ফিরে যেতে চান

১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান বিভক্তির পর ভারত থেকে আগতদের আবাসন সমস্যা সামাধানের জন্য সরকার বিশ শতকের পঞ্চাশ দশকে চিন্তা ভাবনা শুরু করে। এ উদ্দেশ্যে হাউজিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট অফিস ষাট দশকের প্রথম দিকেই মোট ২৩০ একর জমি অধিগ্রহণ ও কোয়ার্টার নির্মাণ করে নাম দেয় উপশহর। হাউজিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট অফিস এ অধিগৃহীত জমিকে পরিকল্পনা মাফিক জোন ও প্লট তৈরি করে ১৯৭৮ সালে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি আরম্ভ করে। বর্তমানে উপশহর ১, ২ ও ৩ নম্বর সেক্টরে বিভক্ত। ১৯৭৪ সালে হাউজিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট ৬০.৮ একর জমিসহ ৩৭৮টি স্বল্প মূল্য কোয়ার্টার সেনাবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করে।
রাজশাহী মহানগরীতে উপশহরে হাউজিং ভিত্তিক যে প্লট বরাদ্দ হয় তাই আধুনিক পরিকল্পিত বসতি স্থাপন প্রক্রিয়া। যাদের দ্বারা উপশহর বসতির শুরু হয়েছিল তাদের মধ্যে প্রায় সবাই ছিলেন ভারত থেকে আগত রিফিউজি এবং তাদের বড় একটা অংশ ছিল বিহারী। বর্তমানে তাদের অনেকেই নেই। প্লাটগুলো হাত বদল হয়ে চলে গেছে অন্য জনের নিকট। সে সময় তেমন ভাল বাড়ি ছিল না। এখন উপশহর ছোট বড় আধুনিক দালানে পরিপূর্ণ।৫৭
পদ্মা আবাসিক এলাকা২৮ : মহানগরীর ভদ্রা এলাকায় অবস্থিত পদ্মা আবাসিক এলাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ১৯৭৮ সালে আরম্ভ করে এবং ১৯৯২ সালে শেষ হয়। নিজস্ব অর্থে প্রকল্পের ব্যয় ৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। জমির পরিমাণ ৬১.৪৪ একর। প্লটের সংখ্যা ৬৫৬। সমস্ত প্লটই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
পারিজাত আবাসিক এলাকা ও পার্ক২৮ : রাজশাহী উন্ন্য়ন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থে এ প্রকল্পের কাজ ১৯৯০ সালে আরম্ভ হয়ে ১৯৯৩ সালে শেষ হয়। ব্যয় হয় ১ কোটি ৪৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। জমির পরিমান ১৮ একর । প্লটের সংখ্যা ৫৬। সমস্ত প্লটই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আবাসিক এলাকাটি পদ্মা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন পশ্চিম পাশে অবস্থিত। এর সঙ্গে শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী নামে একটি পার্ক তৈরি করা হয়। পার্কটি ভদ্রাপার্ক নামে পরিচিত। রাজশাহী মহানগরীর অন্যতম চিত্তবিনোদন কেন্দ্র এ পার্কটি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে। (বিস্তারিত জীবনযাত্রা অধ্যায়)
ছায়ানীড়২৮: মহানগরীর বড় বনগ্রামে অবস্থিত। রাজশাহী উন্্নয়ন কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থে স্বল্প আয়ের লোকদের আবাসের জন্য প্রকল্পটি তৈরি করে। এর কার্যক্রম আরম্ভ হয় ১৯৯১ সালে এবং শেষ হয় এবং শেষ হয় ১৯৯৭ সালে। এ প্রকল্পে ব্যয় হয় ২ কোটি ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। জমির পরিমাণ ৯.৯১ একর। প্লটের সংখ্যা ২২৪। সমস্ত প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকা: রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ২০ অক্টোবর ২০০২ তারিখের প্রতিবেদন অনুসারে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে ১৯৯৫-৯৬ সালে এবং ২০০২-২০০৩ সালে শেষ হবার কথা। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থে ব্যয় ধরা হয় ১৪ কোটি ৪৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা। জমির পরিমাণ ৩৬.৩৯ একর। প্লটের  সংখ্যা ৩৯২টি। অবস্থান ভদ্রা এলাকায়।
ছায়বীথি আবাসিক এলাকা: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে এবং সায়েন্স ল্যাবরেটরির পাশে শ্যামসাদিপুরে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থে এই প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ১৯৯৮-৯৯ সালে। ২০ অক্টোবর ২০০২ তারিখের প্রতিবেদন অনুসারে কাজ অব্যাহত ছিল। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৯ কোটি ৫০ লাখ ১৮ হাজার টাকা। জমির পরিমাণ ৪৩.৭৭ একর। প্লটের সংখ্যা ৪৭০টি।
মহানন্দা আবাসিক এলাকা: এখানে ৮.৪ একর জায়গায় ৯৭টি আবাসিক ও ১৩টি বাণিজ্যিক মোট ১১০টি প্লট উন্নয়ন করা হয়েছে। ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। বর্তমানে প্লট গ্রহীতারা বাড়ি নির্মাণ করছেন (বরেন্দ্রের বাতিঘর অগ্রযাত্রার ৫ বছর, রাসিক ২০১৩)।
প্রান্তিক আবাসিক এলাকা: নগরীর পশ্চিম প্রান্তে কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় ১৬.৫০ একর জায়গায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বিশিষ্ট ১৯২ টি প্লট বিশিষ্ট এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ চলছে। প্রকল্পের ব্যয় ৩৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা (বরেন্দ্রের বাতিঘর অগ্রযত্রার ৫ বছর, রাসিক ২০১৩)।
বনলতা বাণিজ্যিক এলাকা২৮ : রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নিজ অর্থে প্রকল্পটি নির্মাণ করে। নওদাপাড়ায় প্রকল্পটির কার্যক্রম আরম্ভ হয় ১৯৭৮ সালে এবং শেষ হয় ১৯৯৫ সালে। জমির পরিমাণ ১৮.৮ একর। বাণিজ্যিক প্লট ১১৭টি। সবই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নির্মাণ ব্যয় ২ কোটি ১৭ লাখ ৫৯ হাজার।
বনলতা বাণিজ্যিক এলাকা সম্প্রসারণ ও আবাসিক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প: ২০.৭১ একর জায়গায় ৬১ কোটি ৫০ লাখ টাকার এ প্রকল্পটিতে ২৬৬ টি প্লট উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে (বরেন্দ্রের বাতিঘর অগ্রযাত্রার ৫ বছর, রাসিক ২০১৩)। 
এ ছাড়াও পূর্বাঞ্চলে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের পূর্ব দিকে বিহাসসহ মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে আবাসিক এলাকা তৈরি হচ্ছে।