ফিরে যেতে চান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হলো দেশের দ্বিতীয় প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়। জ্ঞান অন্বেষণে আসা তরুণ-তরুণীর উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত মতিহারের নৈসর্গিক হরিৎ চত্বরে গড়ে ওঠা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আছে এক বর্ণিল ইতিহাস ও রাজশাহীর মানুষের অবদান। তাঁদেও মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যায়ের স্বপ্নদ্রষ্টা মাদার বখ্শ ও ডক্টর ইতরাৎ হুসেন জুবেরীর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান হবার পর তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের সব কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছিল। কিন্তু রাজশাহী কলেজকে একটা বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবি উঠেছিল স্যার মাইকেল স্যাডলার কমিশনের যুক্তি দিয়ে। রাজশাহী তথা উত্তর বঙ্গের রাজা, জমিদার ও জনসাধারণের প্রয়াসেই ১৯১৭ সালের স্যাডলার কমিশন উত্তর বঙ্গের অধিবাসীরদের  উচ্চ শিক্ষার জন্য রাজশাহীতে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উপযুক্ত স্থান হিসেবে রাজশাহীকে পছন্দ করেছিলেন।৯০ কিন্তু পূর্ববঙ্গে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি প্রবল হয়ে উঠার ফলে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জন্ম লাভ করে এবং রাজশাহীর কথা চাপা পড়ে যায়।  

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ২৯ বছর পর ১৯৫০ সালের ১০ এপ্রিল রাজশাহী কলেজের ২৪তম প্রিন্সিপ্যাল হয়ে আসেন ড. ইতরাৎ হুসেন জুবেরী। তিনি পাকিস্তান আন্দোলনের সঙ্গে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। সেই সুবাদে তাঁর একটা উল্লেখযোগ্য পরিচিতি ছিল মুসলিম লীগের উপর মহলে। রাজশাহী এসেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর উদ্যোগের কারণেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ অনেকটা সুগম হয়েছিল এবং তা প্রসারিত করেন মাদার বখ্শ।
১৯৫০ সালের ১৮ অক্টোবর রাজশাহী মেডিক্যাল স্কুলের ছাত্র ভর্তির সিলেকশন কমিটির বৈঠকে রাজশাহীর তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এমদাদ আলী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন আকন্দ, পৌরসভার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাদার বখ্শ প্রমুখ ব্যক্তির উপস্থিতিতে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ ডক্টর জুবেরী প্রসঙ্গক্রমে বলেন, রাজশাহী কলেজে গভর্নমেন্ট যে গ্রান্ট দিয়ে থাকেন, তদুপরি যদি আরও দেড় লক্ষ বা দুই লক্ষ টাকা গ্রান্টের ব্যবস্থা করা হয় তবে অনায়াসে রাজশাহীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা যাবে।৯১ এ কথার  প্রেক্ষিতে উপস্থিত ব্যক্তিদের নবচেতনার সৃষ্টি হয় এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন আকন্দ মাদার বখ্শকে অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণে অনুরোধ করেন। মাদার বখ্শ তাঁর চরিত্রগত মাধুর্য ও দৃঢ়তার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা যায়; তার সমাধানে মরিয়া হয়ে উঠেন। ডক্টর জুবেরী ও তিনি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করেন। পরিকল্পনাটা নিয়ে তিনি উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানের নেতৃবর্গ, শিক্ষাবিদ, স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও জনসাধারণের সাথে আলোচনা