ফিরে যেতে চান

স্বাস্থ্যকর মহানগরী ও মহানগরবাসীর সেবা প্রদানের জন্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের জনস্বাস্থ্য বিভাগ আছে। এ বিভাগ প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা কার্যাবলী, খাদ্য ও পানীয় দ্রব্যাদি নিয়ন্ত্রণ, স্যানিটেশন, টিকাদান, গৌরস্থান/শ্মশান ঘাট পরিচর্যা, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কাজ সম্পাদন করে থাকে।
শিশু স্বাস্থ্য সেবা: মহানগরীর প্রতিটি শিশুকে দৈহিক ও মানসিকভাবে বিকশিত করার উদ্দেশ্যে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পাদন করে থাকে। শিশুদের হাম, রুবেলা, হিমোফাইলাস, নিউমোক্কাল, পোলিও, ধনুস্টংকার, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও হেপাটাইটিস- বি প্রভৃতি রোগের প্রতিশেধক দেয়া হয়। 
অন্ধত্ব ও রাতকানা রোগ থেকে রক্ষার জন্য ১ থেকে ৫ বছরের সকল শিশুকে একটি করে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। এছাড়া চিকিৎসা রোগ নির্ণয়ের মল পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও পুষ্টির জন্য পরামর্শ প্রদান করা হয়।
একই উদ্দেশ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস, শিশু মেলা, র‌্যালি, লিফলেট, পত্রিকার মাধ্যমে অভিভাবকবৃন্দের মাধ্যমে সচেতনকরণের জন্য শিশু অধিকার বিষয়ে প্রচার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
মায়ের স্বাস্থ্য সেবা: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন প্রসূতিদের তিন পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করে। প্রসব পূর্ব সেবা, প্রসব সেবা ও প্রসব পরবর্তী সেবা।
সকলের জন্য সেবা: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন মহানগরবাসীর যক্ষ্মা, কুষ্ঠ, ডায়রিয়া, জলাতঙ্ক, আয়োডিন অভাবজনিত সমস্যা, ডেঙ্গু, এইডস, রোগের প্রতিরোধ ও প্রতিষেধকের জন্য চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। ডায়রিয়ার রোগীদের জন্য সিটি কর্পোরেশন প্রতিটি ওয়ার্ড কার্যালয় থেকে বিনামূল্যে স্যালাইন প্রদান করে থাকে।    
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (Expanded Programme on Immunization-EPI) : বিভিন্ন রোগ প্রতিষেধকের উদ্দেশ্যে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ১৯৮৯ সালে ইপিআই কর্মসূচি (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) আরম্ভ করে। কর্মসূচির সূচনায় প্রতি মাসে চাহিদা অনুসারে সিভিল সার্জনের অধীনস্থ জেলা ইপিআই স্টোর হতে ইপিআই ভ্যাকসিন উত্তোলন করা হতো। ১৯৯৫ সালে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব সেন্টার খোলা হয়। ২০০০ সালে সিটি কর্পোরেশনের ৪টি ইপিআই স্টোর স্থাপন করা হয়। সেগুলো সিটি ভবনের পশ্চিম পাশ সংলগ্ন ১৩ নং ওয়ার্ডের কাদিরগঞ্জ হেলথ কেয়ার সেন্টারে, ১৮ নং ওয়ার্ডের ছোট বনগ্রাম হেলথ কেয়ার সেন্টারে, ২নং ওয়ার্ডের  টুলটুলিপাড়া হেলথ কেয়ার সেন্টারে ও রানীনগরে সিটি হাসপাতালে অবস্থিত।
 ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখের প্রাপ্ত তথ্যানুসারে বর্তমান ইপিআই স্টোরের সংখ্যা ৭টি- নগর ভবন কেন্দ্রীয় ইপিআই স্টোর, ২নং ওয়ার্ডের টুলটুলিপাড়ায় আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার স্টোর, ৪নং ওয়ার্ডের বুলনপুরে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার স্টোর, ১৩নং ওয়ার্ডের কাদিরগঞ্জে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার স্টোর, ১৮নং ওয়ার্ডের প্রফেসরপাড়ায় আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার স্টোর, ২৫নং ওয়ার্ডের রাণীনগরে রাজশাহী সিটি হাসপাতাল স্টোর, ২৬নং ওয়ার্ডের মেহেরচণ্ডিতে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার স্টোর।৬২৭


ইমিউনাইজেশন কভারেজ অ্যাওয়ার্ড ২০১০

খাদ্য ও পানীয় নিয়ন্ত্রণ: পচা, বাসি, ভেজাল খাদ্য ও খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য পরিবেশনের ফলে যেন জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি না হয়, এ জন্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। এ উদ্দেশ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাঝে মাঝেই বিভিন্ন হোটেল ও দোকান পরিদর্শন করে থাকেন। 
কসাই খানা: পৌরসভার আমলে গ্রেটার রোড বর্ণালীর পাশে একটি গবাদিপশু জবাই এর জন্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের কসাইখানা ছিল। বর্তমানে সেখানে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কবে কসাইখানাটি বিলুপ্ত হয়েছে তা জানা যায় না। তবে ধারণা করা হয়, কসাইখানাটি পৌরসভার আমলেই বর্ণালীর পাশ থেকে নিউ মার্কেটের পাশে স্থানান্তরিত  হয়। বর্তমানে এখানেও জবাই এর কার্যক্রম হয় না। জানা যায়, বিশ শতাব্দীর নব্বই দশকের প্রথম দিকেও এটি চালু ছিল। বর্তমানে কোন কসাইখানা নেই। সাহেব বাজার, হড়গ্রাম বাজার, লক্ষ্মীপুর বাজার, কাজলা বেতার মাঠ, উপশহর নিউ মার্কেট, শালবাগানে কসাইখানা নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে।