ফিরে যেতে চান

শাহ্ মখদুম ডিগ্রি কলেজ ভবন (উত্তরমুখী)

পদ্মার তীরে মহানগরীর দরগাপাড়ায় চিরশায়িত আউলিয়া হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) এর নামানুসারে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নাম শাহ্ মখদুম ডিগ্রি কলেজ। পদ্মার তীরে মহানগরীর শেখের চকে নাটোর রোডের দক্ষিণ পাশ ঘেঁষে এর অবস্থান। জায়গাটি ছিল পুঠিয়ার পাঁচ আনি জমিদারির সিংহদ্বার বিশিষ্ট কাচারি বাড়ি। নতুন নতুন ভবন নির্মাণের ফলে কাচারি বাড়িটি নেই। তবে নব নির্মিত দ্বারে সিংহ মূর্তিটিকে স্থাপন করা হয়েছে। মহানগরীর বিশিষ্ট সমাজ সেবক, লেখক, সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, অবসরপ্রাপ্ত অনারারী ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ আব্দুস সামাদের প্রচেষ্টায় কলেজটির সূচনা হয় ১৯৬৯ সালের ১৫ আগস্ট। মুহম্মদ আব্দুস সামাদ জাতীয় নেতা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের চাচা।
প্রথমে কলেজের কার্যক্রম শুরু হয় হেতমখাঁর মুসলিম হাই স্কুলে। জেলা প্রশাসক খোন্দকার আসাদুজ্জামান কলেজ পরিচালনা কমিটির প্রথম সভাপতি ও মুহম্মদ আব্দুস সামাদ প্রথম সম্পাদক ছিলেন। মুসলিম হাই স্কুলের পর হোমিওপ্যাথি কলেজে কিছুদিন এর কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। পরবর্তীতে বর্তমান স্থানে আসে। তখন সিংহদ্বার বিশিষ্ট কাচারি বাড়ি ভগ্নাবস্থায় ছিল। কাচারী বাড়িটি মাসিক ভাড়ায় ইজারা নেয়া হয়েছিল। তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী নূরুন নবী চাঁদের সহযোগিতায় সরকার ১০১ টাকায় প্রতীকী মূল্যে কলেজের নিকট কাচারি বাড়ি বিক্রি করে দেয়।  এক্ষেত্রে  তৎকালীন  ভূমি মন্ত্রী মইদুল ইসলামের ইতিবাচক ভূমিকা ছিল। এরপর বিএনপি সরকার ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলে বিজ্ঞান ভবনটি নির্মাণ এবং কলেজের নিজস্ব তহবিল ও স্থানীয় ব্যক্তিদের অনুদানে পূর্ব দিকের তিনতলা ভবনের কাজ শুরু হয়।
কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ ছিলেন মুসলিম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. একতাফুর রহমান।৬৮৪ এরপর পর্যায়ক্রমে অধ্যক্ষ হন তোফাজ্জল হোসেন, মোল্লা সোহরাবুল আহসান, ড. মোহা. তসিকুল ইসলাম রাজা ও বর্তমানে আছেন মুহম্মদ আমিনুর রহমান। ২০০১ সালে ড. মোহা. তসিকুল ইসলাম রাজা জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কলেজ শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক লাভ করেছিলেন। তিনি অধ্যক্ষ থাকাকালীন একাডেমিক কার্যক্রম ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন । বিভিন্ন কারণে নিম্নমুখী কলেজটিকে তিনি ইতিবাচক পথে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। তাঁর উদ্যোগে কলেজে স্থাপন হয় এসএম আব্দুল লতিফ কম্পিউটার ল্যাবরেটরী, ছাত্রীদের কমনরুম, মসজিদ, শহীদ মিনার ইত্যাদি। 
কলেজের বর্তমান গভর্নিং বডির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য (রাজশাহী-২) ফজলে হোসেন বাদশা। এ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীরা মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা এবং ডিগ্রি (পাস কোর্স) পর্যায়ে বিএ, বিএসএস, বিবিএস ও বিএ (অনার্স) পড়তে পারে।৬৮৫