ফিরে যেতে চান

ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বৃহত্তর রাজশাহী জেলাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। বরিন্দ অঞ্চল, বিল ও জলাভূমি অঞ্চল, নদী তীরের পলিমাটি অঞ্চল। বরিন্দ বলতে ৬০ কোটি বছরের আর্কিয়ান যুগের প্রাচীন বরেন্দ্র ভূমিকে বুঝায়।৮০৯ এর মাটির রঙলাল। এতে লোহা ও চুনের ভাগ বেশি। বৃহত্তর রাজশাহীর পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে নিচু বিল এলাকা দেখা যায়। পদ্মা ও মহানন্দা নদীর ধার বরাবর দীর্ঘ  দিন পলিমাটি জমা হয়ে পলিমাটি অঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহী মহানগরী এ অঞ্চলেরই অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং রাজশাহী মহানগরীর ভূমি পুরাভূমি নয়; নবভূমি।১ রাজশাহী মহানগরী ছাড়াও চাঁপাই নবাবগঞ্জ ও নাটোরের বেশ কিছু এলাকা জুড়ে এ ভূমি পরিবেস্টিত। এ মাটিতে বালি মাটির প্রাধান্য বেশি এবং বরেন্দ্র ভূমি থেকে এর রঙ সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ মাটি আদ্র ও দো-আঁশলা।  
প্রাচীন যুগে রাজশাহী মহানগরীর ভূমি কি অবস্থায় ছিল তা জানা যায় না। তবে পদ্মা, মহানন্দা, বারনই, নারদ, হোজা, বড়াল, গদাই, মুশাখান প্রভৃতি নদীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয়, এ সব নদীর মোহনায় সৃষ্ট বালি চরে গঠিত ভূমি ভাগের উপরই রাজশাহী মহানগরী প্রতিষ্ঠিত। পূর্বে মুশাখান, উত্তরে হোজা ,পশ্চিমে জামদোহা, দক্ষিণে পদ্মা-এ চার নদীর বেস্টনের মধ্যেই রাজশাহী মহানগরী।১ এ নদীসমূহের চক্রাকারে খাত পরিবর্তনের ফলে বালিমাটি বাহিত রাজশাহী মহানগরীর ভূমি গঠিত হয়েছে।