ফিরে যেতে চান

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্মিত কিছু স্থাপনা

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্মিত মহানগরীর কিছু স্থাপনা

যাত্রী ছাউনি: বিশ শতকের ৯০ দশকের প্রথম দিকে মহানগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে মোট ১২টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়। যাত্রীদের সুবিধার জন্য ছৈ আকৃতির ছাদের পাকা এ যাত্রী ছাউনিগুলোর একাংশে দোকানের ব্যবস্থা আছে। প্রতিটি যাত্রী ছাউনির নির্মাণ ব্যয় হয়েছিল ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ছাউনিগুলোর অবস্থান কোর্ট ঢালুর মোড়ের পশ্চিমে, পার্কেরগেট, মিশন হাসপাতালের মোড়, সি অ্যান্ড বি মোড়, রাজশাহী সরকারি মাদ্রাসার গেট, লক্ষ্মীপুর মোড়, শালবাগান বাজার, আলুপট্টি, হাদীর মোড়, তালাইমারী গোল চত্বর, রুয়েটের সামনে ও বিনোদপুর ফায়ার স্টেশনের পাশে। মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের মেয়াদে অপেক্ষাকৃত ছোট আধুনিক পদ্ধতিতে আরো কয়েকটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়।
প্রবেশ গেট: ১৯৯৮-১৯৯৯ অর্থ বছরে মহানগরীর পশ্চিম সীমানা চাঁপাইনবাবগঞ্জ রোডের কাশিয়াডাঙ্গা, উত্তর সীমানা নওহাটা রোডের সন্তোষপুর ও পূর্ব সীমানা নাটোর রোডে মাসকাটাদিঘিতে (কাঁটাখালি) সুদর্শন প্রবেশ গেট নির্মাণ করা হয়। প্রতিটির নির্মাণ ব্যয় হয়েছিল ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। 
 

মহানগরীর পশ্চিম এলাকা কাশিয়াডাঙ্গায় প্রবেশ গেট(ছবি-জানুয়ারি ২০১৭)

হজরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) দরগা গেট: সদর হাসপাতাল ও জাদুঘরের দক্ষিণে দরগা যাওয়ার রাস্তায় (হজরত শাহ্ তুরকান রোড) এ গেটটি নির্মাণ করা হয় ১৯৯৮-১৯৯৯ অর্থ বছরে। গেটটির নির্মাণ ব্যয় হয়েছিল ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
পুলিশ বক্স: লক্ষ্মীপুর পুলিশ বক্স- রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ১৯৯৬-১৯৯৭ অর্থ বছরে লক্ষ্মীপুর মোড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি পুলিশ বক্স নির্মাণ করে।
কাশিয়াডাঙ্গা পুলিশ বক্স- রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ১৯৯৮-১৯৯৯ অর্থ বছরে কাশিয়াডাঙ্গা মোড়ে সিটি বাইপাস রোডের দক্ষিণে একটি দ্বিতল পুলিশ বক্স নির্মাণ করে।
ট্রাফিক পুলিশ বক্স ও বিশ্রামাগার: মেয়র এএইচ খায়রুজ্জামান লিটনের মেয়াদে শহীদ কামারুজ্জামান চত্বরের  (গোরহাঙ্গা রেলগেট) উত্তর পাশে একটি পুলিশ বক্স ও বিশ্রামাগার নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। দ্বিতল ভবনের নিচতলায় সাধারণ মানুষের বিশ্রামাগার ও উপরে তলায় আছে ট্রাফিক পুলিশ বক্স।  
ইনসিনেরেটর: ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ধ্বংসের জন্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ১৯৯৭-১৯৯৮ অর্থ বছরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে ১ টি ইনসিনেরেটর নির্মাণ করে। ২০০০ সালে বিশ্বপরিবেশ দিবসে ইনসিনেরেটরটি উদ্বোধন করা হয়। এর নির্মাণ ব্যয় হয়েছিল ১১ লাখ টাকা।
জিওমেট্রিক্যাল সাইন: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ১৯৯৪-১৯৯৫ অর্থ বছরে মহানগরীর নওদাপাড়া বাইপাশের দক্ষিণে, শাহ্ মখদুম থানার মোড়ে, শালবাগান মোড়ের উত্তরে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইনগেটে এবং সিটি চার্চ ও কেন্দ্রীয় উদ্যানের মাঝখানে মোট ৫টি জিওমেট্রিক্যাল সাইন স্থাপন করে। এ সুদর্শন সাইনগুলো আল কোরআন ও আল হাদিসের বাণী সম্বলিত। এর প্রতিটির নির্মাণ ব্যয় হয়েছিল ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। 

শালবাগানের জিওমেট্রিক্যাল সাইন (ছবি-জানুয়ারি ২০১৭)

