ফিরে যেতে চান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে ড. জোহার মাজার চত্বরের দক্ষিণ পাশে  স্থাপিত শহীদদের নামফলক

১.    গণিত বিভাগের রিডার অধ্যাপক হবিবুর রহমান- পাক অনুচরদের সহায়তায় ব্রিগেডিয়ার আসলাম ও কর্নেল তাজ ১৫ এপ্রিল বিকেল ৪টায় বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় জুবেরী ভবনে। তিনি আর ফিরে আসেননি।
২.     মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মীর আব্দুল কাইয়ুম - ২৫ নভেম্বর রাত ৯টায় ঘোড়ামারা শ্বশুর বাড়ি থেকে উপাচার্যের বিহারী স্টেনোগ্রাফার তৈয়ব আলীর সহায়তায় পাক সেনারা তুলে নিয়ে যায়। ৩০ ডিসেম্বর পদ্মার চরের বধ্যভূমি থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয় এবং কাদিরগঞ্জ গোরস্থানে দাফন করা হয়। 
৩.    সংস্কৃত বিভাগের  অধ্যাপক সুখরঞ্জন সমাদ্দার - পাক সেনারা তাঁর বাসায় ইপিআর  খুঁজতে এলে মনোবিজ্ঞান বিভাগেরই উর্দুভাষী একজন অধ্যাপক ড. মতিউর রহামানের ইঙ্গিতে ১৪ এপ্রিল সকাল ৯.৩০টায় তাঁর প-৭১ বাসা থেকে পাক সেনারা ধরে নিয়ে যায়। ধারণা করা হয়, ঐ দিনই কাজলা পুকুরের ধারে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল। 
৪.    নৈশ প্রহরী আব্দুর রাজ্জাক - ২৫ মার্চের কালরাতেই ইনিই প্রথম শহীদ হন। প্রশাসনিক ভবনে কর্তব্যরত অবস্থায় ভবনের চাবি দিতে অস্বীকার করলে পিছন থেকে গুলি করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল।
৫.     স্টেনো টাইপিস্ট শেখ এমাজউদ্দীন - ৬ নভেম্বর রাত একটার সময় পাক সেনার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং জোহা হলের পাশে আরো বিশ জনের সাথে তাঁকে হত্যা করে মাটি চাপা দেয়। 
৬.    উচ্চমান সহকারী এসএম সাইফুল ইসলাম - ১৩ নভেম্বর পাক সেনাদের হাতে শহীদ হন।
৭.    প্রকৌশল দপ্তরের কার্য সহকারী মো. কলিম উদ্দিন - ১৩ এপ্রিল অনেকের সঙ্গে তাঁকেও গায়ে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে মারে পাক সেনারা।
৮.    সুইপার মোহন লাল-১২ এপ্রিল পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও কয়েকশ জনতার সঙ্গে তাঁকে হত্যা করা হয়। 
৯.    ড্রাইভার আবুল আলী-শান্তি বাহিনীর সহযোগিতায় বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ৬ নভেম্বর হত্যা করা হয়। 
১০.    কাঠ মিস্ত্রী শফিকুর রহমান-আল বদরের সহায়তায় পাক সেনারা তাঁকে রাণীনগর ঘোড়ামারা বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং ৭নভেম্বর হত্যা করে। 
১১.    প্রহরী নূরু মিয়া- অফিস চলাকালীন পাকসেনারা তাঁকে তুলে নিয়ে যায় আর ফিরে আসেননি।
১২.    জরুরী পিয়ন মোহাম্মদ ইউসুফ -১৪ এপ্রিল ঘাতক চক্র তাঁকে হত্যা করে। 
১৩.    পিয়ন মো. ওয়াজেদ আলী -১৩ নভেম্বর রাত ১২টায় আল বদর বাহিনী মো.ওয়াজেদ আলীকে মেহেরচণ্ডীর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে।
১৪.    প্রহরী মো. আফজাল মৃধা- যুদ্ধের শুরুতেই তিনি হারিয়ে যান। কোথায়, কখন, কিভাবে তাকে হত্যা করা হয় কেউ জানতে পারেনি। 
