ফিরে যেতে চান

প্রাচীন বা মধ্যযুগেও আমাদের দেশে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। তা মূলত রাজায় রাজায় ও তাদের সৈন্য সামন্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা বা জাতীয় মুক্তির আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে জনগণ সক্রিয় অংশ নিতো না। এ কারণে ত্রয়োদশ শতাব্দীর সূচনায় মাত্র ১৭ জন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিরয়ার খলজী লক্ষণসেনের রাজধানী নদিয়া দখল করেছিল। তার সাড়ে পাঁচশ বছর পর সুদূর ইউরোপীয় বণিকরা গুটিকয়েক সৈন্য নিয়ে বাংলা এবং পরবর্তীতে ভারতবর্ষের শাসন ক্ষমতা দখল করে দুর্দান্ত প্রতাপে শাসন করে গেছে ১৯০ বছর। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, ভারত বর্ষে যে সময়ে ব্রিটিশ শাসনের শুরু, তার অল্পকাল পরই বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়। তৎকালের তের কলোনিতে বিভক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা আপনা আপনি রথে চড়ে আসেনি। এর জন্য রক্ত দিতে হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, এ অঞ্চল তথা ভারতবর্ষের মানুষ পরিশ্রমী ও সম্পদশালী থাকলেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়ে সচেতন ছিলেন না। এর ফলে মোগল, পাঠান সর্বশেষে ইংরেজরা রাজমণ্ডপে বসে শাসনের চাবুক কষেছে এদেশের মানুষকে। গোরা চামড়ার ইংরেজদেরই কেউ কেউ এ দেশের কিছু সচেতন মানুষকে আলাদা কিছু ভাবতে শিখিয়েছিলেন। তাই ইংরেজ শাসনামল থেকেই দেশমুক্তি বা অন্যান্য জাতীয় আন্দোলনে জনসাধারণের সম্পৃক্ততা লক্ষ্য করা যায়। এ সব আন্দোলনে এ অঞ্চলের মানুষ তথা রাজশাহী মহানগরীর মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।