ফিরে যেতে চান

রাজশাহী সিটি প্রাক প্রাথমিক কেন্দ্র

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন প্রাক প্রাথমিক কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশের পূর্বে ৪ থেকে ৫ বছর বয়সের শিশুদের প্রস্তুতিমূলক শিক্ষা প্রদান করে থাকে। বর্তমান মহানগরীর ২, ৩, ৪, ৬, ৮, ৯, ১১, ১২, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২১, ২৩, ২৪, ২৫, ২৮, ২৯ ও ৩০ নং ওয়ার্ডে মোট ২০টি কেন্দ্রে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ১৯ নং ওয়ার্ড ব্যতীত প্রতিটি কেন্দ্রে ‘শিশু বিকাশ শ্রেণি’ ও ‘প্রাক প্রাথমিক শ্রেণি’ চালু রাখা হয়েছে। ১৯ নং ওয়ার্ডে শুধু ‘শিশু বিকাশ শ্রেণি’ আছে। ‘শিশু বিকাশ শ্রেণি’ এর ইংরেজি `Child Promotion Class’,সংক্ষেপে CPC বা সিপিসি। ‘প্রাক প্রাথমিক শ্রেণি’ এর ইংরেজি `Pre-Primary Class’. সংক্ষেপে PPC বা পিপিসি। ১৯ নং ওয়ার্ডে ১ জন ও ২৪ নং ওয়ার্ডে ৩ জন ব্যতীত প্রতিটি ওয়ার্ডের শিক্ষিকা সংখ্যা ২জন এবং সর্বমোট শিক্ষিকা ৪০ জন। এ শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্দেশ্য বয়স অনুযায়ী শিশুদের পরিপূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের মাধ্যমে বিদ্যালয়মুখীকরণের প্রচেষ্টা।  দরিদ্র ও হত দরিদ্র পরিবারের শিশুদের একাডেমিক সিঁড়িতে অন্তর্ভুক্তকরণ ছিল এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য । তবে স্বচ্ছল পরিবারের শিশুরাও এ সব কেন্দ্রে পড়ার সুযোগ পেয়ে আসছে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে সুষ্ঠু তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকার কারণে এ শিক্ষা কার্যক্রমের যথাযথ বিবরণ উপস্থাপন দুঃসাধ্য বলা যায়। বর্তমান কর্মরত শিক্ষিকাদের স্মৃতি কথা ও চলতি নথি থেকে যে সব তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়েছে তা থেকেই এ প্রবন্ধ নির্মাণ। পূর্বে কেন্দ্রগুলোর নির্দিষ্ট নাম ছিল না। এসবিকে ও প্রি স্কুল নামে প্রকল্পের কর্মসূচি ছিল। প্রকল্প বিলুপ্তির পরও এ নামেই ২ টি শ্রেণি চালু রাখা হয়েছিল। এসবিকে পূর্ণাঙ্গ শব্দে আসতো শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও প্রি স্কুলকে বলা হতো প্রাক প্রাথমিক শ্রেণি। ৩১ আগস্ট ২০১৬ তারিখ বুধবার সকাল ১১.০০টায় শিক্ষা উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা স্থায়ী কমিটির ৩য় সভা কেন্দ্র ও শ্রেণি ২টির নতুন নাম রাখার সুপারিশ করে। সুপারিশ: এসবিকে অ্যান্ড প্রি স্কুলের পরিবর্তিত নাম হবে ‘রাজশাহী সিটি প্রাক প্রাথমিক কেন্দ্র’। এর ইংরেজি `Rsjshahi City Pre-Primary Centre’. শ্রেণির নাম এসবিকে এর পরিবর্তে ‘শিশু বিকাশ শ্রেণি’। এর ইংরেজি `Child Promotion Class’, সংক্ষেপে CPC বা সিপিসি। প্রি-স্কুলের পরিবর্তে ‘প্রাক প্রাথমিক শ্রেণি’। এর ইংরেজি `Pre-Primary Class’. সংক্ষেপে  PPC বা পিপিসি। ২০১৬ সালের ১৬ অক্টোবর রবিবার রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ১০ম সাধারণ সভা এ সুপারিশ অনুমোদন দেয়। ২০১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে।
অনুসন্ধানে যা জানা যায়, রাজশাহী মহানগরীতে ১৯৯৪ সালে ‘বস্তি উন্নয়ন প্রকল্প’ এর মাধ্যমে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন সর্ব প্রথম এ উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছিল। মহানগরীর ১৬ নং ওয়ার্ডে ১টি, ১৯ নং ওয়ার্ডে ১টি ও ২৪ নং ওয়ার্ডে ২টি মোট ৪টি কেন্দ্র নিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। সূচনায় এর শ্রেণি বিভক্তি ছিল না। একটি কেন্দ্রে একজন শিক্ষিকা মাত্র এক শিফটে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা নামে বিভিন্ন বয়সের শিশুদের শিক্ষা প্রদান করতো। তাঁদের বর্ণমালা, সংখ্যা ইত্যাদিসহ শিশু শ্রেণির মতো পাঠ দান করা হতো। কেন্দ্রগুলোর শিক্ষার্থী সংখ্যা নির্ধারিত ছিল ৩০ জন। স্থান ভেদে কেন্দ্র ৪টির শিক্ষার্থীর তারতম্য ছিল। এ প্রকল্পের মেয়াদ ১৯৯৭ সালে শেষ হয়ে যাওয়ায় ঐ সালেই আরবান বেসিক সার্ভিস ডেলিভারি প্রকল্প নামে নতুন প্রকল্প শুরু হয়। শিক্ষা কার্যক্রমসহ বিলুপ্ত বস্তি উন্নয়ন প্রকল্পের অন্যান্য কর্মসূচি নতুন প্রকল্পের আওতায় চলে আসে। এ প্রকল্প অব্যাহত ছিল ২০০২ সাল পর্যন্ত। ২০০২ সালে শুরু হয় স্থানীয় অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ প্রকল্প এবং পার্ট-১ ও পার্ট-২ নামে দুই মেয়াদে বাস্তবায়ন হয় ২০১০ সাল পর্যন্ত। ২০১০ সাল থেকে শিক্ষা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল ইএলসিডি (ELCD-Early Learning for Child Development) প্রকল্পে। ইএলসিডি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত থাকাকালেই এ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ব্যয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের অংশগ্রহণ শুরু হয় এবং ২০১৪ সালে ইএলসিডি প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সার্বিকভাবে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।