ফিরে যেতে চান

রাজশাহী মহানগরীর কেন্দ্রস্থলে হেতমখাঁ সদর হাসপাতালের সামনে প্রাচীন সংগ্রহশালা বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম বা বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর। যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা এবং বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর। নাটোর দিঘাপতিয়া রাজপরিবারের বিদ্যোৎসাহী জমিদার কুমার শরৎকুমার রায়, খ্যাতনামা আইনজীবী ঐতিহাসিক অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় এবং রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক ও প্রত্নতাত্ত্বিক রমাপ্রসাদ চন্দের প্রচেষ্টায় ১৯১০ সালে এ জাদুঘরের সূচনা হয়।১০৮ বর্তমান জাদুঘরের ভূমির পরিমাণ ২ একর।৭২১

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর দক্ষিণ পাশ (ছবি ২০১১)

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের পূর্ব দ্বারের পাশে স্থাপিত শিলালিপি

এ জাদুঘরের ভূমিকায় বলা যায়, ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধ থেকেই তৎকালীন সচেতন মহল ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের জন্য উৎসাহী হয়ে ওঠেন। যার ফলে বিস্মৃত সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ সংগ্রহ ও অনুশীলনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে ১৯০৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের কাশিমবাজারে পরিষদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।৩ পরের বছর পরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ভাগলপুরে। কুমার শরৎকুমার রায়, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় ও রমা প্রসাদ চন্দ অধিবেশনে যোগদান ও বরেন্দ্রভূমির পুরাকীর্তি সম্পর্কে জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তাঁরা রাজশাহী ফিরে এসে বরেন্দ্রের পুরাকীর্তি সম্পর্কে অতি উৎসাহী হয়ে উঠেন এবং ১৯১০ সালে বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি গঠন করেন।
বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির গঠনের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে বিভিন্ন প্রবন্ধে বিভিন্ন তথ্য দেখা যায়। কাজী মোহাম্মদ মিছের তাঁর রাজশাহীর ইতিহাস গ্রন্থে তথ্য দিয়েছেন ১৯১০ সালের এপ্রিলের প্রথম দিক। তাঁর ভাষায়,‘.....এই দলের সব চেয়ে উৎসাহী কর্মী অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় কুমার শরৎ কুমার রায়কে মালদহের গৌড় পরিদর্শনের জন্য ইঙ্গিত করেন। দেশে প্রত্যাবর্তন করিয়া কোন কারণ বশত: তখন গৌড় পরিদর্শন সম্ভবপর হয় না। তাঁহারা গোদাগাড়ী থানা পর্য্যটন করা স্থির করেন। তদনুযায়ী দেওপাড়া, খেতুর, মাড়ওইল, ভান্পুর, কুমারপুর প্রভৃতি প্রাচীন পল্লী পর্য্যটনস্থির করিয়া তাঁহারা ‘বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটী’ নামক একটি সোসাইটী গঠন বিষয়ে বিবেচনা করিতে থাকেন। ইং ১৯১০ সালের এপ্রিলের প্রথমের দিকে অক্ষয়কুমার মৈত্র, রমাপ্রসাদ চন্দ্র, শশধর রায় ও কুমার শরৎকুমার রায় এই চারি জন “বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি” নামে একটি সমিতি গঠন করেন। পরে এই সমিতিতে কলিকাতা চিত্রশালার (Calcutta Museum) তদানীন্তন সুপারিনটেনডেন্ট রাখাল দাস ব্যানার্জ্জি এবং বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের রামকমল সিংহ যোগদান করেন। তারপর তাঁহারা উত্তরবঙ্গের (বরেন্দ্র ভূমির) অনুসন্ধান কার্য্যে আত্মনিয়োগ করেন। মোটামুটিভাবে ইহাই হইল “বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির” গোড়ার কথা।৬৪৯
ড. কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান ১৯১০ সালে জুনে দ্বিতীয় অভিযানের সময় “বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি” গঠনের কথা বলেন। তাঁর ‘রাজশাহীর গৌরব বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর: ইতিহাস ও স্থাপত্যশৈলী’ প্রবন্ধের তথ্যানুসারে কুমার শরৎকুমার রায়ের নেতৃত্বে ১৯১০ সালের এপ্রিলে ৫ দিনের অভিযানে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, রমাপ্রসাদ চন্দ গোদাগাড়ী থানার দেওপাড়া, পালপাড়া, মালঞ্চি, জগাপুর, ইটাহার, চব্বিশনগর, খেতুর, মাড়ওইল, ভান্পুর, কুমারপুর ও বিজয়নগর অনুসন্ধান করে একটি চণ্ডিমূর্তিসহ ৩২ টি প্রত্ন নিদর্শন ভাস্কর্য নিয়ে রাজশাহী ফিরেন। কলকাতা জাদুঘরের প্রধান রাখাল দাস ব্যানার্জী এ সব প্রত্নসামগ্রী কলকাতা জাদুঘরে স্থানান্তরের প্রস্তাব করলে রমাপ্রসাদ চন্দসহ উপস্থিত অনেকেই আপত্তি জানান। বাবু ভুবন মোহন মৈত্রেয় ও বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ এর স্থানীয় শাখার অনারারী সচিব বাবু শশধর রায় শরৎকুমারকে এগুলো রাজশাহীতে সংরক্ষণ করার অনুরোধ জানান। কুমার শরৎ কুমার রায় তাঁদের অনুরোধ ও গুরুত্ব অনুধাবন করেন। এভাবে ১৯১০ সালের এপ্রিলে কুমার শরৎকুমার রায়, অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, রমাপ্রসাদ চন্দের এবং নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের উৎসাহে বেসরাকরিভাবে রাজশাহী জাদুঘরের জন্ম হয়। যার বর্তমান নাম বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর। তবে তা তখন মৌখিক ছিল; আনুষ্ঠানিকতা পায়নি। এরপর ১৯১০ সালের জুনে কুমার শরৎকুমার রায়, অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, রমাপ্রসাদ চন্দ পাটগ্রাম নিবাসী বাবু শ্রীরাম মৈত্রয়কে নিয়ে বর্তমান জয়পুরহাট জেলার খঞ্জনপুরে যান। এটা ছিল দ্বিতীয় অভিযান। এ অনুসন্ধান শেষে খঞ্জনপুরেই কুমার শরৎকুমার রায় “বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি” গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সিদ্ধান্ত অনুসারে এ সমিতির সভাপতি, পরিচালক ও অনারারী সচিব হন যথাক্রমে কুমার শরৎকুমার রায়, অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, রমাপ্রসাদ চন্দ।৭২১ 
ড. কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান তাঁর প্রবন্ধে উল্লেখ করেন,“শরৎকুমার রায়ের ভাষায়, ‘আমরা এই অভিযানে রাজশাহী জাদুঘরের নামে প্রত্নসামগ্রী সংগ্রহ করি’। তবে প্রস্তাবিত বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর। ইন্ডিয়ান সোসাইটি অ্যাক্ট (১৮৬০) এর অধীনে বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি ১৯১৪ সালে নিবন্ধিত হয়। সমিতির প্রথম অধিবেশন বসে গোদাগাড়ি থানার পালপুর মৌজার গুলাইয়ের জমিদার হাজী লাল মহাম্মদের কাচারি বাড়িতে। এখান থেকে কার্যক্রম চলাকালে ভানপুরের জমিদার হরিমোহন চৌধুরী সমিতির দলে অংশ গ্রহণ করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। সমিতি পর্যায়ক্রমে ডিসেম্বর ১৯১০, এপ্রিল ১৯১১, অক্টোবর ১৯১২সহ বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে অনেক প্রত্নসামগ্রী সংগ্রহ করে। এগুলো প্রথমে রাজা প্রমদানাথ রায়, মহেন্দ্রকুমার সাহা ও কালী প্রসন্ন আচার্যের বাড়িতে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বর্তমান মিয়াপাড়ায় অবস্থিত রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগারের দুটি কক্ষে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রত্ন সামগ্রীর সমৃদ্ধির এক পর্যায়ে সমিতির অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। ১৯১১ সালে বালুরঘাট থেকে সংগৃহীত একটি লিপি সংবলিত বৌদ্ধ মূর্তিকে কেন্দ্র করে সমিতির সদস্যবৃন্দ কলকাতা ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের ভীষণ কোপানলে পড়ে। কোলকাতা ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম  মূর্তিটিসহ সমিতির সংগৃহীত সব প্রত্নসামগ্রী তাঁদের নিকট প্রেরণের দাবি উত্থাপন করেন।
 ফলে সমিতিরি অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। এ সংকটময় পরিস্থিতিতে কুমার শরৎকুমার রায় ও রমাপ্রসাদ চন্দ জলপাইগুড়ি গিয়ে তৎকালীন রাজশাহী বিভাগের কমিশনার এফ.জে. মনোমোহনের শরণাপন্ন হন। এফ.জে. মনোমোহনের প্রচেষ্টায় একটা সমঝোতা হয় ও সমস্যার নিরসন হয়। তখনই এফ.জে. মনোমোহনের মাধ্যমে কুমার শরৎকুমার রায় ও রমাপ্রসাদ চন্দ বাংলার গভর্নর (১৯১২-১৯১৭) লর্ড কারমাইকেলের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। তাঁরা গভর্ণরের নিকট সমিতির কার্যক্রম তুলে ধরেন ও জাদুঘর স্থাপনের গ্রস্তাব উপস্থাপনের অনুমোদনের আবেদন জানান। এ অবস্থায় লর্ড কারমাইকেল ১৯১২ সালে রাজশাহী আসেন। তাঁর সম্মানে সমিতির যাবতীয় প্রত্নসামগ্রী প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এটাই ছিল বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের সর্ব প্রথম প্রদর্শনী। যদিও তখন এ নামে জাদুঘর প্রতিষ্ঠা লাভ করেনি। গভর্নর সমিতির সংগ্রহ দেখে মুগ্ধ হন। এরপর ১৯১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সরকারী পত্রের মাধ্যমে রাজশাহীতে বেসরকারি উদ্যোগে বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি প্রস্তাবিত জাদুঘর নির্মাণের জন্য প্রাচীন ভাস্কর্য ও প্রত্নসামগ্রী সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের অনুমতি দেয়া হয়। যার পরিপত্র নং ১১, তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯১৩। এর ফলে বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি ও জাদুঘর নির্মাণের বৈধতা অর্জন করে। স্থানীয় উদ্যোগে বেসরকারি জাদুঘর ও প্রত্নসামগ্রীর নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে বাংলার সরকার অনুমোদন দেয়ার বিষয়ে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হলে  কুমার শরৎকুমার রায় নিজ উদ্যোগে একটি সুরক্ষিত ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।৭২১ 
ড. কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান লর্ড কারমাইকেলের পরিদর্শনকাল ১৯১২ সাল উল্লেখ করলেও ১৩ নভেম্বর ১৯১৬ তারিখের বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটির ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনকালে লর্ড কারমাইকেল তাঁর বক্তৃতায় বলেন …When I visited Rajshshi three years ago. তবে প্রাচীন ভাস্কর্য ও প্রত্নসামগ্রী সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের অনুমতি পরিপত্রের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯১৩ দেখে ধারণা করা হয় লর্ড কারমাইকেল তাঁর বক্তৃতায় সময়ের যথার্থতা হিসেবে আনেননি।
অবশেষে শরৎকুমারের বড় ভাই দিঘাপতিয়ার জমিদার রাজা প্রমদানাথ রায়ের দানকৃত প্রায় দুবিঘা জমির উপর ভবন নির্মাণ শুরু হয়েছিল। এ জমির মধ্যে দুর্গাদাস ভট্টাচার্যেরও কিছু জমি ছিল। তিনি জাদুঘর নির্মাণের জৃন্য দান করে দেন।৭২১ সমিতির কর্মকর্তাদের অনুরোধে তৎকালীন বাংলার গভর্নর লর্ড কারমাইকেল ১৯১৬ সালের ১৩ নভেম্বর জাদুঘর ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। নির্মাণ শেষে ১৯১৯ সালের ২৭ নভেম্বর দ্বার উন্মোচন করেন লর্ড রোনাল্ডসে। 
কোন গ্রন্থ বা প্রবন্ধে যাই লেখা থাক না কেন এ জাদুঘরের পূর্ব পাশের সদর দরজার পার্শ্ববর্তী দেয়ালে সংবলিত তিনটি শিলালিপি দেখে বলা যায় আদিতে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের বিশেষ কোন নাম ছিল না। কুমার শরৎকুমার রায় সংবলিত শিলালিপি অনুযায়ী বলা যায়, এ ভবনের পূর্ব নাম বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির জাদুঘর ও গ্রন্থাগার। যার ইংরেজি The Museum & Library of The Varendra Research Society. 