নিউ মার্কেট জামে মসজিদ: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন রাজশাহী নিউ মার্কেটে নিউ মার্কেট জামে মসজিদ নির্মাণ করে ১৯৯৮-১৯৯৯ অর্থ বছরে। ২০০০-২০০১ অর্থ বছরে মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়। এর নির্মাণ ব্যয় হয় ৪২ লাখ টাকা।
এফ- ১৬ বিমান: মহানগরীর সি অ্যান্ড বি মোড়ের পাশে ডাকবাংলা চত্বরে (বর্তমানে আরএমপির প্রধান কার্যালয়) এফ- ১৬ বিমানটি ১৯৯৪ সালের অক্টোবরে স্থাপন করে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স বিনামূল্যে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে বিমানটি প্রদান করে। বিমানটি স্থাপনে ব্যয় হয়েছিল ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

সিএন্ডবি মোড়ের দক্ষিণ পশ্চিম কোনে আরএমপি চত্বরে অবস্থিত এফ-১৬ বিমান


তালাইমারী শহীদ মিনার: তালাইমারী শহীদ মিনার স্থাপন করে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। ১৯৯৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর পদ্মার উত্তর পাড়ে তালাইমারীতে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। (বিস্তারিত রাজশাহী মহানগরীর ভাস্কর্য অধ্যায়)।
ভুবন মোহন পার্ক: (বিস্তারিত জীবনযাত্রা অধ্যায়)।
শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রিয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা: ১৯৯৬ সালের ২৬ নভেম্বর  রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন জেলা পরিষদের নিকট থেকে ক্রয় করে। (বিস্তারিত জীবনযাত্রা অধ্যায়)।
শহীদ জিয়া শিশু পার্ক: (বিস্তারিত জীবনযাত্রা অধ্যায়)।
পদ্মা তীরের বিনোদন স্পট: (বিস্তারিত জীবনযাত্রা অধ্যায়)।
সিরোইল উদ্যান: (বিস্তারিত জীবনযাত্রা অধ্যায়)।
মণিচত্বরের ভাস্কর্য: সাহেব বাজার সোনাদিঘি চত্বরে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ইউএস এইডের সহযোগিতায় ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৯৯৩ সালে সিরামিক টাইলের মুরালে হামাগুড়ি দেয়া শিশুর একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করে। ভাস্কর্যটির স্থপতি রাজশাহী আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ শিল্পী এসএইচ আজাদ (মরহুম)। ভাস্কর্যটি চারিদিকে লাল বৃত্ত। বৃত্তের বাইরে ৬টি ঘাতক ব্যাধির প্রতীক হিসেবে ৬টি তীরের ফলা ও মায়ের প্রসারিত ২টি হাত। হাত দুটির মধ্যে দুটি বাল্ব সংযুক্ত।১৩৭ অমূল্য রত্ন মণির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে শিশুকে। এ অর্থেই ভাস্কর্যের নামকরণ করা হয়েছে মণি ও চত্বরটির নাম দেয়া হয়েছে মণি চত্বর। মণিচত্বরের ভাস্কর্যটি এক সময় ভেঙে পড়েছিল। এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র থাকাকালীন সময় সেখানে নতুন ভাষ্কর্য স্থাপন করা হয়। 
শিক্ষা চত্বর: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ইউনিসেফের সহযোগিতায় ১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৯৯৪ সালে মহানগরীর সি অ্যান্ড বি মোড়ে হাসিমাখা দুটি শিশুর মুখ ও অংক কষার একটি স্লেটসহ সিমেন্ট দিয়ে একটি ভাস্কর্য তৈরি করে জায়গাটির নাম দিয়েছে শিক্ষা চত্বর। ভাস্কর্যটির স্থপতি রাজশাহী আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ শিল্পী এসএইচ আজাদ (মরহুম)।১৩৭
 

সিঅ্যান্ডবি মোড়ে শিক্ষা চত্বর (ছবি- জানুয়ারি ২০১৭)

মিন্টু চত্বর: জাতীয় হকি খেলোয়াড় মরহুম রবি উদ্দিন আহম্মেদ মিন্টু স্মরণে লক্ষ্মীপুর গোলচত্বরের নামকরণ করে মিন্টু চত্বর। মেয়র মো. মিজানুর রহমান মিনু ২৩ অক্টোবর ১৯৯৯ তারিখে মিন্টু চত্বরের ফলক উন্মোচন করেন।১৪৪ রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন মিন্টু চত্বরের পূর্ব নির্মিত স্মারক ভাস্কর্যটি ভেঙে নতুন ভাস্কর্য নির্মাণ করে। নতুন ভাস্কর্য ফলক অনুসারে নির্মাণের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১২। মিন্টুর জন্ম ১জানুয়ারি ১৯৭২। তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার-১৯৯৯ (হকি) প্রাপ্ত হন। তিনি ঢাকায় হকি ম্যাচ খেলার সময় মাথায় আঘাত পেয়ে কয়েকদিন হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল ডেথ অবস্থায় থেকে ১৯৯৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।১৪৪
 

লক্ষ্মীপুর মোড়ের মিন্টু চত্বর