ফিরে যেতে চান

পদ্মা সাধারণ গ্রন্থাগার মহানগরীর তালাইমারীতে অবস্থিত। ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী এখানে বইয়ের সংখ্যা ৭ হাজার। পত্রিকা ৩২ টি। প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন পাঠক এখানে আসেন। রবিবার ব্যতীত বিকাল ৫টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত পাঠাগারটি খোলা থাকে।৪৭৮ গ্রন্থাগারটি অনিয়মিতভাবে বিভিন্ন আকারের পত্র-পত্রিকাও প্রকাশ করে।

পদ্মা সাধারণ গ্রন্থাগার (উত্তরমুখী, ছবি-জানুয়ারি ২০১৭)

এ গ্রন্থাগারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা আরম্ভ হয় ১৯৭৭ সালের ১৫ অক্টোবর। তবে এর  পূর্বের ইতিহাস আছে। দেশ স্বাধীনের পর শাহ সমাজের ফোরকানীয়া মাদ্রাসায় মুক্তিসংঘ নামে একটি ক্লাব গড়ে উঠেছিল। যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মো. আবু সাইদ, মো. আজিজুল ইসলাম মানিক, মো. এমদাদুল হক, মো. মোশাররফ হোসেন, মো. মজিবর রহমান (মজি), মোস্তাকীম আহমেদ, মো. মোস্তাকীম আলী, মো. খাইরুল আলম প্রমুখ। ১৯৭৩ সালে অ্যাডভোকেট মহসীন খান (হেতমখাঁ) ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সালামের সহযোগিতায় তিন বান্ডিল ঢেউটিন পাওয়া গিয়েছিল। জায়গার অভাবে টিনগুলো ঘরের চাল হতে পারেনি। ১৯৭৭ সালে আফিজুল হক ক্লাবের পরিবর্তে পাঠাগার কারার পরামর্শ দেন। এ প্রস্তাবের ভিত্তিতে ১৯৭৭ সালের ১৫ অক্টোবর তালাইমারী শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মুক্তিসংঘের সভা বসে। তাতে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিসংঘের সভাপতি মো. এমদাদুল হক। ঐ সভাতেই ক্লাব বিলুপ্তি করে পাঠাগার নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পদ্মানদীর নামানুসারে পাঠাগারের নাম দেয়া হয় পদ্মা পাঠাগার। শহীদ মিনার কমিটি নির্মিত দুটি ঘরের একটিতে পাঠাগারের কার্যক্রম শুরু হয়। পাঠাগারের অস্থায়ী কমিটিও গঠিত হয়েছিল। কমিটির সভাপতি ছিলেন মোস্তাকীম আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মো. এমদাদুল হক, অর্থ সচিব মো. আবু সাইদ, দপ্তর সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন মিনু ও গ্রন্থাগারিক মো. আজিজুল ইসলাম মানিক। ১৯৭৮-১৯৭৯ সালে স্থায়ী ম্যানেজিং কমিটি গঠন হয়েছিল। গ্রন্থাগারটিকে পূর্ণাঙ্গ আকৃতি দেয়ার দিক নির্দেশনা ছিল মো. আফিজুল হকের। পরবর্তীতে পদ্মা পাঠাগারের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় পদ্মা সাধারণ গ্রন্থাগার। 
১৯৮০ সালের ১ জানুয়ারি গ্রন্থাগারটি সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত হয়। শহীদ মিনার কমিটি কর্তৃক নির্মিত ঘর দুটি ১৯৮২ সালে গ্রন্থাগার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছিল। এর জায়গাটির প্রকৃত মালিক ছিল এসারুদ্দীন শাহ। জায়গার পরিমাণ ছিল ২ শতক। টিনশেডের ২টি ঘরসহ জায়গাটি গ্রন্থাগারের জন্য ক্রয় করা হয়। পরবর্তীতে নবীর উদ্দীন শাহর নিকট থেকে তিন শতক এবং গত নব্বই দশকে খায়রুল বাসারের নিটক থেকে সাড়ে পাঁচ শতক জায়গা ক্রয় করা হয়। ফলে গ্রন্থাগারের জমির পরিমাণ দাঁড়ায় সাড়ে দশ শতক। ১৯৯২ সালের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোসলেম আলীর সহযোগিতায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে দেড় লক্ষ টাকা অনুদান পাওয়া যায়। ঐ টাকায় অফিস ভবন নির্মাণ এবং আসবাব ও বই কেনা হয়।৪৭৯ ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রন্থাগারটি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ২৫ লাখ ও সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার সহযোগিতায় ১০ লাখ টাকা অনুদান পাওয়া যায়। এ অর্থে পাঁচতলা ভবনের পরিকল্পনায় ভবনের ভিত্তি ও পশ্চিমাংশের একতলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয় ২০১৪ সালের জুনে। ভবনের পূর্ণাঙ্গ কাজ সম্পন্ন করার জন্য ভারতীয় হাই কমিশনের অর্থায়নে দরপত্র আহবান করা হয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৫ লাখ টাকা।৪৭৮ ১৫ জুলাই ২০১৭ তারিখে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল হকের তথ্যানুসারে ভারত সরকারের অর্থায়নে সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট অফ রাজশাহী সিটি থ্রু দ্যা ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড কনজারভেশন অফ সোস্যল, কালচারাল, এনভারমেন্টাল অ্যান্ড হেরিটেজ ইনফারটাকচার্স প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী মহানগরীর ৬টি মঠ সংস্কার, তালাইমারীতে অবস্থিত পদ্মা সাধারণ গ্রন্থাগার সংস্কার, মিয়াপাড়ার রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগারের অডিটোরিয়ামও নির্মাণ হবে।