‘রাজশাহীর গৌরব বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর: ইতিহাস ও স্থাপত্যশৈলী’, অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় সার্ধশত জন্মবার্ষিকী ও বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর প্রতিষ্ঠা শত বার্ষিকী স্মারক গ্রন্থের ১৩৮ পৃষ্ঠায় 

THE GOVERNOR AT RAJSHAHI
OPENS RESEARCH MUSEUM
(ASSOCIATED PRESS OF INDIA)
Rajshahi, Nov 27

শিরোনামে এ জাদুঘর উদ্বোধনের সংবাদ প্রকাশ হয়। শিরোনামের প্রকাশিত সংবাদ : His Excelency visited, the Rajshahi College yesterday afternoon and subsequented attend a garden party given by the reception committee, in the course of which he presented Khan Bahadur Maulvi Ershad Ali Khan Chowdhuri with the sanad and badge of his title. At 8 this morning he visited the Central Jail and the rest morning was occupied with interviews with the leading residents. In the afternoon he opened the new building and the Museum of the Varendra Reasearch Society. The proceedings began with reading of the report by the Secretary of the Society Babu Radha Govid Basak. Mr. Sarat Kumar Roy, the president, in a short speech skething the history of Society requested His Excelency to open the building and His Excelency in declared the Museum open said. প্রেসের নামের সঙ্গে তারিখ দেখে মনে হয় সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯১৯ সালের ২৭ নভেম্বর। তাহলে ভবন ও জাদুঘর উদ্বোধন হয়েছিল ২৬ নভেম্বর। আর গভর্নর রাজশাহী (তৎকালে রামপুর বোয়ালিয়া) এসেছিলেন ২৫ নভেম্বর।  প্রকৃতপক্ষে উপরোক্ত প্রবন্ধটিতে সংবাদ পত্রের মূল অংশও ছবি আকারে ছাপানো হয়েছে। উপরোক্ত স্মারক গ্রন্থের প্রকাশক মুহাম্মদ লুৎফুল হকের নিকট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে জানা যায়,  ASSOCIATED PRESS OF INDIA বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে The Enghlishman পত্রিকা সংবাদটি প্রকাশ করে। গ্রন্থের ১৪০ পৃষ্ঠায় The Enghlishman  পত্রিকা থেকে উদ্বোধনের ছবি ছাপানো হয়েছে। তাতে এর প্রকাশের তারিখ আছে ১৯১৯ সালের ২৯ নভেম্বর। Rajshahi, Nov 27 দ্বারা বোঝায় ঘটনার স্থান ও তারিখ ২৭ নভেম্বর। প্রকাশিত সংবাদ থেকে আমরা জানতে পারি গভর্নর লর্ড রোনাল্ডসে ১৯১৯ সালের ২৬ নভেম্বর রাজশাহী আসেন এবং রাজশাহী কলেজ পরিদর্শন শেষে একটি গার্ডেন পার্টিতে অংশ গ্রহণ করে এরশাদ আলি খান চৌধুরীকে সনদ ও ব্যাজ পরিয়ে খান বাহাদুর উপাধি প্রদান করেন। ১৯১৯ সালের ২৭ নভেম্বর সকালে তিনি কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন, শহরের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ঐ দিন বিকেলে তিনি বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটির মিউজিয়াম ও নতুন বিল্ডিং উদ্বোধন করেন। যাকে বাংলা ভাষায় বলা হয় বরেন্দ্র গবেষণা সমিতির জাদুঘর ও নতুন ভবন উদ্বোধন করেন।
এ প্রতিবেদনে জাদুঘরের বিশেষ কোন নাম বলা হয়নি। বলা হয়েছে বরেন্দ্র গবেষণা সমিতির জাদুঘর। উক্ত গ্রন্থের ১৩৫ থেকে ১৩৭ পৃষ্ঠায় একই বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে The Enghlishman পত্রিকার ১৯১৬ সালের ১৪ নভেম্বর তারিখের সংখ্যায় লর্ড কারমাইকেল কর্তৃক এ ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের সংবাদ ও ছবি ছাপনো হয়। সেখানে ভবনের নাম বলা হয়েছে the Varendra Reasearch Society’s building. এখানে জাদুঘর শব্দটি আসেনি। ASSOCIATED PRESS OF INDIA বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনটি ছিল ১৩ নভেম্বর ১৯১৬ তারিখের। এ প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে লর্ড কারমাইকেল ১৯১৬ সালের ১১ নভেম্বর বিকেলে রংপুর থেকে রামপুর বোয়ালিয়া পৌঁছান। পথে তিনি নাটোর মহারাজার বাড়ি পরিদর্শন শেষে দিঘাপতিয়ার রাজা প্রমদানাথ রায়ের বাগানবাড়ি যান এবং তাঁকে সঙ্গে নিয়েই রামপুর বোয়ালিয়া আসেন ও গার্ডেন পার্টিতে উপস্থিত হন। রোববার তিনি নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সাক্ষাৎ দেন। সোমবার সকালে বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটির প্রত্নসামগ্রী পরিদর্শন ও সকাল ১১ টায় কারাগার পরিদর্শন করেন। এ দিন কোন্ সময় তিনি বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটির ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রতিবেদনে উল্লেখ নাই। উল্লেখ আছে- His Excelency laid the foundation stone of the Varendra Reasearch Society’s building. প্রতিবেদনটিতে লর্ড কারমাইকেলের রামপুর বোয়ালিয়ায় দিনের নাম ছাড়া আগমনের তারিখ উল্লেখ আছে ১৯১৬ সালের ১১ নভেম্বরের বিকেল। পরবর্তী ঘটনার দিনের নাম আছে; তারিখ নাই। পর্যায়ক্রম ঘটনা প্রতিবেদনের তারিখ অনুসরণ করে ধরে নেয়া যায় লর্ড কারমাইকেল ১৯১৬ সালের ১১ নভেম্বর শনিবার বিকেলে রামপুর বোয়ালিয়া আসেন এবং ১৩ নভেম্বর সোমবার সকাল ১১ টায় কারাগার পরিদর্শনের পর কোন এক সময় বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটির ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।  
এ সব তথ্য স্পষ্ট ধারণা দেয় সূচনায় এ জাদুঘর বিশেষ কোন নামে স্থাপিত হয়নি। বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি ভবন নির্মাণের পর জাদুঘর নাম দিয়ে সংগৃহীত প্রত্নসামগ্রী প্রদর্শন করতো। জাদুঘর বর্তমান ‘বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম’ বা ‘বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর’  নাম ধারণ করে ১৯৬৪ সালে রাজশাহী বিশ্বদ্যিালয়ের অধীভুক্ত হওয়ার পর থেকে। 
জাদুঘর ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল তেষট্টি হাজার টাকা। এ অর্থের সিংহভাগ ছিল কুমার শরৎ কুমার রায়ের। ভবনের ভূমি নকশাও তিনি তৈরি করেছিলেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে জাদুঘরের তৎকালীন অবৈতনিক সেক্রেটারি স্যার যদুনাথ সরকারের ছোট ভাই বিজয়নাথ সরকার ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। 
জাদুঘর উদ্বোধনের পূর্বে ঐ দিনই সম্পাদিত ট্রাস্টি ডীডের মাধ্যমে কুমার শরৎ কুমার রায় ভবনটি জাদুঘর ও পাঠাগারের জন্য  বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির নিকট হস্তান্তর করেছিলেন। জাদুঘর বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির পরিচালনা পরিষদ দ্বারা পরিচালিত হতো। ১৯২৭ সালের আগস্টে সমিতির উন্নয়ন কল্পে আয়োজিত এক অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে কুমার শরৎ কুমার রায়, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, রমাপ্রসাদ চন্দ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য স্যার যদুনাথ সরকার, চৌধুরী মহেন্দ্র কুমার সরকার ও বিজয়নাথ সরকারকে নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি প্রত্নসামগ্রী সংগ্রহের মাধ্যমে জাদুঘরকে সমৃদ্ধ করার উদ্দেশ্যে একটি তহবিল খোলে। তারপর তহবিলে প্রাপ্ত সরকারি মঞ্জুরি তিন শ টাকা ও কুমার শরৎ কুমার রায় একশ টাকা মোট চারশ টাকা মাসিক অনুদানে বেতনভুক্ত প্রথম কিউরেটর ননীগোপাল মজুমদারকে দুই বছরের জন্য মহেঞ্জোদারো খনন কাজে অংশগ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছিল। এভাবে সমিতির ক্রম উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। উন্নয়নের অগ্রগামী পথে রাজশাহীর আলো নিভে যাওয়ায় সমিতি ও জাদুঘরের সামনে চলাও ঝাপসা হয়ে আসে। এ আলোর নাম অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়। তিনি ১৯৩০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিরোধান হন। এ মহতের মৃত্যু, সমিতির প্রতিষ্ঠাকাল থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজশাহী ত্যাগ, সমিতি পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি, মতের ভিন্নতা প্রভৃতি কারণ  কুমার শরৎ কুমার রায়কে অসহায় করে তোলে। এ পরিস্থিতিতে বাংলা সরকারের ১৮৮০ সালের চ্যারিটেবল ইন্ডোমেন্ট অ্যাক্ট (প্রজ্ঞাপন নং বিবিধ ৩২২৭) অনুযায়ী ১৯৩৭ সালের ৬ নভেম্বর জাদুঘরের সকল প্রত্নসম্পদ, পাঠাগার, আসবাবপত্র, ইমারতাদি ও কুমার বসন্ত রায় কর্তৃক অনুদানের ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ট্রাস্ট ফান্ডের অঙ্গীকার পত্র সরকারের নিকট অর্পণ করা হয়। তখন জাদুঘর পরিচালনার জন্য ১১ সদস্যের একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কমিটির সভাপতি হন। বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি কর্তৃক এ কমিটিকে হস্তান্তরিত তালিকার মধ্যে ছিল- ৭৬০টি পাথরের মূর্তি, ৪৭ টি ধাতব মূর্তি, ২টি কাঠের ভাস্কর্য, ৪টি মৃন্ময় ভাস্কর্য, ৪টি কামান, ২১১টি অলংকৃত ইট, ৪২টি পোড়ামাটির ফলক, ২৯টি চকচকে টালি, ১৭টি পাথরের লিপি, ২৩টি পোড়ামাটির লিপি, ৪টি কাগজের দলিল, ১১১টি ধাতব পাত্র, ১০টি গয়না, ৪৩৪টি স্বর্ণমুদ্রা ও ৪টি পরিধেয় পোশাক। হস্তান্তরের মধ্যে আরো ছিল ১৮৩২টি বই এবং ২৫৩০টি সংস্কৃত ও ১২২৩টি বাংলা পাণ্ডুলিপি।
১৯৩৭ সালের পর সরকারি অনুদান, ট্রাস্ট বোর্ডের অর্থ ও কুমার শরৎ কুমার রায়ের আর্থিক সহযোগিতায় জাদুঘরের কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। কিন্তু ১৯৪৬ সালের ১২ এপ্রিল কৃতী মানব কুমার শরৎ কুমার রায়ের মৃত্যু ও ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগ জাদুঘরকে শোচনীয় অবস্থায় ঠেলে দেয়। জাদুঘরের জন্য ত্যাগী মানুষ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে কার্যক্রম শ্লথ হয়ে পড়ে। এ দুরাবস্থায় জাদুঘর ক্যাম্পাসের উত্তর-পশ্চিম কোণায় ১৯৪৯ সালে স্থাপিত বেসরকারি মেডিক্যাল স্কুলের এনাটমি বিভাগের একটি ভবন তৈরি করা হয়। এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেল ট্রাস্টফান্ডের নথি আটকে দেয়ার কারণে তৎকালীন পাকিস্তানে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে ট্রাস্ট ফান্ড থেকে প্রাপ্ত বার্ষিক এগারো শ টাকার সুদও বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় দিঘাপতিয়ার জমিদার প্রতিভানাথ রায়, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ ড. ইতরাৎ হোসেন জুবেরী ও কিউরেটরের প্রচেষ্টায় কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের নিকট থেকে সাময়িক প্রাপ্তি কিছু অর্থের উপরই জাদুঘর নির্ভরশীল ছিল। ১৯৫৮ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অনুকূলে কেন্দ্রীয় সরকার গবেষণাকর্ম প্রকাশের জন্য  জাদুঘরকে ১০ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করে। একই সূত্র ও উৎস থেকে লাইব্রেরিভবন নির্মাণের জন্য ১৯৬১ সালে ৩০ হাজার টাকার অনুদান পাওয়া যায়। এ আর্থিক অনুদানের পরিপূরক হিসেবে প্রাদেশিক সরকারের নিকট থেকে ১৪ হাজার টাকার সুদমুক্ত ঋণ পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ভবন তৈরি হওয়ায় জাদুঘর ক্যাম্পাসের জায়গা তারা ছেড়ে দেয়। ফলে জাদুঘর ভবনের উত্তরের জায়গায় ১৯৬১ সালে নির্মিত হয় পূর্ব-পশ্চিম দৈর্ঘের একতলা লাইব্রেরি ভবন। কিউরেটরের বাসভবন ও অন্যান্য সম্পত্তি ক্ষতিপূরণস্বরূপ মেডিক্যাল স্কুলের অ্যানাটমি ভবনটি জাদুঘরকে ছেড়ে দেয়া হয়।
এ অবস্থায় ১৯৬১ সালে জাদুঘর উন্নয়নের জন্য সরকারের নিকট একটি প্রকল্প পেশ করা হয়। কিন্তু ১৯৬২ সালে জাদুঘরের প্রত্নসামগ্রী করাচির ন্যাশনাল মিউজিয়ামে স্থানান্তরের প্রচেষ্টা চললে বরেন্দ্র গবেষণা সমিতির সদস্য ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক ক্ষিতিশচন্দ্র সরকারের তীব্র প্রতিবাতে তা ব্যর্থ হয়। তখন পাকিস্তান সরকার জাদুঘর পরিচালনা পরিষদের উপর শর্ত আরোপ করে, জাদুঘর প্রাদেশিক সরকারের নিকট হস্তান্তর না করলে জাদুঘর উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হবে না (পত্র নং 1113 (R&E)/OM/84(R&E)/65 dated 4 November 1963 । সরকারের এ পত্র পরিচালনা পরিষদকে ভাবিয়ে তোলে। জাদুঘর সরকারের নিকট হস্তান্তর করলে প্রত্নসম্পদ ঢাকা, করাচিতে স্থানান্তর হতে পারে। এর ফলে উত্তরাঞ্চল শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে পিছিয়ে পড়বে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠাতাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। এ সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় তৎকালীন মিউজিয়ামের কিউরেটর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এআর মল্লিক বিচক্ষণতার পরিচয় দেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট তিনি এ জাদুঘরের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার যুক্তি উপস্থাপন করে তা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভুক্তকরণের প্রস্তাব দেন। তিনি জাদুঘর ব্যবস্থাপনা কমিটির তৎকালীন সভাপতি ও জেলা প্রশাসক পিএ নাজিরকেও বিষয়টি বোঝাতে সক্ষম হন। ফলে পিএ নাজির এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। প্রফেসর মল্লিকের পরমর্শ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জাদুঘর ব্যবস্থাপনা কমিটির নিকট প্রস্তাব দিলে ১৯৬৩ সালে জাদুঘর ব্যবস্থাপনা কমিটির একটি সভা আহবান করা হয়। সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব সিদ্ধান্ত আকারে গৃহীত হয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলা প্রশাসন প্রাদেশিক সরকার উপর প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক পিএ নাজিরের ভূমিকায় ছিল বেশি। ফলে ১০ অক্টোবর ১৯৬৪ তারিখে আইনসম্মতভাবে জাদুঘর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভুক্ত হয়ে যায়। হস্তান্তর পত্রে সরকারের পক্ষে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও জাদুঘর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এম জামিলুর রহমান (পিএসসি) এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও জাদুঘরের কিউরেটর ড. এআর মল্লিক স্বাক্ষর করেন। এ হস্তান্তরের মাধ্যমে বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির বিলুপ্তি ঘটে ও জাদুঘর বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম নামে অবহিত হয়। যার বাংলা বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর।৭২১ বর্তমানে বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠান।
রমাপ্রসাদ চন্দ জাদুঘরের সমুদয় নিদর্শন প্রধানত পুরাতন স্থাপত্যের নিদর্শন, পুরাতন ভাস্কর্যের নিদর্শন ও পুরাতন জ্ঞান ধর্ম সভ্যতার নিদর্শন (যেমন পুঁথি) এ তিন ভাগে বিভক্ত করেছিলেন। 
২০০০ সালের ১৫ জুলাই প্রকাশিত যুগান্তর পত্রিকার তথ্যানুসারে জাদুঘরের এ পর্যন্ত সংগ্রহ সংখ্যা সাড়ে আট হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে প্রায় দেড় হাজার প্রস্তর ও ধাতব মূর্তি, ৬১টি লেখ চিত্র, ২ হাজারেরও বেশি প্রাচীন মুদ্রা, ৯শ’র বেশি পোড়ামাটির ভাস্কর্য-পত্র-ফলক, প্রায় ৬০টি অস্ত্রশস্ত্র, প্রায় ৩০টি আরবি-ফারসি দলিল, মোগল আমল থেকে ব্রিটিশ আমল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকারের রৌপ্য-ব্রোঞ্জ-মিশ্র ধাতুর প্রায় ৪০০টি মুদ্রা। এছাড়াও প্রায় সাড়ে চার হাজারেরও বেশি পাণ্ডুলিপি। এসব সংগ্রহ মোট ৮টি গ্যালারিতে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা ছিল।
১নং বিবিধ গ্যালারি     :     এখানে ছিল মধ্য যুগের ঢাল-তলোয়ার, ধাতব পাত্র, মহেঞ্জোদারো ও মহাস্থানের বিভিন্ন নিদর্শন।
২নং মূর্তি গ্যালারি     :     সম্রাট অশোক থেকে ব্রিটিশ আমল পর্যন্ত কাঠ, পাথর ও অন্যান্য বস্তু দ্বারা নির্মিত মূর্তিসমূহ।
৩নং দেব গ্যালারি     :     সূর্য, বিষ্ণু, শিব, কার্তিক ও অন্যান্য দেবতার মূর্তি।
৪নং দেবী গ্যালারি     :    পার্বতী, সরস্বতী, মনসা, দুর্গা ও অন্যান্য দেবীর মূর্তি।
৫নং বুদ্ধ গ্যালারি     :     এ গ্যালারিতে ছিল সব বুদ্ধ দেব-দেবী ও জৈন মূর্তি, বোধিসত্ত্ব, ঋসভনাথ, পর্শ্বনাথ ইত্যাদি।
৬নং গ্যালারি     :     এ গ্যালারিতে উন্মুক্ত ছিল প্রাচীন আমলের আরবি, ফারসি, সংস্কৃত, বাংলা লেখচিত্র এবং পাল যুগ, সুলতানী যুগ, মোগল যুগের শিলালিপি ছাড়াও শের শাহ্র ২টি কামান, মেহরাব ইত্যাদি। 
৭নং ইসলামী গ্যালারি     :     হাতে লেখা কোরআন শরীফ, মোগল আমলের ফারসি দলিল, পোশাক, মুদ্রা ইত্যাদি। 
৮নং আবহমান বাংলা গ্যালারি     :     বাঙালি জাতির ব্যবহার্য জিনিসপত্র, প্রাচীন গহনা, দেশী বাদ্যযন্ত্র, আনুষ্ঠানিক মৃৎপাত্র, উপজাতিদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র। কিশলয় বেষ্টিত নদীমাতৃক বাংলার নৌকার মডেল এবং উপজাতীয় সংস্কৃতি ও মুদ্রা ।
এছাড়াও  রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক অনুদানে আরও তিনটি সিটি গ্যালারি নির্মিত হয়। এখানে প্রদর্শন করার কথা ছিল রাজশাহী শহরের আদি নিদর্শন, খানদানী বংশের বিভিন্ন কীর্তির নিদর্শন, কৃতী সন্তানদের ছবি, ঐতিহ্যবাহী টমটম, রেশম শিল্পের নিদর্শন, প্রাচীন প্রেস, শহরের লেখকদের উল্লেখযোগ্য বই ইত্যাদি। এ গ্যালারি ডিসপ্লের আপেক্ষমান অবস্থায় ২০১১ সালের ২ নভেম্বর ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্বে আসেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর সুলতান আহমদ। তাঁর তত্ত্বাবধানে সংস্কার কাজ শুরু হয়। জাদুঘর সংস্কারের জন্য ২০১০ সালে ৯৪ হাজার ৯৩৩ মার্কিন ডলার অনুদান দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ অর্থে ২০১১ সালের জুলাই মাসে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়।৪৯৫ এ অর্থ দেয়া হয় যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের অ্যাম্বাসাডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন থেকে। যার পরিমাণ প্রায় বাংলাদেশী ৭৩ লাখ টাকা।৪৯৬ ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা সংস্কারকৃত জাদুঘরের প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন। এ সময় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজান উদ্দিন, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান সজল, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক প্রফেসর সুলতান আহমদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর সায়েন উদ্দিন আহমেদ, রেজিস্ট্রার প্রফেসর মু. এন্তাজুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ উপলক্ষে জাদুঘর চত্বরের দক্ষিণাংশের উন্মুক্ত জায়গায় মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের নাম দেয়া হয়েছিল Opening Renovated Interion of Varendra Research Museum (অপেনিং রিনোভেটেড ইন্টারিওন অফ বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম)। অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন উপাচার্য, প্রধান অতিথি অ্যাম্বাসাডর। বিশেষ অতিথি উপ উপাচার্য। মেয়র মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। স্বাগত বক্তব্য দিয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক প্রফেসর সুলতান আহমদ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর এবিএম হোসেন বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এ অনুষ্ঠানে অ্যাম্বাসাডর তার ভাষণে জাদুঘরের বাহ্যিক অংশ সংস্কারের জন্য অতিরিক্ত ৮৫ হাজার মার্কিন ডলার মূল্য মানের অনুদান দেয়ার ঘোষণা দেন। এ অর্থে বহিরাংশের সংস্কার চলছে।
সংস্কারের ফলে জাদুঘর ভবনের ছাদ সংস্কার, অবজেক্ট ডিসপ্লে গ্যালারি নির্মাণ, গ্যালারিগুলোয় বৈদ্যুতিক বাতি সংযোজন, মেঝে সংস্কার, দরজায় গ্রিলসহ বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।৪৯৫ সংস্কারের পর গ্যালারির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ টি। তবে ১১ ও ১২ নং গ্যালারি এখনও সাজানো হয়নি। পূর্ব অংশের দক্ষিণ পাশে গ্যালারির ক্রমিক নম্বর শুরু হয়ে ক্রমশ পূর্বমুখী হয়ে পশ্চিম অংশ ঘুরে এসে দক্ষিণেই শেষ হয়েছে।
গ্যালারি নং-১     :    এখানে আছে সিন্ধু, মহেঞ্জোদারো, মহাস্থান, মঙ্গলকোট, নালন্দা, ময়নামতি ইত্যাদি প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন।
গ্যালারি নং-২    :    চুনামাটি, সিরামিকের তৈরি মুসলিম যুগের নিদর্শন এবং নাটোর, পুঠিয়া, নওগাঁ, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, পাহাড়পুর, যশোর, খুলনার টেরাকোটা।
গ্যালারি নং-৩    :    এখানে আছে ব্রাহ্মণ্য দেবতা ও অপ্রধান দেবতা। সূর্য, শিব, বিষ্ণু, সদাশিব প্রভৃতিতে এ গ্যালারি সমৃদ্ধ।
গ্যালারি নং-৪    :    সৌর ও সূর্য মূর্তিতে এ গ্যালারি সমৃদ্ধ।
গ্যালারি নং-৫    :    এটা বৈষ্ণব গ্যালারি। বিষ্ণু ও বিষ্ণুর বিভিন্ন অবতার দিয়ে গ্যালারিটি সাজানো হয়েছে।
গ্যালারি নং-৬     :    এটা দেবী গ্যালারি। এখানে আছে গঙ্গা, দুর্গা, মনসা,  স্বরস্বতী, রুদ্রানী, চণ্ডী, পার্বতী, কালি ইত্যাদি দেবীর মূর্তি।
গ্যালারি নং-৭    :    বুদ্ধ গ্যালারি। বৌদ্ধ ধর্মের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, বুদ্ধ দেব-দেবী, বোধীসত্ত্ব, জৈন মূর্তিতে গ্যালারিটি সমৃদ্ধ।
গ্যালারি নং-৮    :    এখানে আছে মধ্যযুগের নিদর্শন: শেরশাহী কামান, মেহরাব, পাণ্ডুলিপি, মুদ্রা ইত্যাদি।
গ্যালারি নং-৯    :    মধ্যযুগ থেকে ব্রিটিশ আমলের নিদর্শন। এখানে আছে তামা-কাঁসা-পিতলের জিনিস পত্র, মোগল সম্রাটের ছবি, মসজিদের ছবি, পোশাক, তলোয়ার, কোরআন শরীফ ইত্যাদি।
গ্যালারি নং-১০    :    আবহমান বাংলাদেশ গ্যালারি। আবহমান বাংলাদেশের ম্যুরালে আছে নৌকা, নদী, উদীয়মান সূর্য, গ্রাম বাংলা, বটবৃক্ষ, কৃষককের মডেল। এছাড়াও আছে আদিকাল থেকে বর্তমানের ব্যবহার্য বিভিন্ন জিনিস, নকশী কাঁথা, হাতপাখা, সাঁওতালী অস্ত্র, গহনা ইত্যাদি।
গ্যালারি নং-১১    :    ৮ জুন ২০১৫ তারিখে দেখা যায় গ্যালারিটি প্রদর্শনীর আদল পায়নি।
