ফিরে যেতে চান

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে বঙ্গবন্ধু সিলিকন সিটি নির্মাণ কাজের শিলালিপি উন্মোচন

বঙ্গবন্ধু সিলিকন সিটি মূলত ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইটি) সংশ্লিষ্ট হাইটেক পার্ক। রাজশাহী মহানগরীর কোর্টের পশ্চিমে নবীনগর মৌজার ৪নং ওয়ার্ডের বুলনপুরে বিডিআর ক্যাম্পের পশ্চিমে (জিয়ানগরে) বঙ্গবন্ধু সিলিকন সিটি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। ১৩ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখ শুক্রবার বিকেলে এর নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আহমেদ পলক। এ সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজশাহী মহানগরী শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন (সাবেক মেয়র), পবা-মোহনপুর (রাজশাহী-৩) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও হাইটেক প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজশাহী মহানগরী শাখার সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু সিলিকন সিটি’র ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে সেখানেই আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিন। সিলিকন সিটির চত্বরের আয়তন ৩১.৬৩ একর। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বিওবি’র অর্থায়নে নির্মিত হবে ১০ তলা এমটিবি ভবন এবং ভূমি উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, মানব সম্পদ উন্নয়ন, ইনকুবেশনের ব্যবস্থা। আর বিশ^ব্যাংকের ৪৩ কোটি ১৯ লাখ টাকার ঋণ সহায়তায় অভ্যন্তরীণ রাস্তা, ভূমি উন্নয়নসহ কিছু সহায়ক অবকাঠামো ও ৬২ হাজার বর্গফুটের একটি ৫ তলা আইটি ইনকুবেটর কাম ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ আগামী ৩ বছর। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর ১৪ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আছে।৭৬২ 
বঙ্গবন্ধু সিলিকন সিটি নির্মাণের বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে পাওয়া যায় ২০০৯ সালের শুরুতে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন প্রণীত ‘রাজশাহী মহানগরীর উন্নয়নে বহুমুখী পরিকল্পনা ভিশন ২০১৮’ শিরোনামের ক্রোড়পত্রে নগর দারিদ্র্য দূরীকরণের ক্ষেত্রে আইটি ভিলেজ (ওঞ ঠরষষধমব) স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। ভিশন ২০১৮ এর প্রণেতা তৎকালীন মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন কর্তৃক বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের নিকট প্রেরিত ডিও লেটার থেকে জানা যায়, তাঁদের উভয়ের সঙ্গে ২০০৯ সালের মার্চের মাঝামাঝি পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। ডিও লেটারে মেয়রের স্বাক্ষরের তারিখ ৩০.৩.০৯। এর ডি,ও নং/স্মারক নং রাসিক/মেয়র দপ্তর/০৯/১/ক/২২৮৬/৬/৩৩ তারিখ: ৩০.৩.২০০৯। ডিও লেটারে উল্লিখিত তথ্য থেকে জানা যায়, মহানগরীর পূর্ব অঞ্চলে ১০০ বিঘা চত্বরে অবস্থিত সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে আইটি ভিলেজ নামে হাইটেক পার্কটি স্থাপনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। প্রচেষ্টার এক পর্যায়ে মেয়রের আমন্ত্রণে প্রতিমন্ত্রী ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি নগর ভবনে আসেন। তাঁকে নিয়ে সরিৎ দত্ত গুপ্ত নগর সভা কক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তৎকালীন চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, কাউন্সিলর, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেছিলেন, ‘শিক্ষা নগরী রাজশাহী। এটাই প্রকৃষ্ট স্থান আইটি সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার। এখানে একটি আইটি ভিলেজ স্থাপনের আমার সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।’৭৬৪
প্রচেষ্টার এক পর্যায়ে সরকার প্রকল্প প্রণয়নের কাজ শুরু করে। তবে স্থান ও প্রস্তাবিত নামেরও পরিবর্তন দেখা যায়। প্রকল্প প্রণয়নকালে প্রতিষ্ঠানটির নাম দেয়া হয়েছিল বরেন্দ্র সিলিকন সিটি। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পূর্বে পরিবর্তিত নাম হয় বঙ্গবন্ধু সিলিকন সিটি। হড়গ্রাম বাজার ঢালুর মোড়ের ত্রিমোহনীর পশ্চিম-দক্ষিণ কোণায় রাজশাহী-চাঁপাই নবাবগঞ্জ সড়কের পাশে বরেন্দ্র সিলিকন সিটি নামে একটি সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়। ২০১৬ সালের ১২ আগস্ট দেখা যায় সরকারি মনোগ্রামসহ তাতে লিখা আছে-


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
নির্ধারিত স্থান
বরেন্দ্র সিলিকন সিটি
বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ


২০১৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এর সভায় বঙ্গবন্ধু সিলিকন সিটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির আদলে এ প্রতিষ্ঠান নির্মাণ হচ্ছে। বিভাগীয় শহরসহ বিভিন্ন শহরে মোট ২৮ টি এ ধরনের প্রতিষ্ঠান স্থাপন হবে। যা রাজশাহী দিয়ে শুরু হলো।৭৬২ প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান রাজশাহীর মেসার্স ডন এন্টারপ্রাইজ।৭৬৩
আইসিটি, প্রকৌশল, ইলেক্ট্রনিক্স, টেলিযোগাযোগ, বায়োটেকনোলজি ও অন্যান্য জ্ঞানভিত্তিক শিল্প স্থাপনে বঙ্গবন্ধু সিলিকন সিটি কাজ করবে।৭৬৩