করেন। এর ফলে বিভিন্ন মহলে সন্তোষজনক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় ১৯৫০ সালের ১৫ নভেম্বর রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার খোরশেদের সভাপতিত্বে রাজশাহী কলেজ কমন রুমে স্থানীয় ইউনিয়ন বোর্ড সদস্যদের এক সম্মেলন আহবান করা হয়। এ সম্মেলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পনা প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে সমর্থিত ও গৃহীত হয়। তারপর বিভাগীয় কমিশনার খোরশেদকে পৃষ্ঠপোষক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এমদাদকে সভাপতি, মাদার বখ্শ ও ডক্টর জুবেরীকে যুগ্ম সম্পাদক, ট্রেজারী অফিসারকে কোষাধ্যক্ষ এবং স্থানীয় এমএলএ ও ইউনিয়ন বোর্ড সদস্যদের সমন্বয়ে সর্বমোট ৬৪ সদস্যের একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন হয়। ১৯৫১ সালে মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাবীবুল্লাহ বাহার রাজশাহীতে এলে তাঁদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী  এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বিল প্রণয়নের জন্য স্পেশাল অফিসারের পদ সৃষ্টি করে ড. জুবেরীকে ঢাকায় সেক্রেটারিয়েট নিয়ে যান। উত্তরাঞ্চলের প্রতি সরকারের বিমাতা সুলভ আচরণ এবং কোনো কোনো মহলের মতভেদ ও উস্কানীমূলক ষড়যন্ত্রের চাপে সরকার অতি কৌশলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শিথিল নীতি অবলম্বন ও বানচালের চেষ্টা চালালে বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি সরকারের সাথে চ্যালেঞ্চ করে ১৯৫১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাজশাহী ঈদগাহ্ ময়দানে উত্তরবঙ্গের মুসলিম লীগ সদস্য ও এমএলএদের সমন্বয়ে এক কনভেনশন অধিবেশন আহবান করে। প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ আবুল হাশিমের সভাপতিত্বে কনভেনশনে মাদার বখ্শ সরকারের প্রতি কঠোর ভাষায় হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, যদি রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন না করা হয়, তবে উত্তরবঙ্গকে একটি স্বতন্ত্র প্রদেশ বলে দাবি করতে আমরা বাধ্য হবো। পরবর্তীতে পূর্বপাক মুসলিম লীগের সেক্রেটারি শাহ আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে রাজশাহীতে মুসলিম লীগের সদস্যদের বিষয় নির্ধারণ সমিতির অধিবেশনেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি সর্ব সম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। অবশেষে সরকারের টনক নড়ে এবং বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হয়। ডক্টর জুবেরী কর্তৃক প্রস্তুতকৃত বিশ্ববিদ্যালয় বিলটি ১৯৫২ সালের ১ নভেম্বর স্পীকার জনাব আব্দুল হামিদ চৌধুরীর নির্দেশে আইন পরিষদের অধিবেশন পাঠ করে শোনানো হয়। ১৯৫৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ভুবন মোহন পার্কের একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন এমএলএ আলহাজ আব্দুল হামিদ। সভায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে বক্তব্য রাখেন এমএলএ ইদ্রিশ আহম্মদ। এমএলএ আমীর আলী, বাবু প্রভাষ চন্দ্র লাহিড়ী, খোরসেদ আলম, ছাত্র নেতা আনসার আলী, আব্দুল জব্বার প্রমুখ। আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠলে ১৫ জন ছাত্র কারাবন্দি হন।৮৪
বহু ঘাত-প্রতিঘাত অতিক্রম করে মাদার বখ্শের বিশেষ প্রচেষ্টায় সরকার ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ প্রাদেশিক বাজেট অধিবেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট পাস করে ডক্টর আইএইচ জুবেরীকে প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ করেন এবং তিনি ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই কার্যভার গ্রহণ করেন।৯১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন

১৬১ জন ছাত্র-ছাত্রী ও মুষ্টিমেয় শিক্ষক নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ক্লাস শুরু হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী কলেজে। শুরুতে খোলা হয়েছিল সাতটি বিভাগ: ইংরেজি, ইতিহাস, দর্শন, অর্র্থনীতি, গণিত, আইন এবং ডিপ্লোমা ইন-এডুকেশন। সর্ব প্রথমে সার্কিট হাউস ও রাজশাহী কলেজের বিলুপ্ত বসন্ত কুমার কৃষি ইনস্টিটিউটে অস্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্য আরম্ভ হয়। পরে স্থানীয় বড় কুঠি হুকুম দখল করে ১৯৫৫ সালে তার নিচের তলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসাদি স্থানান্তর হয় এবং উপর তলা চ্যান্সেলরের বাসগৃহে রূপান্তরিত করা হয়।১ বড় কুঠিপাড়ার তৎকালীন ভোলানাথ বিশ্বেশ্বর হিন্দু একাডেমিতে  চিকিৎসা কেন্দ্র, ক্লাস রুম ও পাঠাগার স্থাপন করা হয়। বড়কুঠি পাড়ার মাতৃধাম নামের একটি গৃহে কলেজ পরিদর্শক দপ্তর স্থাপন হয়। সার্কিট হাউসের দক্ষিণে অবস্থিত একটি বাড়িতে (বর্তমান স্কুল) মনোবিজ্ঞান বিভাগ স্থাপন হয়। শহরের বিভিন্ন স্থানে  ভাড়া করা বাড়িতে গড়ে উঠে ছাত্রাবাস। রাজশাহী কলেজে অবস্থিত ফুলার হোস্টেলকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রাবাসে রূপান্তরিত করা হয়। বড়কুঠি পাড়ার লালকুঠি ভবন এবং অন্য একটি ভাড়া করা গৃহে ছাত্রীনিবাস স্থাপিত হয়। বর্তমানের মতিহার চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬১ সালে। এখানে এক সময় ছিল একটা নীল কুঠি। ১৯১৪ সাল নাগাদ নীলকুঠির মালিকরা তাদের জায়গা-জমি, ঘর-বাড়ি বিক্রি করে চল যান। এক ব্যক্তি অনেক জায়গা জুড়ে গড়ে তোলেন আম বাগান । ৭৪৩ একর এ জমির উপর গড়ে ওঠে অস্ট্রেলীয় ইঞ্জিনিয়ার ড. সোয়ানী টমাস এর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরম স্থাপত্য পরিকল্পনা।
অপূর্ব সৌন্দর্যের নির্মাণ প্রণালী আর সুপরিকল্পিত বিন্যাসে গড়ে ওঠা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯৮.২০ হেক্টর সবুজ শীতল ভূমিতে খাড়া হয়ে আছে জ্ঞান বিকাশের সুদৃশ্য ভবনসমূহ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পশ্চিম লাগা সবুজ ভূমির ধার ছুঁয়ে সগৌরবে বীরদর্পে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভাস্কর্য সাবাস বাংলাদেশ; যা নির্মাণ করেছেন খ্যাতনামা ভাস্কর নিতুন কুণ্ডু। সাবাস বাংলাদেশের পিছনে আধুনিক মডেলের সিনেট ভবন। প্রধান ফটকের সড়ক ছুঁয়েছে সরাসরি প্রশাসনিক ভবন। আর প্রশাসনিক ভবনের সামনের চত্বরেই চিরশায়িত আছেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রাক্তন রীডার ও প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা। তিনি ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পাক বাহিনীর গুলিতে শাহাদৎ বরণ করে আমাদের জাতীয় ইতিহাসে  জায়গা করে নেন। প্রশাসন ভবনের পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে অবস্থান করছে উপাচার্যের বাসভবন। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের পশ্চিম দিকে ছাত্রীদের হল ও শিক্ষকদের বাসভবন।
