ফিরে যেতে চান

নওদাপাড়া আম চত্বরের পূর্ব দিকে বাইপাস রোডের উত্তরপাশ সংলগ্ন জায়গায় বরেন্দ্র সরকারি কলেজের অবস্থান। ১.৫ একর কলেজ ক্যাম্পাসের ৪ তলা ভবনে মোট ২০টি কক্ষ আছে। কলেজটি পূর্বে ছিল গভ. কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট, রাজশাহী । সরকারি নির্দেশনায় ২০১৬ সালের ১২ মে বরেন্দ্র সরকারি কলেজ নামে সাধারণ কলেজে পরিণত হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটির বয়স আধা শতাব্দীরও বেশি। প্রথমে ১৯৬৫ সালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গভ. কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট, রাজশাহী নামে একই ক্যাম্পাসে সূচনা হয়েছিল। এনাম কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ১৯৮৪ সালে গভ. কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পায় এবং রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে সাহেব বাজার মালোপাড়ার একটি ভাড়াবাড়িতে চলে আসে। তখন একাডেমিক কার্যক্রম চলে যায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার অধীনে। এ সময় শিক্ষার্থীরা কোর্স শেষে ডিপ্লোমা ইন বিজনেস স্টাডিজ সার্টিফিকেট (Diploma in Business Certificate) অর্জন করতো। গভ. কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ ব্যাচের একাডেমিক কোর্স শেষ হবে ২০১৭ সালে। এ কারণে তাঁরা এখনও নবযাত্রার বরেন্দ্র সরকারি কলেজেই নিয়মিত আছে। তাঁদের সংখ্যা ১২০ জন।

বরেন্দ্র সরকারি কলেজ (দক্ষিণমুখী)


গভ. কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ অধ্যক্ষ মো. শামসুজ্জোহা বরেন্দ্র সরকারি কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ হবার ঐতিহাসিক সুযোগ লাভ করেছেন। ২০১৬ সালের ২ আগস্টে দেখা যায় তিনিই দায়িত্ব পালন করছেন। বরেন্দ্র সরকারি কলেজ ২০১৬-২০১৭ শিক্ষা বর্ষে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় গ্রুপের একাদশ শ্রেণি নিয়ে যাত্রা আরম্ভ করে। ২০১৬ সালের ২ আগস্টে জানা যায় বিজ্ঞানের ছাত্র-ছাত্রী ১০০ জন, মানবিকে ১০৭ জন ও ব্যবসায় শিক্ষায় ৬৯ জন। কলেজের শিক্ষকের সৃষ্ট পদ ৮ জন। তারমধ্যে ৭ জন কর্মরত। এছাড়াও রাজশাহী কলেজ থেকে ২ জন ও সিটি কলেজ থেকে ৩ জন শিক্ষক এখানে সংযুক্ত হয়েছেন। ১ জন আছেন বদলিজনিত শিক্ষক। ফলে এখানে সর্বমোট ১৪ জন শিক্ষক নিয়োজিত আছেন। নতুনভাবে যাত্রা শুরুর কারণে এ কলেজে গজিয়ে উঠেছে নানান সমস্যা। যেমন- বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকের অভাব। প্রয়োজনীয় শ্রেণি ও অন্যান্য কক্ষ, লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরী নেই। এছাড়াও একই নগরে একই নামে দুই কলেজ হওয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষ পড়েছেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। তাঁদেরকে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন জনের কাছে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যদিও এর জন্য তাঁরা মোটেও দায়ী নন। ভর্তির সার্কুলার দেখে অনেকে ঘোড়ামারার বরেন্দ্র কলেজে গিয়ে হয়রানি হচ্ছে। রিক্সাওয়ালারাও বরেন্দ্র কলেজ বললে সেখানেই পোঁছে দিচ্ছে।৭৩৪
এ সব সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরেন্দ্র সরকারি কলেজের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। বর্তমানে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনও পরিবর্তন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট আছে। উভয় কলেজের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসসহ এ সব সমস্যা ও সমাধানের দিক নির্দেশনামূলক একটি প্রবন্ধ লিখেন এ গ্রন্থের লেখক আনারুল হক আনা। প্রবন্ধটি রাজশাহী থেকে প্রকাশিত দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় ২২ আগস্ট ২০১৬ তারিখে প্রকাশিত হয়।