ফিরে যেতে চান

রাজশাহী সিটি ইউনিভার্সিটি (প্রস্তাবিত)

রাজশাহী সিটি ইউনিভার্সিটি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রস্তাবিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কাঠামো প্রণয়ন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সরেজমিন পরিদর্শনের পর সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এ ইউনিভার্সিটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক গঠিত একটি ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। 
এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ এর তৃতীয় তফসিলের ২৬.১ দফা অনুসারে এ ইউনিভার্সিটি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। মেয়রের আহবানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ড. মুহাম্মদ কায়েস উদ্দিন রাজশাহী সিটি ইউনিভার্সিটি স্থাপনের কাজ শুরু করেন। 
ইউনিভার্সিটি স্থাপনের লক্ষ্যে ২২ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের  বিশেষ সাধারণ সভায় কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তসমূহের মধ্যে ছিল রাজশাহী সিটি ইউনিভার্সিটি স্থাপন, এর জন্য ট্রাস্টি বোর্ড গঠন ও নগর ভবনের পশ্চিম-দক্ষিণ পাশের স্বপ্নচূড়া প্লাজায় ট্রাস্টের কার্যালয় স্থাপন। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সংখ্যা নির্ধারিত হয় ১১ জন। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ও মেয়র এ ট্রাস্টের ফাউন্ডার অথার (Founder Authour)| কর্পোরেশনের অধিকারভুক্ত প্রতিনিধিও প্রয়োজনবোধে ফাউন্ডার অথার (Founder Authour) হিসেবে বিবেচিত হবেন। বিশেষ সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বোর্ডের সদস্যগণের মেয়াদ হবে ৪ বছর অথবা তাঁদের উত্তরাধিকারীগণ মনোনীত হয়ে দায়িত্ব না নেয়া পর্যন্ত। পদাধিকার বলে অন্তর্ভুক্ত সদস্যবৃন্দের অফিস-উত্তরাধিকারীগণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সদস্য হবেন। ট্রাস্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে উল্লেখ করা হয়- ১. রাজশাহীতে একটি মানসম্পন্ন বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনার মাধ্যমে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় স্নাতক, স্নাতক (সম্মান), স্নাতকোত্তর (মাস্টারস, এমফিল, পিএইচডি) পর্যায়ে শিক্ষাদান ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি। ২. শিক্ষা ও প্রশিক্ষণদানের মাধ্যমে মানব সম্পদের উন্নয়ন ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ইউনিভার্সিটির অধীনে/অধিভুক্ত মহাবিদ্যালয়, ইন্সটিটিউট এবং কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা। ৩. প্রস্তাবিত ইউনিভার্সিটির ব্যবস্থাপনায় ও তত্ত্বাবধানে জ্ঞানের অন্বেষণ এবং শিক্ষা ও গবেষণা সম্প্রসারণের সহায়ক অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ। 
উপরোক্ত সাধারণ সভার সিদ্ধান্তের  প্রেক্ষিতে ১১ সদস্যের নিম্নরূপ একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। ১. চেয়ারম্যান (পদাধিকারবলে) এএইচএম খায়রুজ্জামান (লিটন) মেয়র, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন; ২. ভাইস  চেয়ারম্যান (পদাধিকারবলে) সরিফুল ইসলাম বাবু, প্যানেল মেয়র-১ ও কাউন্সিলর, ওয়ার্ড নং-১২, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন; ৩. সদস্য (পদাধিকারবলে) প্রফেসর ড. মুহাম্মদ কায়েস উদ্দিন, উপাচার্য (প্রস্তাবিত), রাজশাহী সিটি বিশ্ববিদ্যালয়; ৪. সদস্য (পদাধিকারবলে) মো. আজাহার আলী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন; ৫. সদস্য (বিশিষ্ট সমাজসেবী হিসেবে চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত) প্রফেসর রুহুল আমিন প্রামাণিক; ৬. সদস্য (বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হিসেবে চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত) প্রফেসর ড. অরুণ কুমার বসাক, প্রফেসর ইমেরিটাস, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়; ৭. সদস্য (সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর হিসেবে চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত) মিসেস সুফিয়া ইসলাম, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসন নং ৬, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন; ৮. সদস্য (পদাধিকারবলে, সভাপতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং স্বাস্থ্য রক্ষা ব্যবস্থা স্থায়ী কমিটি) মো. মখলেসুর রহমান খলিল, কাউন্সিলর, ওয়ার্ড নং-২৬, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন; ৯. সদস্য (পদাধিকারবলে, সভাপতি, অর্থ ও সংস্থাপন বিষয়ক স্থায়ী কমিটি) আব্দুল হামিদ সরকার, কাউন্সিলর, ওয়ার্ড নং-২২, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন; ১০. সদস্য (পদাধিকারবলে সভাপতি, নগর অবকাঠামো নির্মাণ ও সংরক্ষণ স্থায়ী কমিটি) মো. শহিদুল ইসলাম পিন্টু, কাউন্সিলর, ওয়ার্ড নং-৩০, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন; ১১.