ফিরে যেতে চান

রাজশাহী হেলদি সিটি প্রোগ্রাম

বিশ্বে নগরায়নজনিত বহুমুখী সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  (WHO – World Health Organization) Healthy City Programme বা স্বাস্থ্যকর নগর কর্মসূচি গ্রহণ করে। একটি মহানগরীকে স্বাস্থ্যকর নগর রূপে গড়ে তোলার জন্য যা যা করণীয় সে সব বিষয়ে সুপরামর্শ প্রদান ও উপায় বের করে স্থানীয় মহানগরবাসীকে সহযোগিতা করাই এর লক্ষ্য। ২০০৩ সালের মে মাসে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় রাজশাহী হেলদি সিটি প্রোগ্রাম ১৯৯৬ সালের অক্টোবর মাসে রাজশাহী মহানগরীতে কার্যক্রম আরম্ভ করে। তবে কয়েক বছর পূর্বে এ প্রোগ্রাম বন্ধ হয়ে গেছে। প্রোগ্রাম সক্রিয় থাকাকালীন বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতো। যেমন- 
কমিউনিটি গঠন: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় নগরবাসী স্বউদ্যোগে যেন নিজেদের এলাকা স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পারে সে উদ্দেশ্যে এ কমিউনিটি গঠন করা হয়। এ নীতির ভিত্তিতে কমিউনিটিগুলো গৃহস্থালির আবর্জনা এলোমেলোভাবে না ফেলে কাগজের প্যাকেটে বা অন্য কোনভাবে গচ্ছিত রেখে সিটি কর্পোরেশনের ডাস্টবিন বা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে আসে। অথবা সিটি কর্পোরেশনের নিয়োজিত পরিচ্ছন্ন রিক্সা ভ্যান বাঁশি বাজিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহ করে থাকে। ১৯৯৯ সালে বড়কুঠিতে সর্ব প্রথম এ কমিউনিটি গঠিত হয়। ২০০০ সালে উপশহরের ২নং সেক্টরে পরিবেশ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি, ২০০০ সালের ২ জুন উপশহরের ৩নং সেক্টরে গঠিত হয় নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ ও পরিবেশ উন্নয়ন কমিটি। এছাড়াও ৬নং ওয়ার্ডের টিবি রোডে, বাকির মোড় এলাকায়, ৫নং ওয়ার্ডের ১ টি এলাকায় অনুরূপ কমিটি গঠিত হয়েছিল।
হেলদি সিটি স্কুল প্রোগ্রাম : শিক্ষার্থীরা যেন স্বেচ্ছায় নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পরিচ্ছন্ন রাখে সে উদ্দেশ্যে হেলদি সিটি স্কুল প্রোগ্রাম শুরু হয়েছিল। স্কুলসমূহে নিরাপদ টয়লেট স্থাপনসহ পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা করেছিল স্কুল প্রোগ্রাম। ইউসেপ স্কুল, সাবিত্রী স্কুল, গভ. ল্যাবরেটরী হাই স্কুল, রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল, মাদ্রাসা, গার্লস স্কুল, বালিয়াপুকুর প্রাইমারি স্কুলে  হেলদি সিটি স্কুল প্রোগ্রাম চালু হয়েছিল।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দিবস: হেলদি সিটি প্রোগ্রাম জনসচেতনতার মাধ্যমে মানব সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দিবস পালন করতো। এ প্রোগ্রামের মাধ্যমেই বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের প্রধান অফিস বরেন্দ্র ভবনকে ২০০২ সালের ৩১ মে তামাকমুক্ত ভবন ঘোষণা করা হয়েছিল।
শব্দ দূষণ রোধ: মহানগরীর শব্দ দূষণ রোধের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল হেলদি সিটি প্রোগ্রাম। এ উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হর্ন না বাজানো বা শব্দ না করার জন্য সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছিল।
হেলদি মার্কেট: মার্কেটের দোকান মালিকরা যাতে নিজেরাই পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখে সে উদ্দেশ্যে হেলদি মার্কেট কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল হেলদি সিটি প্রোগ্রাম। রাজশাহী নিউ মার্কেট এ প্রোগ্রামের অধীনে ছিল।
হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট (Hospital Waste Management Plant): রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে একটি ইনসিনেরেটর স্থাপন করে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। এ ইনসিনেরেটরকে কেন্দ্র করে  হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট তৈরি করা হয়েছিল। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সিভিল সার্জন অফিস, প্রাইভেট ক্লিনিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে সংগৃহীত বর্জ্য ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ও সাধারণ বর্জ্য দুই ভাগে পৃথক করে তা ধ্বংস করা হতো ইনসিনেরেটরের মাধ্যমে।