ফিরে যেতে চান

রাজশাহী চারুকলা মহাবিদ্যালয়

রাজশাহী চারুকলা মহাবিদ্যালয়৭৮

রাজশাহী আর্ট কলেজ ভবন, সিরোইল (পশ্চিমমুখী)

১৯৯৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর টিভি সম্প্রচার কেন্দ্রের সামনে কাজীহাটার একটি ভবনে মাসিক ২৫০০ টাকার ভাড়ার একটি ভবনে রাজশাহী চারুকলা মহাবিদ্যালয় বা রাজশাহী আর্ট কলেজের অঙ্কুরোদগম হয়। ১৯৯৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর কলেজ সংলগ্ন ইয়াংকিং চাইনিজ রেস্টিুরেন্ট চত্বরে কলেজটি উদ্বোধন করা হয়। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ শিল্পী এসএইচ আজাদ। আরো চার শিল্পী ইমরুল কায়েস তপন, মুসলিমা হাফিজ চৌধুরাণী, এনামুল হক ও সুলতানা রেহেনা চৌধুরীর উদ্যোগ ও মহানগরীর গুণীজনদের  সহযোগিতায় এ কলেজ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।৭৮
তবে কলেজটি স্থাপনের আরো কিছু ঘটনা আছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এ কলেজ নির্মাণের পূর্বে ঘোড়ামারায় সাংবাদিক মুস্তাফিজুর রহমানে খানের বাড়িতে একটি কমিটি গঠন ও ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে আর্ট একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এখানে ৮ম শ্রেণি পাস শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। তবে এখানে কোনোশিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়নি। পরবর্তীতে এ আর্ট একাডেমি বিলুপ্ত করে অলকার মোড়ে নোশিন আর্ট স্কুল কক্ষে ১৯৯৭ সালে ‘ফজলুর রহমান আর্ট কলেজ’ নামে একটি কলেজের বীজ উদগত হয়। এখানে ২০/২৫ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়। ২ বছর পর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বরেন্দ্র আর্ট কলেজ। তবে এ নামে কলেজটি দীর্ঘায়ু হয়নি। কলেজটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ছিলেন রাজশাহী আর্ট কলেজের বর্তমান সহকারী অধ্যাপক শিল্পী শেখ আব্দুস সাত্তার। তাঁর অনুরোধেই সৈয়দ ফজলুর রহমান কলেজটি স্থাপনের নেতৃত্বে আসেন ও অধ্যক্ষ পদ গ্রহণ করেন। উপাধ্যক্ষ হন শেখ আব্দুস সাত্তার। এ কলেজের  শিক্ষক হিসেবে যোগদানের বিষয়ে সৈয়দ ফজলুর রহমানের সঙে বর্তমান রাজশাহী আর্ট কলেজের সহকারী অধ্যাপক ইমরুল কায়েস তপনের মনোমালিন্য ঘটে। এ ঘটনায় ইমরুল কায়েস তপন ক্ষুব্ধ হন এবং আর একটি কলেজ স্থাপনের উদ্যোগী হয়ে উঠেন। নতুন কলেজ স্থাপনের উদ্দেশ্যে তিনি শিল্পী এসএইচ আজাদসহ প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগণকে সংগঠিত করেন। তাঁদের প্রচেষ্টায় স্থাপিত হয় রাজশাহী আর্ট কলেজ। শিল্পী এসএইচ আজাদ নতুন কলেজের অধ্যক্ষের পদ গ্রহণ করেন। তাই বলা যায় রাজশাহী আর্ট কলেজের উদ্যোক্তা ইমরুল কায়েস তপন ও বিকাশের কারিগর শিল্পী এসএইচ আজাদ। সৈয়দ ফজলুর রহমানের অসুস্থতাসহ আরো কিছু কারণে রাজশাহী আর্ট কলেজ স্থাপনের পর বরেন্দ্র আর্ট কলেজের ব্যবস্থাপনা ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে। এ প্রেক্ষাপটে শিল্পী এসএইচ আজাদ শিল্পী শেখ আব্দুস সাত্তারকে রাজশাহী আর্ট কলেজে যোগদানের অনুরোধ জানান। তাঁর পরামর্শে শেখ আব্দুস সাত্তার ২০০৩ সালে রাজশাহী আর্ট কলেজে যোগদান করলে বরেন্দ্র আর্ট কলেজের যবনিকা ঘটে। বরেন্দ্র আর্ট কলেজের যবনিকার সময় তাঁর অধ্যক্ষ ছিলেন লতিফুর রহমান মণি। সৈয়দ ফজলুর রহমান অসুস্থ হওয়ার কারণে উপাধ্যক্ষ শিল্পী শেখ আব্দুস সাত্তারকে অধ্যক্ষর দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকায় তিনি দায়িত্ব গ্রহণে অসম্মতি জানালে লতিফুর রহমান মণিকে অধ্যক্ষ নিযুক্ত করা হয়েছিলেন।৭৭১ 
২০০১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী আর্ট কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার খান শাহাব উদ্দিন ও জেলা প্রশাসক একেএম শামসুদ্দিনের সহযোগিতায় প্রশাসনের অধীনস্থ ঢাকা বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণে সিরোইলে জে ৪২ নম্বরের বাড়িটি এ কলেজের নামে লিজ হিসেবে বরাদ্দ দেয়া হয়। বর্তমানে এখানেই অবস্থিত। ২০০২ সালের ১ মে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। শিক্ষার্থীরা তত্ত্বীয় বিষয় বাংলা, ইংরেজি, সভ্যতার ইতিহাস ও সমাজতত্ত্বর পাশাপাশি ব্যবহারিক বিষয়ে স্কেচ, পেইন্টিং, গ্রাফিক্স, ভাস্কর্য মডেলিং, ড্রইং, মৌলিক নকশা, পরিপ্রেক্ষিত ও লেটারিং অধ্যয়ন করে। শিক্ষার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের  অধীনে ৫ বছরের কোর্সের প্রথম ২ বছর মেয়াদী এইচএসসি সমমানের বিএফএ (প্রাক) ডিগ্রি এবং বিএফএ (প্রাক) উত্তীর্ণ হয়ে স্নাতক সমমানের ৩ বছর মেয়াদী বিএফএ (পাস) ডিগ্রিতে অধ্যয়ন করতে হয়।৭৮