ফিরে যেতে চান

রাজশাহী চারু ও কারু কলা মহাবিদ্যালয়

১৯৭৮ সালে রাজশাহী চারু ও কারু কলা মহাবিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সর্বপ্রথম চারুকলা চর্চা শুরু হয়। রাজশাহীতে আর্ট কলেজ স্থাপনের ভাবনা এসেছিল শিল্পী আশফাকুল আশেকিনের মাথায়। ১৯৬৮ সালে বর্তমান জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি শিল্পী জয়নুল আবেদিনকে রাজশাহীতে একটি আর্ট কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রদর্শনীটি উদ্বোধন করেছিলেন জয়নুল আবেদিন। প্রদর্শনীতে ৬২ ফুট লম্বা একটি ছবি প্রদর্শন হয়েছিল। জয়নুল আবেদিন সে সময় ঢাকা আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ ও আশফাকুল আশেকীন ছিলেন তাঁর ছাত্র। ঐ প্রদর্শনীতে শিশু শিল্পী এমএ কাইউমসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এর দশ বছর পর রাজশাহী রিসার্চ মিউজিয়ামে ১৯৭৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর চিত্র শিল্পী কামরুল হাসান রাজশাহী চারু ও কারু কলা মহাবিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন। শিল্পী এস এম সুলতান, শিল্পী রফিকুন নবী, শিল্পী হাসেম খানসহ মোট ২২ জন চিত্র শিল্পী ঢাকা থেকে এসে এ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। মহাবিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ (টিটি কলেজ) ভবনের কয়েকটি কক্ষে।
মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন শিল্পী বনিজুল হক। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কামাল লোহানী, সহ-সভাপতি ভাষা সৈনিক একরামুল হক ও অ্যাডভোকেট মহসীন খান, সম্পাদক এমএ কাইউম, যুগ্ম সম্পাদক লুৎফে আলম ও আসাদুল ইসলাম আসাদ, কোষাধ্যক্ষ মীর্জা রফিকুর রশীদ, সদস্য অধ্যাপক এলতাস উদ্দীন আহমেদ, বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামের পরিচালক ড. মখলেসুর রহমান, ভাষা সৈনিক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম চৌধুরী, শিল্পী আশফাকুল আশেকীন, শিল্পী আমিনুর রহমান, ফজলুর রহমান, শিল্পী শাহাদৎ হোসেন বাদশা প্রমুখ মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অবদান রাখেন।৩৫৭
প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ শিল্পী বনিজুল হক এ কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালান। রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ভবনে কয়েকটি কক্ষে এ কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরে মেহেরচণ্ডীতে এর ভবন নির্মিত হয়। ১৯৮৪ সালের দিকে কলেজটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলে যায়। ১৯৯৪ সালের নভেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটাকে চারুকলা বিভাগের রূপদান করে।