ফিরে যেতে চান

শেখ আব্দুস সাত্তারের কয়েকটি ভাস্কর্য

শেখ আব্দুস সাত্তারের কয়েকটি ভাস্কর্য

রাজশাহী আর্ট কলেজের সহকারী অধ্যাপক শেখ আব্দুস সাত্তার (জন্ম ১৩ মার্চ ১৯৭২, দড়িখরবোনা, রাজশাহী) রাজশাহীতে বেশ কয়েকটি ভাস্কর্য স্থাপন করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্ম পুলিশ একাডেমি সারদায় স্থাপিত টেরাকোটা ভাস্কর্য, রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সে স্থাপিত রাজশাহীর ঐতিহ্য। শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় স্থাপন করেছেন ভেনাসদ্বীপ, মেঘদূত, রজনীগন্ধা, খরগোস ও কচ্ছপ, বৈশাখী, আহবান, শিম্পাঞ্জি, স্নেহের পরশ, মাতৃমায়া, বানর কার্টুন, শিকারী, ফুলদানী, গোলাপ, বাংলার রমণী, বাংলার কলতান ম্যূরাল চিত্র। এছাড়াও তাঁর চলমান আছে। ভেনাসদ্বীপের নির্মাণ শুরু হয় ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি। সমাপ্তির তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০১৩/১ বৈশাখ ১৪২০। ঐ দিনই মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন উদ্বোধন করেন। উদ্যানের অবশিষ্ট ভাস্কর্যসমূহ জানুয়ারি ২০১৩ থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ এর মধ্যে নির্মিত হয়। ভাস্কর্যগুলো তৈরির উপকরণ সিমেন্ট, সাদা সিমেন্ট, রড, বালি, বুজরি, তার ইত্যাদি। প্লাস্টিক পেইন্ট, বাইন্ডার, সিন্থেটিক পেইন্ট, এক্রেমিনসহ অন্যান্য রঙ ব্যবহারে ভাস্কর্যগুলোকে প্রাকৃতিক দৃশ্যে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা আছে। এগুলো সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় উপস্থাপন হলো: 

মেঘদূত

মেঘদূত আসলে রূপকথার পঙ্খীরাজ ঘোড়া। দুডানায় উড়ন্ত ভঙ্গীমায় মেঘদূতের শরীর কংক্রিটের। ভূমি থেকে এর উচ্চতা ২১ ফুট ৬ ইঞ্চি। মুখ থেকে লেজের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট। বেদির উচ্চতা ৪ ফুট ও পরিধি ১৪ ফুট। 

 

রজনীগন্ধা

শুভেচ্ছা চত্বরে স্থাপিত রজনীগন্ধা কংক্রিটের ঢালাই। ভূমি থেকে এর উচ্চতা ১৫ ফুট। প্রতি ফুলের শীর্ষের ব্যবধান ৬ ফুট। বেদির উচ্চতা ১ ফুট, প্রস্থ সাড়ে ৫ ফুট, পরিধি ১৭ ফুট। 

 

কচ্ছপ ও খরগোস 

খরগোস: হারজিত কর্নারে স্থাপিত খরগোসের শরীর কংক্রিটের। ভূমি হতে ভাস্কর্যের উচ্চতা সাড়ে ৬ ফুট, খরগোসের উচ্চতা ৪ ফুট, দৈর্ঘ্য ৯ ফুট। বেদির উচ্চতা আড়াই ফুট ও প্রস্থ সাড়ে ৫ ফুট। 
কচ্ছপ: হারজিত কর্নারে কচ্ছপের অবস্থান। কংক্রিটের এ ভাস্কর্যের ভূমি থেকে উচ্চতা ৬ ফুট, কচ্ছপের উচ্চতা সোয়া ৩ ফুট, মুখ হতে লেজ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ৮ ফুট। বেদির উচ্চতা আড়াই ফুট, প্রস্থ সাড়ে ৫ ফুট।

বৈশাখী 

বাংলার খাঁটি সংস্কৃতি উপস্থাপন হয়েছে বৈশাখীতে। এখানে আছে পান্তা ভাতের সানকি, ইলিশ, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ। ভূমি হতে এ ভাস্কর্যটির উচ্চতা সাড়ে ১৬ ফুট। পেঁয়াজের পরিধি ১৮ ফুট, মরিচ ২টা ১২ ফুট ও ৯ ফুট। বেদির ফ্লোর ডিজাইন ৬ ফুট। 

