ফিরে যেতে চান

স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশের কারণেই নাটোর থেকে জেলা প্রশাসন রাজশাহীতে স্থানান্তরিত হয়েছিল ১৮২৫ সালে। একদা মহানগরী ও তার পাশের এলাকা আম, লিচু, কাঁঠাল, পেয়ারা, পাইকুর, বট, বাবলা, জলপাই, তাল, নারকেলসহ বিভিন্ন ফল-ফলারির বাগান ও অন্যান্য গাছে পূর্ণ ছিল। রাজশাহী-নাটোর ও রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রাস্তার পাশে বড় বড় পাইকুর, বট, নিম, কড়াই, জাম প্রভৃতি গাছ ছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এগুলো লাগানো হয়েছিল। কোর্ট চত্বরেও ছিল বেশ কটি বড় বড় বট, পাইকুর, বকুল, কড়াইয়ের গাছ। মহানগরীর এসব গাছ-গাছালিতে দোয়েল, ঘুঘু, শ্যামা, কাঠঠোকরা, ফিংগে, বাদুড়, কাক, বকসহ নানা জাতের পাখ-পাখালিতে পূর্ণ থাকতো। কোর্ট চত্বরের গাছগুলোয় সব সময় বাদুড় ঝুলে থাকতো। ক্রমশ জনবসতি, অর্থ ও আবাদী জমির প্রয়োজনে ব্যাপক বৃক্ষ নিধনের ফলে এসব গাছ-গাছালির পরিবর্তে ফাঁকা মাঠ ও দালানে পরিপূর্ণ হতে থাকে। রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য বিশ শতকের নব্বই দশকে রাস্তার ধারের পুরনো গাছগুলো কাটা পড়ে। বিভিন্ন বছরের কাল বৈশাখী ঝড়ে কোর্ট চত্বরের বেশ কটি গাছ ভেঙ্গে পড়ে এবং বিশ শতকের নব্বই দশকের শুরু বা আশি দশকের শেষ দিকে পুরোনো  গাছগুলোকে কেটে ফেলা হয়। ফলে বাসস্থান ও খাদ্যের অভাবে পাখ-পাখালির সংখ্যা ক্রমশ কমতে থাকে। বর্তমানে কাক, বাবুই, চড়ুই, কবুতর ও ফল মৌসুমে বাদুড়, কোকিল ইত্যাদি পাখি দেখা যায়। এছাড়া পদ্মা তীরের মহানগরীর ভিতর ও আশেপাশে দিয়ে ছিল অনেক নদী। এসব নদী প্রায় সবগুলোই ছিল পদ্মার শাখা-উপশাখা। বর্ষার ঘোলা পানি ছাড়া পদ্মার কাচ স্বচ্ছ পানিতে প্রায় সব সময়ই ঝাঁকে ঝাঁকে চখা বসতো। এছাড়া বালি হাঁস, বক, গাং শালিক ইত্যাদি থাকতো। পদ্মার চরে ধান পাকার সময় হাজার হাজার কবুতর দেখা যেত। এখন আর এসব পাখ-পাখালি চোখে পড়ে না। বন্যায় পলি ও বালি ভরাট এবং ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে গ্রীষ্ম মৌসুমে পদ্মায় পানি না থাকায় এ নদীগুলো প্রাণ হারায়। এর ফলে এক কালের ছায়া ঢাকা, পাখি ডাকা সবুজাচ্ছন্ন রাজশাহীতে মরুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ পরিস্থিতি থেকে রক্ষার জন্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির গ্রহণ করে।