ফিরে যেতে চান

মো. মহসীন২০১

মো. মহসীন ছিলেন একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সফল আইনজীবী ও বলিষ্ঠ রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৩১ সালের ২১ মে চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার বিনোদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আব্দুল আজিজ কবিরাজ। মহসীন ১৯৫০ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে বিএ ও ১৯৫৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাস করে ১৯৫৮ সালে রাজশাহী জজকোর্টে আইন পেশায় যোগদান করেন। এ পেশা শুরুর পূর্বে কিছুকাল বানেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২-৭৬ পর্যন্ত রাজশাহী জজ কোর্টের জি.পি. ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজশাহীর একজন বলিষ্ঠ নেতা ছিলেন। ১৯৬২ সাল থেকে পর পর দুবার রাজশাহী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও সভাপতিরও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সে সময় তিনি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের পর রাজশাহী শহর সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এপ্রিলে তিনি ভারত গমন করেন এবং প্রবাসী সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে মুর্শিদাবাদ জেলার পানিপিয়া মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং ক্যাম্পে ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করেন।
সরকারি প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে তিনি ১৯৭৪ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন সফরের সুযোগ লাভ করেন। রাজশাহীর পবা-বোয়ালিয়া আসনের সংসদ সদস্য ময়েন উদ্দিন আহামেদ মানিক বাকশালে (বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ) যোগদান না করে সংসদ সদস্য থেকে পদত্যাগ করলে এ আসনে পুনরায় উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মহসীন বাকশালের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এ উপনির্বাচনে জয় লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রাথী হিসেবে ১৯৭৯ সালে তিনি গোদাগাড়ি-তানোর থেকে আবারো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও ফাইন্যান্স কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৮৬ সালে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে (স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন) তিনি কারাবরণ করেন। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত তিনি পুনরায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পরিষদের পরিচালক ছিলেন। তিনি রাজশাহী আইন মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি ও শিক্ষকও ছিলেন। তিনি এই মহাবিদ্যালয়ের ভবন প্রতিষ্ঠা করেন। একজন সমাজসেবক হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।
তিনি ৮ অক্টোবর ২০০৪ তারিখ সকাল ১০.২০টায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পূর্বে ২ বছর তিনি অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী , ৩ পুত্র ও ২ কন্যা রেখে যান। তার বড় পুত্র সাহিন ব্যাংক কর্মকর্তা ও মেজ পুত্র মো. নাসিম রাজশাহী কোর্টের এডভোকেট। মহানগরীর সাগরপাড়া বাড়িতে এখন তাঁর পরিবার বসবাস করছেন।