১৫.    আর্দালী পিয়ন ওয়াহাব আলী -২৪ এপ্রিল পাক সেনারা বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে এবং বাড়ি-ঘর আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
১৬.    বেয়ারার আব্দুল মালেক - বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিমপাড়া থেকে জুন মাসে তাঁকে ধরে নিয়ে যায় এবং শান্তি কমিটির সহযোগিতায় হত্যা করা হয়।
১৭.    প্রহরী কোরবান আলী- ২৪ এপ্রিল পাক সেনারা ধরে নিয়ে যায়। আর ফিরে আসেননি।
১৮.    পানি বাহক ইদ্রিছ আলী- অক্টোবর মাসে শ্যামপুর হতে রাজাকারেরা তাঁকে ধরে নিয়ে যায় জোহা হলে। আর ফিরেননি।
১৯.    বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র আব্দুল মান্নান আখন্দ- ২৭ মার্চ দিনাজপুরের কাঁটাখালী ব্রিজের কাছে যুদ্ধরত অবস্থায় আরো দশজন সহযোদ্ধার সঙ্গে পাক সেনাদের গুলিতে শহীদ হন। 
২০.    বাংলা বিভাগের ছাত্র আমীরুল হুদা - সৈয়দপুর ও রংপুর সেনানিবাসের অগ্রসরমান পাকসেনাদের প্রতিরোধরত এক ক্ষুধার্ত ইপিআরকে ১৩ এপ্রিল তাঁর দিনাজপুর কালীতলার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন মটর সাইকেলে এবং সেই মুক্তিযোদ্ধাকে রণক্ষেত্রে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় গুলি বিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
২১.    এমএসসি পূর্বভাগের ছাত্র গোলাম সারওয়ার খান সাধন- ৬ সেপ্টেম্বর নগরবাড়ির কাছে নৈশ অভিযানের পর চার মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে বিশ্রাম নেবার সময় ঘাতকদের হাতে ধরা পড়েন। নগরবাড়ির পাক সেনা ছাউনিতে অন্যদের সাথে ১০ সেপ্টেম্বর হত্যা করা হয়। তার জন্ম ১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি উল্লাপাড়ায়।
২২.    রসায়ন বিভাগের ছাত্র প্রদীপ কুমার সাহা- সিরাজগঞ্জের নিজ গ্রামে পাক সেনা কর্তৃক অবরুদ্ধ হয়ে জুলাই মাসে শহীদ হন। পাক  সেনারা তাঁর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল এবং  শারীরিক নির্যাতনসহ মেয়েদের ধর্ষণও করেছিল।
২৩.    অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র মোহাম্মদ আলী খান - তিনি এপ্রিলে পাক সেনাদের হাতে ধরা পড়ে শহীদ হন। শের-ই-বাংলা হলের কম্পাউন্ডের ভিতর আমগাছের নিচে তাঁকে কবর দেয়া হয়। তাঁর জন্ম ১৯৪৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পাবনা জেলার টংবাড়ি গ্রামে।
২৪.    বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র শাহজাহান আলী- মুক্তিযুদ্ধের প্রথমার্ধে স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে শহীদ হন। তাঁর জন্ম ১৯৫১ সালের মে নাটোর  জেলার গুরুদাসপুরের বিলসা গ্রামে।
২৫.    এমএসসি পূর্বভাগের ছাত্র মিজানুল হক- নিজ এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির নিকট শহীদ হন। বাড়ি লালমনিরহাটের খারদা সাপতলা গ্রামে। জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৫৯।
২৬.    অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র মোশারফ হোসেন রঞ্জু - ঢাকার রূপগঞ্জ পাক বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন।