ফিরে যেতে চান

কৃষ্ণকান্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

কৃষ্ণকান্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুলতানাবাদ

কৃষ্ণকান্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সুলতানাবাদ মহল্লায় ১৯০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মহনগরীর শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রবন্ধে আকবারুল হাসান মিল্লাতের তথ্যানুসারে,  স্কুলটি ‘পান্থশালা’ নামে স্থাপন হয়েছিল।৭৭৫ শহরের প্রখ্যাত দানশীল জমিদার কৃষ্ণকান্ত সাহা প্রথমাবস্থায় স্থানটিতে বেশ কয়েকটি পাকা ঘর নির্মাণ করেন। এ ঘরগুলি পান্থশালা নামে অভিহিত। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ নাগাদ এগুলো নির্মাণ করা হয়। সে সময়ে সুলতানাবাদের উত্তর দিক থেকে শুরু করে টানা ৬ মাইল ঘন আমগাছসহ ঝোপঝাড়ে পরিপূর্ণ ছিল। তখন রেল লাইন নির্মিত হয়নি। একটি কাঁচা রাস্তা নওহাটা পর্যন্ত ছিল। শহর থেকে বারাহী নদী পথে বায়া হয়ে নওহাটা যাতায়াত করতেন ব্যবসায়ীগণ। রাত্রে বাঘ এবং ডাকাতের ভয় ছিল। নওহাটা, বায়া, কৃষ্ণগঞ্জ, মুশরইল, নওদাপাড়া এ সকল এলাকা থেকে রাজশাহী শহরে (রামপুর বোয়ালিয়া) আগত মানুষজন কাজ শেষে বাড়ি ফিরতে বিলম্ব হলে শহরেই থেকে যেতে হতো। সন্ধ্যার পর এরা ঝুঁকি নিতেন না এ পথে বাড়ি যেতে। এ সকল মানুষের দিকে দৃষ্টি রেখে পান্থশালা নির্মিত হয়েছিল। পান্থশালা স্থাপনের সাথে পুরাতন আমলের মুসাফির খানা, সেবাশ্রম ইত্যাদির কথা চলে আসে। রাজশাহীতে এরূপ প্রথম সেবাশ্রম গঠিত হয়েছিল ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে। তাহিরপুরের জমিদার চন্দ্র শেখরেশ্বর সেবাশ্রমটি স্থাপন করেন। বহিরাগত মানুষজন এখানে এসে বিনা মূল্যে থাকা এবং খাবারের সুবিধা পেতেন। ইতোমধ্যে আশেপাশে লোকবসতি বেড়ে গেলে পান্থশালায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। সম্পূর্ণ এলাকার পরিমাণ এক বিঘারও বেশি। দীর্ঘদিন স্থানীয়ভাবে পরিচালিত হবার পর ১৯৫৪ সালে মিউনিসিপ্যালিটি স্কুলটির দায়িত্ব গ্রহণ করে। এর পূর্বে স্কুলের উত্তর-পশ্চিম পার্শ্বের সামান্য কয়েক শতক জায়গা নিয়ে গড়ে উঠে লাঠিয়াল মণ্ডপ। এখানে অনুশীলন সমিতির লাঠিখেলার প্রশিক্ষণ হতো। পরবর্তীতে এখানে পাকা ঘর নির্মিত হয়। এখন সেখানে নিয়মিত পূজা অর্চনা হয়। স্কুলের সম্মুখের মাঠটি আগাগোড়াই ছিল স্কুলের সম্পত্তি। এটি মানুষের দখলে চলে গেছে। জানা গেছে স্কুলের মাঠ নিয়ে আদালতে মোকদ্দমা চলছে। ১৯৭১ সাল অবধি এ স্কুলের যাবতীয় কাগজপত্র শহরের প্রথিতযশা আইনজীবী বীরেন্দ্রনাথ সরকারের নিকট গচ্ছিত ছিল। তিনি স্কুলের যাবতীয় সম্পত্তির তদারককারী (মোতওয়ালী) ছিলেন বলে জানা যায়। ১৯৭১ সালের ২ এপ্রিল দিবাগত রাতে পাক হানাদারদের কয়েকজন তার বাড়ীতে ঢুকে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ফলে স্কুলটির যাবতীয় কাগজপত্র হারিয়ে যায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার বেশ কয়েক বছর পর স্কুলটি সরকারি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত মূল স্কুল গৃহটি ছিল টিনের ছাউনী। ১৯৯৭ সালে মূল ভবনটি নতুনভাবে নির্মিত হয়েছে। ১৯৯৮ সাল থেকে অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর মো. ইমাম মেহেদী বেগ স্কুলটির পরিচালনা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।