ফিরে যেতে চান

রাজশাহী কোর্ট মহাবিদ্যালয়

রাজশাহী কোর্ট মহাবিদ্যালয়ের দক্ষিণ দিকের একাডেমিক ভবন

রাজশাহী কোর্ট মহাবিদ্যালয় রাজশাহী কোর্ট স্টেশনের উত্তরে বর্তমান ২নং ওয়ার্ডের হড়গ্রাম পূর্বপাড়ায় অবস্থিত। এর যাত্রা শুরু হয়েছিল নৈশ কলেজ নামে রাজশাহী কোর্টের পূর্ব পাশে বুলনপুরে অবস্থিত পিটিআই ভবনে। পরবর্তীতে রাজশাহী কোর্ট একাডেমিতে স্থানান্তর হয়। তৎকালীন ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী এএইচএম কামারুজ্জামান কলেজটি প্রতিষ্ঠায় সহযোগী ভূমিকা পালন করেছিলেন। সূচনায় কলেজের সম্পাদক ছিলেন ডা. মজিবর রহমান। সূচনার ৩ বছর পর ১৯৭৫ সালে কলেজটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কোর্ট অঞ্চলের কতিপয় সচেতন গুণীজনের প্রচেষ্টায় ১৯৮৪ সালে রাজশাহী কোর্ট একাডেমিতেই পুনরায় কলেজের কার্যক্রম আরম্ভ হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রফেসর সাইদুর রহমান, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুস সামাদ, অধ্যাপক দাউদ আলী, মো. সিদ্দিকুর রহমান, আইনজীবী মো. একলাকুর রহমান, হড়গ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বারী উল্লেখযোগ্য। এ সময় অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন জয়নাল আবেদীন (অবসরপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার) এবং সম্পাদকের দায়িত্বে এসেছিলেন একিউএম ফজলুল হক। জয়নাল আবেদীনের পর অধ্যক্ষ হন আব্দুস সামাদ। তখন প্রতিষ্ঠানটি নৈশ মহাবিদ্যালয় হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর নিকট থেকে পাঠদানের অনুমোদন লাভ করে। এরপর অধ্যক্ষ পদে আসেন অনিল কুমার সাহা। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৬ সালে রাজশাহী নৈশ মহাবিদ্যালয়ের পরিবর্তে রাজশাহী কোর্ট কলেজ নাম ধারণ করে বর্তমান স্থানে আসে। এ সালের ১ জানুয়ারি কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। অনিল কুমার সাহা অধ্যক্ষ থেকে পদত্যাগ করলে কিছুকাল ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন যথাক্রমে প্রফেসর মোহাম্মদ আলী ও মো. শফিকুর রহমান বাদশা। পরে অধ্যক্ষ নিয়োগপ্রাপ্ত হন মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি অব্যাহতি গ্রহণের পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন যথক্রমে প্রফেসর ফজলুল হক ও মো. শফিকুর রহমান বাদশা। ২০০০ সালের ২৭ নভেম্বর মো. শফিকুর রহমান বাদশা অধ্যক্ষ নিয়োগপ্রাপ্ত হন। 
২০১১ সালের প্রসপেক্টাসের তথ্যানুসারে ১৯৯৫ সালে মহাবিদ্যালয়টি ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত হয়। ২০১১ সালে অনার্স কোর্স চালু হয়। বাংলা, অর্থনীতি, সমাজ বিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে অনার্স পড়ানো হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা বিএ (অনার্স), বিএসএস (অনার্স), বিএ, বিএসএস, বিবিএ  ডিগ্রি এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মানবিক, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এইচএসসি সার্টিফিকেট অর্জন করতে পারে।
 বেশ বড় আয়তনের এ মহাবিদ্যালয় চত্বরে আছে উত্তর ও পূর্বমুখী দুটি ত্রিতল ভবন, দক্ষিণমুখী একটি টিনশেড ভবন ও টিনশেডের একটি সাইকেল গ্যারেজ।৬৮৭
২৪ জুলাই ২০১৬ তারিখে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন মো. পারভেজ আলম। মোট শিক্ষক সংখ্যা ৫৫ জন ও কর্মচারী ১০ জন। মহাবিদ্যালয়টি ১১ সদস্যের গভর্নিং বডি দ্বারা পরিচালিত হয়। গভর্নিং বডির বর্তমান সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।৬৮৬