একাডেমিক ভবন ১২টি। আবাসিক হল ও ডরমিটরির সংখ্যা ১৭টি। এর মধ্যে ছাত্র ১১টি, ছাত্রী ৫টি, গবেষকদের জন্য ১টি। ছাত্রদের হল মতিহার, শের-ই-বাংলা ফজলুল হক, শাহ্ মখদুম, নবাব আব্দুল লতিফ, সৈয়দ আমীর আলী, শহীদ শামসুজ্জোহা, শহীদ হবিবুর রহমান, মাদার বখ্শ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শহীদ জিয়াউর রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল। ছাত্রী হল মন্নুজান, রোকেয়া, তাপসী রাবেয়া, বেগম খালেদা জিয়া, রহমতুন্নেসা। ডরমিটরি শহীদ মীর আব্দুল কাইয়ুম। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে হলগুলোর অবস্থান। মূল প্রশাসন ভবনের পূর্ব-দক্ষিণ কোনা বরাবর ব্যাংক ভবন, প্রশাসন ভবন-২। তাঁর পূর্বে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। প্রশাসন ভবনের পূর্ব দিকে শহীদ মিনার, মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রহশালা, ক্যাফেটেরিয়া একই কমপ্লেক্সে। ক্যাফেটেরিয়ার পশ্চিমে রাকসু ভবন, কাজী নজরুল ইসলাম কেন্দ্রীয় মিলনায়তন। ক্যাম্পাসের পশ্চিমাংশে শিক্ষক কর্মচারীদের আবাসিক ভবন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল। শেখ রাসেল মডেল স্কুল মমতাজ উদ্দিন কলা ভবনের পশ্চিমে। মেইন গেইট ঢুকেই পূর্ব পাশে প্রাচীন নীল কুঠি। তার সঙ্গেই বিএনসিসির অফিস। ক্যাম্পাসে আছে স্টেডিয়াম, সুইমিংপুল, অন্যান্য খেলার সুবিধা, মেডিক্যাল সেন্টার, টিএসসি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত ডিগ্রি 
স্নাতক (অনার্স): বিএ, বিএফএ, বিপিএ, বিএসসি, বিফার্ম, এলএলবি, বিবিএ, বিএসএস, বিএসসি এজি, বিএসসি ফিশারিজ।
স্নাতক: বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং, বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি, বিএসসি ইন নার্সিং, বিএসসি (পোস্ট বেসিক) নার্সিং/পাবলিক হেলথ নার্সিং, বিএসসি ইন মেডিক্যাল টেকনোলজি (ল্যাবরেটরি/ডেন্টাল)। 
স্নাতকোত্তর: এমএ, এমএফএ, এমপিএ, এমএসসি, এমফার্ম, এলএলএম, এমবিএ, এমএসএস, এমএস এজি, এমএস ফিসারীজ, এমএড, এমপিএস।
বৃত্তিমূলক: এমবিবিএস, বিডিএস, ডিভিএম।
স্নাতকোত্তর (চিকিৎসা): এমফিল, এমএস, এমডি, এমপিএইচ, ডিপ্লোমা।
উচ্চতর: এমফিল, পিএইচডি।
অন্যান্য: সার্টিফিকেট ইন ল্যাংগুয়েজেস, সিনিয়র সার্টিফিকেট ইন ল্যাংগুয়েজেস, পোস্ট প্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন, পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন ইনফরমেশন টেকনোলজি। 
অনুষদ ও বিভাগ: ৯টি অনুষদে মোট ৫০ টি বিভাগ অন্তর্ভুক্ত। 
কলা: স্থাপন ১৯৫৩, বিভাগ ১১টি। দর্শন ১৯৫৩, ইতিহাস ১৯৫৪, ইংরেজি ১৯৫৪, বাংলা ১৯৫৫, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১৯৫৬, ভাষা ১৯৬২, আরবী ১৯৭৮, চারুকলা ১৯৯৪, ইসলামিক স্টাডিজ ১৯৯৫, সঙ্গীত ২০০০, নাট্যকলা ২০০০।
আইন: স্থাপন ১৯৫৩, বিভাগ ১টি। আইন ১৯৫৩।
বিজ্ঞান: স্থাপন ১৯৫৬, বিভাগ ৮টি। গণিত ১৯৫৪, পদার্থ বিজ্ঞান ১৯৫৮, রসায়ন ১৯৫৮, পরিসংখ্যান ১৯৬১, প্রাণরসায়ন ও অণু প্রাণবিজ্ঞান ১৯৭৪, ফার্মেসী ১৯৯০, পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ১৯৯৬, ফলিত গণিত ২০০২। 
চিকিৎসা: স্থাপন ১৯৫৮। অধিভুক্ত মেডিক্যাল, ডেন্টাল ও নার্সিং কলেজ। এমবিবিএস, বিডিএস ও নার্সিং কোর্স।
বিজনেস স্টাডিজ: স্থাপন ১৯৭২, বিভাগ ৫টি। হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা ১৯৭২, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ১৯৭২, মার্কেটিং ১৯৮১, ফাইন্যান্স ১৯৮১, ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স ২০১৪।
