ফিরে যেতে চান

বরেন্দ্র গবেষণা লাইব্রেরি

রাজশাহী মহানগরীর হেতমখাঁয়ে অবস্থিত বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরেরই অংশ বরেন্দ্র গবেষণা লাইব্রেরি। কাজী রওশন আলী সম্পাদিত বিভাগ গাইড রাজশাহী (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে লাইব্রেরিটির প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৪৭ উল্লেখ আছে।৩ এ তথ্যের কোন ভিত্তি নাই। কাজী মোহাম্মদ মিছের রাজশাহী ইতিহাস (১ম খণ্ড, ১৯৬৫) গ্রন্থে উল্লেখ করেন, ‘১৯১৯ সালে অনুসন্ধান সমিতির লাইব্রেরিও মিউজিয়াম সম্বন্ধে একটি প্রাইভেট ট্রাস্টি বোর্ড গঠিত হয়। অত:পর এই সালের ২৭ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে তদানীন্তন গবর্ণর লর্ড রোলান্ডসে কর্তৃক মিৃউজিয়ামের দ্বারোঘাটিত হয়।’ তিনি আরো উল্লেখ করেন,‘১৯৬২ সালে মিউজিয়াম চত্বরের উত্তর ধারে স্বতন্ত্র একটি একতলা বিশিষ্ট লাইব্রেরি গৃহ নির্মাণের জন্য পাকিস্তান সরকারের সেন্ট্রাল ও প্রাদেশিক গবর্ণমেন্ট হইতে ৪২,০০০টাকা সাহায্য পাওয়া যায়। এক্ষণে মিউজিয়াম লাইব্রেরিসেই স্থানে স্থানান্তরিত করা হইয়াছে। এই লাইব্রেরি গৃহে প্রায় ৫০ জন ছাত্র অথবা গবেষক একযোগে বসিয়া পড়াশুনা ও গবেষণা কার্য্য করিতে পারেন। তাছাড়া ইহা কখন কখন মিউজিয়ামের বক্তৃতা মঞ্চ হিসাবেও ব্যবহার হইয়া থাকে।’ কাজী মোহাম্মদ মিছেরের রাজশাহী ইতিহাস গ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯৬৫ সালে। সুতরাং ১৯৬২ থেকে ১৯৬৫ সালের মধ্যে লাইব্রেরির জন্য ভবন নির্মিত হয়ে সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছিল।

বরেন্দ্র গবেষণা লাইব্রেরির পাঠ কক্ষ (ছবি-জানুয়ারি ২০১৭)


মিউজিয়ামের পশ্চিম অংশের ভবনের সঙ্গে দক্ষিণ অংশের অ্যানেক্স ভবন নির্মাণের পর ২০১৩ সালের ১ মার্চ লাইব্রেরিটি উত্তরের একতলা ভবন থেকে সেখানে স্থানান্তর হয়। অ্যানেক্স ভবনের দোতলায় লাইব্রেরির অবস্থান। মূলত এটা স্পেশাল রেফারেন্স লাইব্রেরি। ইতিহাস, আঞ্চলিক ইতিহাস, কলা, প্রত্নতত্ত্বের দিক থেকে এ লাইব্রেরি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।৪৯৮ এখানে আছে অত্যন্ত দুস্প্রাপ্য, মূল্যবান গ্রন্থ। লাইব্রেরি গবেষক, লেখক, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীদের রেফারেন্স ও ডকুমেন্ট সার্ভিস দিয়ে থাকে। প্রাচীন বইগুলো সংরক্ষণের জন্য এখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ বা আধুনিক ব্যবস্থা নেই।৪৯৮
গবেষণা কর্মের জন্য এ লাইব্রেরিতে একটি রিডিং রুম আছে। ২০০২ সালে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। ৭ মে ২০১৫ তারিখের তথ্যানুসারে বইয়ের সংখ্যা ১৪১০৬ টি। এখান থেকে অনিয়মিতভাবে প্রত্নতত্ত্বের উপর একটি ইংরেজি জার্নাল বের হয়। এর নাম Journal of the VRM. বর্তমান লাইব্রেরি ইনচার্জ আসলাম রেজা, সহকারী রেজিস্ট্রার খন্দকার শামসুল আরেফিন হালিম, উচ্চমান সহকারী আকলিমা খানম।