আহবান

বর্ষায় ভেনাস ও তার সঙ্গীদের আহবান করছে ব্যাঙ। ভূমি হতে এর উচ্চতা সাড়ে ৫ ফুট। ব্যাঙের পরিধি ৭ ফুট ৩ ইঞ্চি, পাতার চওড়া ৬ ফুট, বেদির উচ্চতা আড়াই ফুট। ন্যাচারাল ও বিমূর্ত ভাবনায় অলংকৃত। 

শিম্পাঞ্জি

অপেক্ষা চত্বরে ভেনাসকে শুভেচ্ছার ভঙ্গিতে গোলাপ হাতে শিম্পাঞ্জি। ভূমি হতে এর উচ্চতা ১০ ফুট। বেজের উচ্চতা ৪ ফুট, প্রস্থ ৭ ফুট, বুকের পরিধি সাড়ে ৬ ফুট। 

স্নেহের পরশ

মানব তালুর পরম স্নেহে ডিম থেকে পরিস্ফুটিত মুরগি ছানা। শিশুতোষ এ ভাস্কর্যের ভূমি হতে উচ্চতা ১০ ফুট ৯ ইঞ্চি। ডিমের পরিধি ১৩ ফুট ৯ ইঞ্চি। বেদির উচ্চতা ২১ ইঞ্চি, প্রস্থ ৬ ফুট। 

শিকারী

শিকারী বক। শিকার মাছ। ভাস্কর্যটিতে বককে প্রাধান্য দিয়ে নামকরণ হয়েছে শিকারী। কংক্রিটের এ ভাস্কর্যের ভূমি থেকে উচ্চতা ২২ফুট। লেজ হতে  মাথা পর্যন্ত উচ্চতা ১৪ ফুট। পায়ের সামনে থেকে পিছন পর্যন্ত ৯ ফুট। 

মাতৃমায়া

ক্যাঙারু ও তার শাবক দিয়ে ভাস্কর্যটিতে মাতৃস্নেহের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যকে উপস্থাপন করা হয়েছে। ভূমি হতে ভাস্কর্যটির উচ্চতা ৯ ফুট। লেজ হতে মুখের দৈর্ঘ্য সাড়ে ১৩ ফুট। বেদির উচ্চতা ১ ফুট ও প্রস্থ সাড়ে ১০ ফুট। 

বানর কার্টুন

ভেলকি চত্বরে বানর কার্টুনের অবস্থান। কংক্রিটের এ ভাস্কর্যের ভূমি থেকে উচ্চতা সাড়ে ১১ফুট, প্রস্থ ৭ ফুট। বেদির উচ্চতা ১৮ ইঞ্চি, প্রস্থ ৩ ফুট। নির্মাণে সাদা সিমেন্ট, রড, বালি, বুজরি, নেট, তার ইত্যাদি ব্যবহার হয়েছে। ডেকোরেটিভ ফর্মে নির্মিত।

 dzj`vbx

পিকনিক কর্নারে নান্দনিক শোভা বৃদ্ধি করেছে ফুলদানী ভাস্কর্যটি। কংক্রিটের এ ভাস্কর্যের ভূমি থেকে উচ্চতা সাড়ে ১০ফুট। বেদির দৈর্ঘ্য ১২ ফুট, প্রস্থ ৬ ফুট। নির্মাণে সিমেন্ট, সাদা সিমেন্ট, রড, বালি, বুজরি, তার, নেট ইত্যাদি ব্যবহার হয়েছে। ডেকোরেটিভ ফর্মে নির্মিত।

গোলাপ

আড্ডার গোলাপ চত্বরে গোলাপের অবস্থান। কংক্রিটের এ ভাস্কর্যের ভূমি থেকে উচ্চতা সাড়ে ৭ ফুট ৮ ইঞ্চি, প্রস্থ ৭ ফুট। 

বাংলার রমণী

কংক্রিটের এ ভাস্কর্যের ভূমি থেকে উচ্চতা সাড়ে ৯ ফুট। মূল ভাস্কর্যের উচ্চতা ৭ ফুট। বেদির উচ্চতা ৩০ ইঞ্চি ও পরিধি সাড়ে ১৯ ফুট। 

বাংলার কলতান

বাংলার কলতান ম্যূরাল চিত্র। চিত্রটি পল্লী বাংলাকে ধারণ করেছে। যার দৈর্ঘ্য ৪২ ফুট ১০ ইঞ্চি ও প্রস্থ সাড়ে ৫ ফুট।

রাজশাহীর ঐতিহ্য

জাফর ইমাম টেনিস কমপ্লেক্সে রাজশাহীর ঐতিহ্য স্থাপন করা হয়েছে। ২০১২ সালের ৯ নভেম্বর শুরু হয়ে শিল্পকর্মটি শেষ হয় ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি। এর দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট ৪ ইঞ্চি ও প্রস্থ ৭ ফুট ৪ ইঞ্চি।