ফিরে যেতে চান

মুসলিম নারী শিক্ষার পৃথক প্রতিষ্ঠান রাজশাহী বহুমুখী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়

বিংশ শতাব্দীর শুরুতেও এখানে মুসলমান মেয়েেেদর শিক্ষা-দীক্ষার জন্য উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান ছিলনা। সম্ভ্রান্ত মুসলিম মেয়েদের পর্দার বাইরে যাওয়াকেও নিন্দার কাজ হিসেবে বিবেচিত হতো। নানান অসুবিধার কারণে পিএন বিদ্যালয়ে তাঁরা শিক্ষার সুুযোগ থেকে বঞ্চিত হতো। সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়েরা পরিবারের খানকায়ে বা দহলিজে বা আপন আপন বাড়িতে মুন্সি, মৌলবীর মাধ্যমে আরবি, ফারসি প্রভৃতি শিক্ষা গ্রহণ করতো। কিন্তু নারী শিক্ষার ব্যাপক সম্প্রসারণে এ রীতির অবসান ঘটতে শুরু করে। মুসলমান মেয়েদের শিক্ষার প্রয়োজন অনুভব করার ফলে জনৈক পারভেজ আলীর দহলিজে সর্বপ্রথম ১৫/২০ জন মুসলিম ছাত্রীকে নিয়ে মক্তব আকারে একটি বালিকা বিদ্যালয়ের গোড়াপত্তন হয়।  ২০১২ সালের ডিসেম্বরে এ বিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১৯২৫ সালে মক্তব আকারে বিদ্যালয়টি চালু হয়েছিল। ১৯২৬ সালে জুনিয়র বালিকা মাদ্রাসায় উন্নীত হয়। সরকারি, বেসরকারি ও স্থানীয় মিউনিসিপ্যালিটির আর্থিক সাহয্যে অগ্রগতি লাভ করে। ১৯৫৭ সালের ১৫ জানুয়ারি এ বিদ্যালয়টিই উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের গৌরব অর্জন করে। এর বর্তমান নাম রাজশাহী বহুমুখী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি যে ভবনে অবস্থান করছে পূর্বে সেটা রাজশাহী মোহামেডান সমিতির কার্যালয় ছিল। বিদ্যালয় সম্প্রসারণের প্রয়োজনে সমিতি বিদ্যালয়কে দান করে এবং একে কেন্দ্র করেই বিদ্যালয় সম্প্রসারণসহ সুপ্রতিষ্ঠা লাভ করে। 

রাজশাহী বহুমুখী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের পশ্চিমমুখী গেট

বিদ্যালয়টি মুসলিম নারী শিক্ষার উদ্দেশ্যে জন্ম লাভ করলেও এখন সব ধরনের বালিকাই শিক্ষা লাভ করছে। এর প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা বিখ্যাত সমাজকর্মী মরহুম পারভেজ আলী। এছাড়া জেলা স্কুল পরিদর্শক মরহুম বসির উদ্দিন, মরহুম মওলানা আবেদ আলী খান, তদানীন্তন এমএলসি খান বাহাদুর ইমাদ উদ্দীনের  বিশেষ অবদান আছে।
বর্তমানে এখানে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১৬০০ জন ছাত্রী অধ্যয়ন করে। শিক্ষক সংখ্যা মোট ৩৩ জন। এর মধ্যে ১৮ জন স্থায়ী ও ১৫ জন খণ্ডকালীন।৩১২