সদস্য (পদাধিকারবলে, সচিব, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন) কে এম আব্দুস সালাম। ২২ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখের বিশেষ সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে রাজশাহী সিটি ইউনিভার্সিটি নির্মাণের অনুমতি চেয়ে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের নিকট ১৩ নভেম্বর ২০১১ তারিখে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজাহার আলীর স্বাক্ষরে একটি পত্র প্রেরণ করা হয়। যার স্মারক নং রাসিক/সাপ্রশা/১১/১/ক/২৯৪৩/২৫০৫, তারিখ ১৩.১১.২০১১। এ পত্রের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় একটি পত্রে রাজশাহী মহানগরীর অভ্যন্তরে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার শর্তে রাজশাহী সিটি ইউনিভার্সিটি নামে একটি মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন প্রদান করে। যার স্মারক নং-৪৬.০৭০.০০৯.০০.০০.০৫৬.২০১১-৯২,তারিখ ১২.১.২০১২ । 
মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রাপ্তির পর রাজশাহী সিটি ইউনিভার্সিটি (Rajshahi City University) নামকরণের অনুমোদনের জন্য সচিব যৌথ মূলধন কোম্পানী ও ফার্মসমূহের বিভাগীয় দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার বরাবর একটি পত্র প্রেরণ করেন। যার স্মারক নং রাসিক/সাপ্রশা/১২/১/ক/২৯৪৩/৫৪, তারিখ ৯.১.২০১২। এ পত্রের প্রেক্ষিতে কিছু প্রক্রিয়া শেষে উক্ত অফিস Rajshahi City University Trust নিবন্ধন করে। অবশ্য ট্রাস্ট এ্যাক্ট ১৮৮২ অনুযায়ী গঠন ও সোসাইটিজ অ্যাক্ট ১৮৬০ অনুযায়ী রাজশাহী সিটি ইউনিভার্সিটি (Rajshahi City University) নিবন্ধনের জন্য যৌথ মূলধন কোম্পানী ও ফার্মসমূহের দপ্তরের নিকট সচিব কেএম আব্দুস সালামের স্বাক্ষরে আরো একটি পত্র প্রেরণ করা হয়েছিল। যার স্মারক নং- ৪৬.০৩.৬১০০-০০৩.০৩.২৯৪৩.১৩.১২২৩, তারিখ ৩/৬/১৩।
১৪ মার্চ ২০১৩ তারিখে রাজশাহী সিটি ইউনিভার্সিটির বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভাতেই মেয়র ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের সভাপতির প্রস্তাবে ড. মুহাম্মদ কায়েস উদ্দিনকে উপাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মুশফিক আহম্মদকে উপ উপাচার্য ও প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আনিসুর রহমানকে ট্রেজারের পদে নিয়োগ দানের জন্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ^বিদ্যালয়সমূহের চ্যান্সেলর সমীপে প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। রাজশাহী সিটি ইউনিভার্সিটির সাময়িক অনুমতি প্রাপ্তির আবেদন পত্র স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণেরও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সভা। প্রাথমিক পর্যায়ে উপ উপাচার্যের নিয়োগের বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান সজলের নাম আলোচিত হলেও তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়ায় একই বিভাগের প্রফেসর ড. মুশফিক আহম্মদকে উপ উপাচার্য নিয়োগ প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) স্মারক নং- ইউজিসি/বে:বি:/৬৬২/২০১৩/ ৪৫১৭, তারিখ ২০ মে ২০১৩ এর পত্রের মাধ্যমে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. আতফুল হাই শিবলীসহ দু’সদস্যের একটি দল ৩১ মে ২০১৩ তারিখে সকাল ১১.০০ টায় শুক্রবার নির্মণাধীণ স্বপ্নচূড়া প্লাজায় ইউনিভার্সিটি স্থাপনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এরপর রাজশাহী সিটি ইউনিভার্সিটির কাগজ পত্রাদি ইউজিসির নির্ধারিত ফরম পূরণ করে স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। যার স্মারক নং-৪৬.০৩.৬১০০.০০৩.০৩. ২৯৪৩-১৩.৭২৭/ক, তারিখ ৩০মার্চ ২০১৩। পত্রটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর মেয়র ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন প্রেরণ করেন।  স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি কর্পোরেশন-২ শাখা) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পত্রের মাধ্যমে অগ্রায়ণ করে। যার স্মারক নং-৪৬.০০.০০০০.০১১.১৮.০১৭.১২.-২১৮, তারিখ ২৫ এপ্রিল ২০১৩ । এরপর মেয়র, প্রস্তাবিত ভিসি, প্রস্তাবিত প্রোভিসি ৫ মে ২০১৩ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কাঠামোটি শিক্ষা মন্ত্রী  নুরুল ইসলাম নাহিদের নিকটও তাঁর দপ্তরে হস্তান্তর করেন। ঐ যাত্রায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সচিব কেএম আব্দুস সালামও ছিলেন। তবে কাঠামো হস্তান্তরের সময় তিনি মন্ত্রীর কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। 
