ফিরে যেতে চান

শহরের নাম রামপুর বোয়ালিয়া থেকে রাজশাহী

মিউনিসিপ্যালিটি, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। শহরের বা নগরের নাম অনুযায়ীই এ প্রতিষ্ঠানের নামকরণ হয়েছিল। রাজশাহী সিটি করর্পোরেশনের আদি নাম ‘রামপুর বোয়ালিয়া মিউনিসিপ্যালিটি’ তার ব্যতিক্রম হয়নি। মিউনিসিপ্যালিটির বাংলা শব্দ পৌরসভা। তাই দেশ স্বাধীনের পূর্ব থেকেই মিউনিসিপ্যালিটির বাংলা অর্থ পৌরসভা ব্যবহার হতে দেখা যায়। সোনাদিঘিস্থ বিলুপ্ত নগর ভবন চত্বরে স্থাপিত টাওয়ারের নিম্নাংশের একটি শিলালিপিতে ‘রাজশাহী পৌরসভা ১৯৬৮’ লিখার নিচে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নাম লিখা ছিল। স্বাধীনের পরের নথিপত্রে রাজশাহী পৌরসভাই উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু শহরের নাম রামপুর বোয়ালিয়া থেকে কবে রাজশাহী হয়েছে তার যেমন সূত্র পাওয়া যায় না, তেমনি রামপুর বোয়ালিয়া রাজশাহী মিউনিসিপ্যালিটি হয়েছে সে তথ্য পাওয়া জটিল বিষয়। মুহম্মদ আব্দুস সামাদ (১৯১৩-২০০৫) তাঁর ‘সুবর্ণ দিনের বিবর্ণ স্মৃতি’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা-৪) উল্লেখ করেছেন, রামপুর নামটি ১৯২৯ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। আবার (পৃষ্ঠা-৩০) ১৯২৯ সাল পর্যন্ত রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের নাম রামপুর বোয়ালিয়া ছিল বলে উল্লেখ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে আব্দুলপুর হতে রাজশাহী শহর পর্যন্ত রেললাইন ও রেলওয়ে স্টেশন স্থাপন হয় ১৯২৯ সালে।  অবশ্য তার পূর্বে ১৯১৫ সালে ভারতের কাটিয়ার রেলপথের একটি শাখা রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী পর্যন্ত স্থাপন করে স্টেশনের নাম দেয়া হয়েছিল ‘গোদাগাড়ী ঘাট’।৪ পরবর্তীতে এ পথটি বড়গাছি ও প্রেমতলী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। যাহোক, এ শহরে ১৯২৯ সালে রেলওয়ে স্টেশন স্থাপন করে এর নাম দেয়া হয়েছিল ‘রাজশাহী’। সুতরাং জেলা ও বিভাগের নাম অনুযায়ী ১৯১৬ ও ১৯২৯ সালের মাঝামাঝি কোন এক সময় এ শহরের নাম হয়ে যায় রামপুর বোয়ালিয়া থেকে রাজশাহী। এ সময়ের মধ্যেই মিউনিসিপ্যালিটির পরবর্তী নাম হয় রাজশাহী মিউনিসিপ্যালিটি। ১৯১৬ সালের পূর্বে এ পরিবর্তন হলে ও’ মেলির ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ারে অবশ্যই রামপুর বোয়ালিয়ার বদলে রাজশাহী মিউনিসিপ্যালিটি লেখা থাকত। গ্রন্থটিতে রামপুর বোয়ালিয়া মিউনিসিপ্যালিটি উল্লেখ আছে।