ফিরে যেতে চান

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

 (RUET- Rajshahi University of Engineering & Technology)

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিলুপ্ত প্রধান ফটক

কারিগরি বা প্রকৌশল বিদ্যার সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ১৯৬০ সালে উত্তরবঙ্গে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে। ১৯৬১-১৯৬২ সালে এ জন্য জমি হুকুম দখল করা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে কাজলায়। ১৪৪ একর এ জমির উপর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, রাজশাহী স্থাপন করা হয়।১ কাজী মোহাম্মদ মিছেরের রাজশাহীর ইতিহাস গ্রন্থে জমির পরিমাণ ১৪৪ একর এবং রুয়েটের ২০০৮ সালের সমাবর্তন স্মারকে জমি অধিগ্রহণের উল্লেখ আছে ১৫০ একর। রুয়েটের অধ্যাপক ড. ইকবাল মতিনের মতে ১৫২ একর। ১৯৬৪ সালের আগস্টে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। এর প্রশাসনিক কার্যক্রম হতো কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন আবুল মোহসিন আহমেদ। ১৯৮৬ সালের ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ রাজশাহীসহ দেশের অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলো বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে (বিআইটি) উন্নীত হয়।৪৭১
১৯৯৩ সালে এখানে স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।৩ ২০০২ সালের ১০ মার্চ ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশে’র ৪৬ তম বার্ষিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের ৪টি বিআইটিকে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ঘোষণা দেন।৪৭১ ১৪ জুলাই ২০০৩ জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও গাজীপুর বিআইটিকে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিল পাস হয়।৮২ ২০০৩ সালের ১৯ জুলাই বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত ২০০৩ সালের ৩২ নং আইন মোতাবেক বিআইটি, রাজশাহীকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা হয়।৪৭১
১ সেপ্টেম্বর ২০০৩ তারিখ সোমবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিআইটি’র শেষ পরিচালক ও রুয়েটের প্রথম উপাচার্য ড. কেরামত আলী মোল্লা পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রুয়েটের যাত্রা শুরু করে। ঐ দিন বেলা ১০টায় সিটি মেয়র মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি রুয়েটের নাম ফলক উন্মোচন করেন।৮৩ রুয়েটের অনুষদ ৪টি। অনুষদগুলো পুরকৌশল, তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল, যন্ত্র কৌশল এবং অ্যাপলাইড সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। প্রথম তিনটি অনুষদের ১০টি বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ডিগ্রী প্রদান করা হয়। শেষোক্ত অনুষদের ৪টি বিভাগে শুধু স্নাতকোত্তর ডিগ্রী প্রদান করা হয়। 
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য রুয়েটের আছে একটি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, প্রায় প্রতিটি বিভাগের ল্যাবরেটরী ও কম্পিউটার সেন্টার।
ক্যাম্পাসে একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, শিক্ষকদের আবাসিক এলাকা, সাংস্কৃতিক ও বিনোদন চর্চার স্থান, অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম, পোস্ট অফিস, ব্যাংক, মেডিক্যাল সেন্টার, অগ্রণী বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়, ছাত্রদের জন্য ৫টি ও ছাত্রীদের জন্য ১টি হল আছে। ছাত্রী হলে ১২০ জনের আবাসন সুবিধা আছে। এছাড়া ১টি হল নির্মাণ হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের নামে হলগুলোর নামকরণ করা হয়েছে।১৯৬ হলগুলোর নাম শহীদ লে. সেলিম হল, শহীদ শহীদুল ইসলাম হল, শহীদ আব্দুল হামিদ হল, টিনশেড হল, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হল, দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল। এছাড়া ছাত্রীদের ১টি হল নির্মাণাধীন আছে।৪৭২
২০০৮ সালে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী- বিএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং) ১৬২৩ জন, এমএমসি ইঞ্জিনিয়ারিং ৪৭ জন, এমফিল ২০ জন ও পিএইচডি ৪জন। শিক্ষক ১২৪ জন, অফিসার ৪৭ জন, সহায়ক কর্মচারী ১০৯ জন, সাধারণ কর্মচারী ৮৫ জন।৪৭১