সামাজিক বিজ্ঞান: স্থাপন ১৯৮৫, বিভাগ ১০টি। অর্থনীতি ১৯৫৪, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ১৯৬৩, সমাজকর্ম ১৯৬৪, সমাজ বিজ্ঞান ১৯৬৯, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ১৯৯২, ইনফরমেশন সায়েন্স এন্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট ১৯৯৩, লোক প্রশাসন ১৯৯৩, নৃবিজ্ঞান ১৯৯৮, ফোকলোর ১৯৯৮, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ২০১৪।
জীব ও ভূবিজ্ঞান: স্থাপন ১৯৫৬, বিভাগ ৬টি। ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা ১৯৫৫, মনোবিজ্ঞান ১৯৫৬, উদ্ভিদবিজ্ঞান ১৯৬৩, প্রাণিবিদ্যা ১৯৭২, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা ১৯৭৫, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি ১৯৯৬।
কৃষি: স্থাপন ২০০০, বিভাগ ৪টি। এগ্রোনোমী এন্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন ২০০০, ফিশারীজ ২০০০, এনিম্যাল হাজবেন্ড্রি এন্ড ভেটেরিনারি সায়েন্স ২০০৪, ক্রপ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ২০০৫। 
প্রকৌশল: স্থাপন ২০০৯, বিভাগ ৫টি। ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ও ইলেকট্রোনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ১৯৬৬, ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল ১৯৬৭, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ১৯৯৩, ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং ২০০০, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ২০০৪। 
অনুষদ ভেঙ্গে নতুন অনুষদ এবং বিভাগ ভেঙ্গে নতুন বিভাগ সৃষ্টির কারণে অনেক অনুষদ সৃষ্টির পূর্বে তার অন্তর্ভুক্ত ডিপার্টমেন্ট সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্টির সালগুলো ওভাবেই পাশে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান ৩৯টি এর মধ্যে ১৭টি সরকারি ও ২২টি বেসরকারি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ৩৩২০০ জন (প্রায়)। শিক্ষক ১১৩১ জন। মোট কর্মচারী- ২৪০১ জন।৫১২
ছাত্র শিক্ষকদের শিক্ষা ও গবেষণা সুবিধার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর লাইব্রেরি, বিভাগীয় সেমিনার গ্রন্থাগার, ইনস্টিটিউট এবং অনুষদ লাইব্রেরি, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর ও লাইব্রেরি, কম্পিউটার সেন্টার, অডিটোরিয়াম ইত্যাদি। সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বের উন্নয়ন ও ছাত্র-ছাত্রীদের মেধার উন্নয়নের স্বার্থে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও প্রকাশনার সুবিধা আছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটসমূহ গবেষণা জার্নাল, মনোগ্রাফ, সেমিনার প্রসিডিং পাঠ্যপুস্তক ইত্যাদি প্রকাশ করে থাকে। খেলা ও চিত্তবিনোদনের জন্য আছে শিক্ষক-ছাত্র সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, জিমনেশিয়াম, সুইমিংপুল, স্টেডিয়াম, ফুটবল, ক্রিকেট ও হকি মাঠ, বাস্কেটবল কোট ইত্যাদি। 
সুবর্ণ জয়ন্তী: ২০০৩ সালের ২১-২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সুবর্ণ জয়ন্তী পালিত হয়। এটাই দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েল সর্ব প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে সুবর্ণ জয়ন্তী পালন।১২৪ প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সুবর্ণ জয়ন্তীর উদ্বোধন করেন। একই দিনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম ছাত্রী হলের ভিত্তি প্রস্তরও  স্থাপন করেন।১২৬  

জননেতা অ্যাডভোকেট মাদার বখশ ও প্রফেসর ইতরাৎ হোসেন জুবেরী