গ্যালারি নং-১২     :     ৮ জুন ২০১৫ তারিখে দেখা যায় গ্যালারিটি প্রদর্শনীর আদল পায়নি।
গ্যালারি নং-১৩    :    লিপি গ্যালারি। পালযুগ থেকে মুসলিম শাসনামলের বিভিন্ন ধরনের হিন্দু-মুসলিম সংস্কৃতির লিপি। যের, যবর ব্যতীত আরবি অক্ষরের লিপি আছে এ গ্যালারিতে। 
বর্তমানে ২৩ হাজারেরও বেশি অবজেক্ট আছে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে। তার মধ্যে উপ পরিচালক মো.আব্দুস সামাদ সংগ্রহ করেন প্রায় ২০ হাজার। কৃতিত্বের জন্য বাংলা একাডেমি তাঁকে আজীবন ফেলোশিপ ডিগ্রি প্রদান করে। ১৯৭৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি এ জাদুঘরে তাঁর সংগ্রাহক পদে যোগদান কালে সংগ্রহ সংখ্যা ছিল ৩১২২টি। ৮ জুন ২০১৫ তারিখে তিনি উপ পরিচালক পদে এক্সটেনশন দায়িত্ব পালন করছিলেন।৪৯৭
বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে একটি গ্রন্থাগার উন্মুক্ত রেখে শিক্ষা নগরী রাজশাহীর এমফিল, পিএইচডি ও সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী এবং লেখক, গবেষকদের গবেষণা কর্মে সহায়তা করছে। 
এপ্রিল থেকে অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত, নভেম্বর থেকে মার্চ সকাল ১০ টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এবং শুক্রবার দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাদুঘর সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। বৃহস্পতিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষিত ছুটির দিন বন্ধ থাকে। উপ প্রধান সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আব্দুল কুদ্দুস বর্তমান এ জাদুঘরের হার্ড ওয়ার্কার। 
১৯১০ সাল থেকে চলতি ২০১৬ সালে মোট ২৫ জন কীপার, কিউরেটর, প্রশাসক ও পরিচালক এ জাদুঘরের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথম কীপার হলেন রমাপ্রসাদ চন্দ বিএ। 


 

বাম থেকে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, কুমার শরৎকুমার রায় ও রমাপ্রসাদ চন্দ

কীপার/ কিউরেটর/ প্রশাসক/ পরিচালক২২৮
ক্র.নং    নাম    পদবি    কার্যকাল
১.    রমাপ্রসাদ চন্দ- বি. এ.    কীপার    ১৯১০-১৯১৭
২.    ড. রাধাগোবিন্দ বসাক
এম.এ,পি-এইচ.ডি    কীপার    ১৯১৭-১৯১৮-
৩.    ড. উপেন্দ্রনাথ ঘোষাল
এম. এ, পি-এইচ.ডি    কীপার    ১৯১৮-১৯১৯
৪.    ড. রাধাগোবিন্দ বসাক 
এম.এ, পি-এইচ.ডি    কীপার    ১৯১৯-১৯২০
৫.    বিমলাচরণ মৈত্র বি.এল    কীপার    ১৯২০-১৯২১
৬.    সন্তোষ কুমার চট্টোপাধ্যায়
এম. এ, বি.এল.    কীপার    ১৯২১-১৯২২
৭.    কুমার হেমন্ত কুমার রায়    কীপার    ১৯২২-১৯২৫
৮.    ননী গোপাল মজুমদার এম.এ    কিউরেটর    ১৯২৫-১৯২৭
৯.    নীরদ বন্ধু সান্যাল এম. এ.    কিউরেটর    ১৯২৭-১৯৫০
১০.    ড. ইতরাৎ হোসেন জুবেরী
এম.এ, পি-এইচ.ডি    কিউরেটর    ১৯৫০-১৯৫১
১১.    এম. মীরজাহান এম. এ, এ এম    কিউরেটর    ১৯৫১-১৯৫৪
১২.    ডি কে চক্রবর্তী বি. এ.    কিউরেটর    ১৯৫৪-১৯৫৫
১৩.    ড. শেখ গোলাম মকসুদ হিলালী
এ.এ, বি. এল, ডি. ফিল.    কিউরেটর    ১৯৫৫-১৯৫৬
১৪.    এম. মীরজাহান এম.এ, এ.এম.    কিউরেটর    ১৯৫৬-১৯৫৯
১৫.    মুখলেসুর রহমান এম. এ,    কিউরেটর    ১৯৫৯-১৯৬৩
১৬.     ড. এ. আর. মল্লিক 
এম. এ, পি-এইচ.ডি    কিউরেটর    ১৯৬৩-১৯৬৫
১৭.    ড. আবু ইমাম এম.এ, পি-এইচ ডি    কিউরেটর    ১৯৬৫-১৯৬৬
১৮.    প্রফেসর মুখলেসুর রহমান
এম.এ, পি-এইচ.ডি    কিউরেটর 
পরিচালক    ১৯৬৬-১৯৭৪
১৯৭৪-১৯৭৬
১৯.    প্রফেসর আবু ইমাম 
এম.এ, পি-এইচ.ডি    পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত)    ১৯৭৬-১৯৭৬
২০.    প্রফেসর এ বি এম হুসেন
এম.এ, পি-এইচ.ডি    পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত)    ১৯৭৬-১৯৭৭
২১.     প্রফেসর মুখলেসুর রহমান
এম.এ, পি-এইচ.ডি    পরিচালক    ১৯৭৭-১৯৮৬
২২.     প্রফেসর এম কে ইউ মোল্লা
এম.এ, পি-এইচ.ডি    প্রশাসক    ১৯৮৬-১৯৮৮
২৩.     ড. সাইফুদ্দীন চৌধুরী
এম.এ, পি-এইচ.ডি    পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) পরিচালক    ১৯৮৮-১৯৯৫
১৯৯৫-২০০৪
২৪.     মো. জাকারিয়া 
এম. এ, এম.ফিল.    পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত)    ২০০৪-১.১১.২০১১
২৫.    প্রফেসর সুলতান আহমদ
এমএ (ডি.ইউ) এমএ পিএইচডি (এমএসইউ)    পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত)    ২.১১.২০১১-