ফিরে যেতে চান

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী

.

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রধান গেট (পূর্বমুখী)

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী মহানগরীর লক্ষ্মীপুরে অবস্থিত। এ বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহম্মদ এলতাসউদ্দিনের আমার আমলের কথা (একটি ভিন্ন স্বাদের স্মৃতিকথা) ৩য় খণ্ড গ্রন্থের তথ্যানুসারে ১৯১৭-১৯১৯ সালের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের (স্যাডলার  কমিশন) তিনটি মৌলিক সুপারিশ ছিল। সেগুলো- ১. ইন্টারমেডিয়েট শাখাকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে পৃথক করা, ২. মাধ্যমিক ও ইন্টারমেডিয়েট শাখার জন্য একটি বোর্ড স্থাপন ও ৩.ঢাকাতে একটি টিচিং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। এ সুপারিশের ভিত্তিতে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড স্থাপন করা হয়েছিল। এ বোর্ডের কার্য পরিধি ছিল ঢাকা শহরকে কেন্দ্র করে ৫ মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে। তাই সীমিত সংখ্যক স্কুল ও ইন্টারমেডিয়েট কলেজ নিয়ে এ বোর্ড ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছিল। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ঢাকা বোর্ডের নামকরণ করা হয় ইস্ট বেঙ্গল সেকেন্ডারী এডুকেশন বোর্ড। তৎকালীন পূর্ব বাংলার সকল মাধ্যমিক স্কুলগুলোকে এ বোর্ডের আওতায় নিয়ে আনা হয়। আর ইন্টারমেডিয়েট শাখাকে পৃথক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল। ১৯৫৫ সালে এ বোর্ডের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় পূর্ব পাকিস্তান সেকেন্ডারী এডুকেশন বোর্ড, ঢাকা। ১৯৫৯ সালে জাতীয় শিক্ষা কমিশনের (শরীফ কমিশন) সুপারিশের ভিত্তিতে ১৯৬১ সালে এক অর্ডিন্যান্স বলে ইন্টারমেডিয়েট কলেজগুলোকে আবারো পূর্ব পাকিস্তান সেকেন্ডারী এডুকেশন বোর্ড, ঢাকা এর আওতায় আনা হয়। ১৯৬১ সালের অর্ডিন্যান্সের কিছু সংশোধন আনা হয় ১৯৬২ সালের ২৮ মে। এ সংশোধনীর প্রেক্ষিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আরো ৩টি বোর্ড স্থাপন করা হয়। খুলনা বিভাগে যশোর, চট্টগ্রাম বিভাগে কুমিল্লা ও রাজশাহী বিভাগের রাজশাহীতে বোর্ড ৩ টি স্থাপন করা হয়েছিল।৬৭০ বাংলাদেশ জেলা গেজেটীয়ার বৃহত্তর রাজশাহী (১৯৯১) গ্রন্থের এ বোর্ড প্রতিষ্ঠার সাল ১৯৬৩ উল্লেখ আছে।২ প্রথমে বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হয় বর্তমান কাজীহাটায় অবস্থিত নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজ ভবনে। কিছু দিন পর লক্ষীপুরস্থ নিজস্ব ভবনে চলে আসে।৩৪৩ চেয়ার-টেবিল না থাকায় পাটি বিছিয়েই বোর্ড প্রাথমিক যাত্রা শুরু করেছিল।৩৪৪ বোর্ডের প্রথম চেয়ারম্যান এমএফ রহমান। 
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক কারিকুলাম ও সিলেবাস তৈরি করা এবং রাজশাহী বিভাগের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাসমূহ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলসমূহের অনুমোদন প্রদান করা হলো এ বোর্ডের কাজ। ২০১০ সাল থেকে এ বোর্ড জেএসসি (জুনিয়ার স্কুল সার্টিফিকেট-৮ম শ্রেণি) পরীক্ষার আয়োজন করে আসছে। ফলে বর্তমানে জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে থাকে। পূর্বে এর কার্যক্রম ছিল উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলায়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোডর্, দিনাজপুর স্থাপনের পর এর কার্যক্রম রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলায় সীমাবদ্ধ।৩৪৩ ২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের যাত্রা হয় এবং ২০০৯ সালে প্রথম এসএসসি পরীক্ষার আয়োজন  করে।৩৪৫ 
২০০৯ সাল থেকে এখানে অনলাইনে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে পাইলট প্রোগ্রাম হিসেবে ১৫ টি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীর অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করা হয়।৫৯৪
এর প্রধান হলেন চেয়ারম্যান। এছাড়াও একজন সচিব, ১জন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা আছেন। বোর্ড বর্তমান স্থানে স্থানান্তর হওয়ার পর ১৯৬৬ সালে কলেজের সূচনা হয়।৮৮ ২১ জুলাই ২০০৫ তারিখের দৈনিক নতুন প্রভাতের তথ্যানুসারে শিক্ষা প্রকৌশল অধীদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এ বোর্ডের ৬ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মিত হয়।