প্রেরিত কাঠামোই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অবকাঠামো শর্ত অনুসরণ করে নগর ভবনের পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নির্মাণাধীন স্বপ্নচূড়া প্লাজায় ৩ হাজার বর্গফুট স্পেস রাজশাহী সিটি ইউনিভার্সিটির জন্য নির্ধারণ করা হয় এবং স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য পৃথক জায়গায় ৫.৫৮ একর জমি বরাদ্দ রাখা হয়। 
প্রাথমিক পর্যায়ে মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান, বিজনেস স্টাডিজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান নামের  পাঁচটি অনুষদে বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান ও সমাজ কর্ম, আইন ও বিচার, ব্যবসায় প্রশাসন, কম্পিউটার সায়েন্স এণ্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুড সায়েন্স অ্যাণ্ড টেকনোলজি, ফার্মেসি, জনস্বাস্থ্য মোট ১১টি বিভাগ নির্ধারণ করা হয়। 
রাজশাহী সিটি ইউনিভার্সিটি স্থাপন কার্যক্রমের প্রাথমিক পর্যায়ে ড. মুহাম্মদ কায়েস উদ্দিনের কাজে সহযোগিতা করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন সচিব কেএম আব্দুস সালাম (ক্যাডার উপ-সচিব)। প্রথমে নগর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৭ নং সচিবের কক্ষে বসেই কার্যক্রম শুরু করেছিলেন ড. মুহাম্মদ কায়েস উদ্দিন। এ কক্ষে তিনি কাগজ-পত্রাদি তৈরির প্রয়োজনে সচিবের চেয়ারটি সরিয়ে অন্য একটি চেয়ার বসিয়ে কি বোর্ড ও মাউস ক্লিক করতেন। পরবর্তীতে একই ফ্লোরের পূর্ব পাশের ২১০ নং কক্ষটি খালি থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কার্যক্রম সচিবের কক্ষ থেকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়। কক্ষটি পূর্বে ব্যবহার করতেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আশরাফুল হক। তিনি ২৪ মার্চ ২০১১ তারিখে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী হয়ে প্রধান প্রকৌশলীর ২১৪ কক্ষে চলে গেলে কক্ষটি ফাঁকা ছিল। এ কক্ষেই ২০১১ সালে বরেন্দ্র বাতিঘর অগ্রযাত্রার ৩ বছর গ্রন্থ প্রণীত হয় । তারপর প্রথমে একজন স্টাফসহ ড. মুহাম্মদ কায়েস উদ্দিনের বসার ব্যবস্থা করা হয় সেখানে। এ স্টাফের নাম মো. রেজাউল করিম। রেজাউল রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ প্রশাসনিক শাখার দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী ছিলেন। এখানে তিনি উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের দায়িত্ব পালন করতেন। এর কিছুদিন পর সাধারণ প্রশাসনিক শাখার স্থায়ী এমএলএসএস মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে এখানে নিযুক্ত করা হয়েছিল। এ কক্ষেই বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের সার্বিক কাগজ-পত্র প্রস্তুতির কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছিল।
২০১৩ সালের ১৫ জুন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে পরিষদে পরিবর্তন আসে। এ নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তিনি ২০১৩ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র সরিফুল ইসলাম বাবুর নিকট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তৎকালীন অস্থায়ী সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা ও প্রস্তাবিত রাজশাহী সিটি মিউজিয়ামের অস্থায়ী কিউরেটর মো. আনারুল হক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে রাজশাহী সিটি ইউনিভার্সিটি ও রাজশাহী সিটি মিউজিয়ামের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগতি করলে তিনি উভয় প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সভা আয়োজনের পরামর্শ দেন। মেয়রের পরামর্শ মোতাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজাহার আলী ও সচিব কেএম মাসুদুজ্জামানের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাবিত রাজশাহী সিটি ইউনিভার্সিটি ও প্রস্তাবিত রাজশাহী সিটি মিউজিয়ামের বিষয়ে মেয়রের দপ্তরে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রস্তাবিত উপাচার্য ড. মুহাম্মদ কায়েস