষ্ঠিত হওয়ার সন্ধান পাওয়া যায়।৬৮২ বিলুপ্ত ড্রামাটিক ক্লাব ঐতিহাসিক নাট্যশালা। রাজশাহী এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় স্থাপন করা হয়েছিল ড্রামাটিক ক্লাবের টাউন হল। আর্থিক সংকটের কারণে টাউনহল নিলামে উঠলে রাজশাহী এসোসিয়েশনই ক্রয় করে। এ টাউন হলের পরিবর্তিত নাম রাজা প্রমদানাথ টাউন হল। যার বিলুপ্তির পর বর্তমান রাজশাহী এসোসিয়েশন ভবন। 

(বিস্তারিত:সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান অধ্যায়ের রাজশাহী এসোসিয়েশন) 

রাজশাহী সাংস্কৃতিক সংঘ (পশ্চিমমুখী, ছবি-২০১১)

ঘোড়ামারার রাজশাহী সাংস্কৃতিক সংঘ ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। বোয়ালিয়া মডেল থানা থেকে ঘোড়ামারা পোস্ট অফিস রোডের পূর্ব পাশে এর অবস্থান। নাট্যচর্চার উদ্দেশ্যেই ১৯৬৫ সালের ২৫ আগস্ট এ প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়।৭৩০ এর ‘পদ্মা রঙ্গমঞ্চ’ রাজশাহীর প্রসিদ্ধ নাট্যমঞ্চ। মঞ্চটির প্রতিষ্ঠাকালীন নাম ছিল ‘পদ্মা রঙ্গমঞ্চ’। তবে ৫ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে দেখা যায় রাজশাহী সাংস্কৃতিক সংঘ লিখার উত্তর পাশের গেটে লিখা আছে ‘পদ্মামঞ্চ’। প্রায় ১৫ বছর পূর্বে রঙ্গ শব্দটির বিলুপ্তি ঘটিয়ে রাখা হয়েছে ‘পদ্মামঞ্চ’।৭৩১ রাজশাহী সাংস্কৃতিক সংঘের ৩৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও গুণীজন সম্বর্ধনা ২০০০ স্মরণিকায় নাট্য শিল্পী সারা যাকের ও রামেন্দু মজুমদার তাঁদের বাণীতে ‘পদ্মা রঙ্গমঞ্চ’ উল্লেখ করেছেন। এ তথ্য থেকে বলা যায়, ২০০০ সালের অক্টোবরের পর পরিবর্তিত নামকরণ হয় পদ্মামঞ্চ। ১৯৭৪ সালের ৭ জানুয়ারি তৎকালীন ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী এএইচএম কামারুজ্জামানের মন্তব্য থেকে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে মঞ্চটি নির্মাণের কার্যক্রম চলছিল। তিনি মন্তব্য করেন,“রাজশাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করলাম। উদ্যোগীয়রা একটা রঙ্গমঞ্চ করার চেষ্টা করছেন। সরকার ও আমার দিক থেকে আশা করি সব রকম সাহায্য তাঁরা পাবেন।”৭৩০ পদ্মা রঙ্গমঞ্চ নির্মাণের পূর্বে কক্ষটি গোডাউন হিসেবে ব্যবহার হতো। আর একই ভবনের পাশের কক্ষে রাজশাহী সাংস্কৃতিক সংঘের নাটক, গান ও নৃত্যের অনুশীলন হতো। আর বিভিন্ন জায়গায় মঞ্চ স্থাপনের মাধ্যমে নাটক প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হতো।৭৩১ আজও পদ্মা রঙ্গমঞ্চ মহানগরীর ‘পদ্মামঞ্চ’ নামে নাটক মঞ্চায়নের জন্য দীর্ঘদিনের সাক্ষী হয়ে আছে। এখানে দুই বাংলার প্রখ্যাত নাট্যসংগঠন এবং নাট্যশিল্পীরা তাঁদের নাটক মঞ্চস্থ করে গেছেন।
এছাড়া রাজশাহী কোর্টের পূর্ব পাশে পশ্চিম শহরতলী ক্লাবও নাটক মঞ্চায়নের জন্য পরিচিত প্রতিষ্ঠান। দেশ স্বাধীনের পর দেড় দশক ধরে পাড়া-মহল্লার তরুণদের উদ্যোগে নাটক মঞ্চস্থ হতে দেখা গেছে। ইলেকট্রোনিক মিডিয়ার প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চ নাটকের গুরুত্ব কমে আসে। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগরীতে কয়েকটি সংগঠন নিয়মিত মঞ্চ ও পথনাটক চর্চা অব্যাহত রেখেছে। ব্রিটিশ আমল থেকে বর্তমান পর্যন্ত নাট্যচর্চায় যাঁরা এ অঞ্চলকে সমৃদ্ধ করেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম ঐতিহাসিক অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, কবীন্দ্র মজুমদার, শৈলেন্দ্রনাথ বিশী, মোসলেম উদ্দীন আহমদ, আব্দুল হক, অন্নদামোহন বাগচি, তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, মমতাজ উদদীন আহমদ, নাফির উদ্দিন, তালেব আলী, নেসার আহমেদ, গোপাল চন্দ্র, তেতু চাচা, মো. গিয়াস উদ্দিন, আব্দুল আজিজ, আব্দুর রশিদ, সুখেন মুখোপাধ্যায়, বদিউল আলম ভুলু, নূর মোহাম্মদ নূরু, সাহেব আলী, আব্দুল গণি, মিয়াজান আলী, আশরাফুল আরেফিন, মুস্তাফিজুর রহমান, প্রশান্ত কুমার সাহা, আতাউর রহমান, আবু বক্কর, মলয় ভৌমিক, শ্যামল ভাদুড়ী, নিতাই কুমার সরকার, আবু মো. জহিরুল আলম বুলবুল, ফেরদৌস হাসান রানা, সাহাবুদ্দিন সাবু, কামারউল্লাহ সরকার কামাল, আহসান কবির লিটন, শফিক আজিজ, যোবায়ের শাওন, সেলিম জাহাঙ্গীর, আজমল হুদা মিঠু, শৈলেন সরকার, গোলাম রাব্বানী, মাহমুদ সরকার নান্নু প্রমুখ। 
শহরে এখন বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে পদ্মারপাড় ঘিরে বেশ কয়েকটি উন্মুক্ত মঞ্চ তৈরি হয়েছে। যেখানে নাটক, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য ও গানের দলগুলো তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন ও মহানগরীর বিভিন্ন মিলনায়তনগুলোই নাট্য চর্চা অব্যাহত আছে। রাজশাহীর নাট্য সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজশাহী সাংস্কৃতিক সংঘ, রাজশাহী থিয়েটার, কচিপাতা থিয়েটার, বসুন্ধরা থিয়েটার, ভোর হলো, উদীচী, কথক, লেখাঘর, রাজশাহী কলেজকেন্দ্রিক বরেন্দ্র থিয়েটার (২০১১) অন্যতম। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক সংগঠনের মধ্যে- অনুশীলন, সমকাল, বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার, রুডা, তীর্থক, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট অন্যতম।