উদ্দিন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজাহার আলী, সচিব কেএম মাসুদুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল হক, জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী আমিরুল করিম, মো. আনারুল হকসহ আরো কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। ঐ সভায় সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তাঁর সহযোগিতায় রাজশাহী সিটি ইউনিভার্সিটি অনুমোদনের উদ্দেশ্যে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। তবে এ ব্যাপারে আর অগ্রগতি হয়নি। এর কিছুকাল পর অনিবার্য কারণে রাজশাহী সিটি মিউজিয়ামের জন্য বরাদ্দ ২১১ নং কক্ষ থেকে মো. আনারুল হককে ছেড়ে দিতে হয় এবং রাজশাহী সিটি ইউনিভার্সিটির জন্য বরাদ্দ ২১০ কক্ষে তাঁর অফিসিয়াল কাজ অব্যাহত রাখেন। সচিবের নির্দেশে তিনি এ কক্ষে আসেন। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখের সকালে এখান থেকেও তাঁকে স্থানান্তর করা হয়। 
এর মধ্যে সচিব কেএম মাসুদুজ্জামান ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি সিটি কর্পোরেশনের শেষ অফিস করেন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকের পদে বগুড়ায় বদলি হয়ে যান। তখন ২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি হতে ৩ ফেব্রুয়ারি  সচিবের দায়িত্ব পালন করেন ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মো. মাহাবুবুর রহমান। সচিব হিসেবে পদাধিকার বলে তিনি প্রস্তাবিত রাজশাহী সিটি ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য। ফলে ২১০ নং কক্ষে সংরক্ষিত প্রস্তাবিত রাজশাহী সিটি ইউনিভার্সিটির আলমারির চাবিও তাঁর কাছে চলে যায়। ২০১৫ সালের ২২ মার্চ তিনি রাজস্ব কর্মকর্তার দায়িত্ব পান। তখন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজাহার আলীর নির্দেশে ম্যাজিস্ট্রেটের বেঞ্চ সহকারী হাবিব আনারুলকে রাজশাহী সিটি ইউনিভার্সিটির আলমারির চাবির গোছা ১৮ জুন ২০১৫ তারিখে বুঝিয়ে দেন। অন্য এক গোছা চাবি পূর্বে থেকে রেজাউলের কাছে ছিল। এভাবে রাজশাহী সিটি ইউনিভার্সিটির অস্তিত্ব টিকে থাকে। 
এক সময় রাজশাহী মহানগরী সম্পর্কিত ইতিহাসমূলক গ্রন্থ রচনার জন্য প্রস্তাবিত উপাচার্যের পিএ’র দায়িত্ব পালনরত মো. রেজাউল করিমকে ও জামাল নামের একজন অফিস সহায়ককে একটি গ্রন্থ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে আনারুলের কাছে বদলি করা হয়েছিল। আর অফিস সহায়ক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সাধারণ প্রশাসনিক শাখায়। গ্রন্থ প্রণয়নের কাজ বন্ধ হয়ে পড়ায় রেজাউলকে ২৪ নং ওয়ার্ড কার্যালয়ে বদলি করা হয়। 
৭ মে ২০১৫ তারিখে মেয়র বুলবুল সাময়িক বরখাস্ত হলে প্রশাসনিক দায়িত্বে আবারো পরিবর্তন আসে। ২০১৫ সালের ২ জুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র হন ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. নিযাম উল আযীম। তখন সিটি ইউনিভার্সিটির বিষয় তাঁকেও জানানো হয়। প্রস্তাবিত উপাচার্য, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য প্রফেসর রুহুল আমিন প্রামাণিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও বলা হয়। এ সব কাজে সক্রিয় ছিলেন আনারুল, রেজাউল ও সাবেক সচিব কেএম আব্দুস সালামের ভাই মতিন। মতিনকে প্রস্তাবিত ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা পদে নিয়োগের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। উপাচার্যের তালাইমারির পুনর্ভবা বাড়িতে একদিন চার জনের মত বিনিময় হয়। হতাশ উপাচার্যকে রাজি করিয়ে রাজশাহী সিটি মিউজিয়াম ২১১ কক্ষে একটা মতবিনিময় সভা হয়। সেখানে উপাচার্য, প্রস্তাবিত উপ উপাচার্য, প্রফেসর রুহুল আমিন প্রামাণিক, প্রফেসর ইদ্রিস, আনারুল, রেজাউল ও মতিন উপস্থিত ছিলেন। এ সভায় সবাই ঐকমত্যে পৌঁছায় ইউনিভার্সিটির বর্তমান অগ্রগতির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুসন্ধান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়রের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সহযোগিতা প্রাপ্তির জন্য তাঁর সঙ্গে জরুরী সাক্ষাৎ করারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়রের দপ্তরের কক্ষে একটা সভারও আয়োজন করা হয়। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র, উপাচার্যসহ কয়েকজন কর্মকর্তাও ছিলেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়রের সঙ্গে আরো কয়েক বার আলোচনা হয়। তবে সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সঙ্গেও আলোচনা হয়। তবে ইউনিভার্সিটি স্থাপনের অগ্রগতি হয়নি।