ফিরে যেতে চান

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সেবামূলক কার্যক্রম / আলো সেবা

ভারতীয় বিদ্যুৎ আইন (The Indian Electricity) এর অধীনে ১৯০৩ সালে ভারতীয় জনগণের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ শূরু হয় এবং বড় বড় শহরে বিদ্যুতের আলো জ¦লে ওঠে। ১৯২০ সালে রাজশাহী মহানগরীর তৎকালীন গণ্যমান্য ব্যক্তি বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা অনুভব করেন। এ অনুভব থেকে ১৯৩০ সালে তৎকালীন পৌরসভার কমিশনারগণ এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁরা ১৯৩৪ সালে কেরোসিন বাতির বদলে পর্যায়ক্রমে সমস্ত রাস্তায় বৈদ্যুতিক আলো জ¦ালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ফলে ১৯৩৬ সালে মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় প্রথম বৈদ্যুতিক আলো জ¦ালানো হয়। ১৯৩৬ সালে রাজশাহী মিউনিসিপ্যালিটির আহবানে চট্টগ্রাম থেকে চিটাগাং ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি রাজশাহী শহরে এসে হেতমখাঁ মহল্লায় পাওয়ার হাউজ নির্মাণ করে। পাওয়ার হাউজ নির্মাণের জায়গাটি ছিল খান বাহাদুর এমাদউদ্দিনের।৬৭২ 
পাওয়ার হাউজটিতে ডিজেল চালিত জেনারেটরের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ডিসিতে (ডাইরেক্ট কানেকশন) রূপান্তর করে প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত এলাকায় সরবরাহ হতো। এলাকাগুলো ছিল হেতমখাঁ, মিউনিসিপ্যালিটি কার্যালয়, কলাবাগান, ঘোষপাড়া, ফায়ার ব্রিগেড, সাহেব বাজার। প্রাথমিক অবস্থায় ৬৩ জন বিদ্যুৎ সরবরাহের আওতায় এসেছিল। তাঁদের কয়েক জন হলেন হেতমখাঁর খান বাহাদুর এমাদউদ্দিন, অ্যাডভোকেট মহসীন খানের আব্বা খান সাহেব আব্দুর রহমান খান, ডা. জহির উদ্দিন আহম্মদ, ওসমান সরকার, নগেন বাবু উকিল, ঘোষপাড়ার মো. হায়দার আলী (ক্যাপ্টেন শামসুল হকের শ্বশুর), কলাবাগানের আফসার পীর সাহেব, সাহেব বাজারের আব্দুল করিম বক্স প্রমুখ। হেতমখাঁয় বর্তমান বিদ্যুৎ ভবনের পশ্চিম পাশ সংলগ্ন অ্যাডভোকেট মহসীন খানের বাড়িতে সে সময়ের হাউজ ওয়ারিং এখনও সক্রিয় আছে।৬৭২
১৯৩৯ সালে তৎকালীন ৫ নং ওয়ার্ড মুক্তপুকুর ও হাফেজ মুজাফ্ফর হোসাইনের বাড়ির পাশে দুটি কেরোসিনের বদলে বিদ্যুতের আলো জ্বালানো হয়। ১৯৪০ সালে বেশ কতকগুলো কেরোসিনের বদলে বিদ্যুতের আলো জ্বালানো হয়েছিল। এরমধ্যে তাঁতিপাড়ায় (Tantiapara) ৩টি কেরোসিনের বদলে ২টি এবং রামচন্দ্রপুরে ২টি কেরোসিনের বদলে ১টি  বিদ্যুতের বাতি জ্বালানো হয়েছিল। ১৯৪০ সালে মে মাসে রাজশাহী নাটোর রোডে কেরোসিনের বাতি বদলে বিদ্যুতের বাতি জ্বালানো হয়।৪৩ কেরোসিনের বাতিগুলো ছিল Hinksচিমনীযুক্ত। সেগুলো শহরের প্রধান প্রধান মোড়ে কাঠের থামে ক্রুসের মতো দুদিকে হাতলযুক্ত বড় লণ্ঠনের ভিতর আটকানো থাকতো।৬৮২
মিউনিসিপ্যালিটির সঙ্গে চুক্তিরভিত্তিতে চট্টগ্রাম ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (Chittagong Electric Supply Company) নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ মহানগরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে। বিদ্যুৎ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ৩ সদস্যেও একটি কমিটি গঠিত হয়। কমিটি দ্বারা Draft agreement পরীক্ষার রিপোর্ট ১৯৩৫ সালের ২১ নভেম্বর মিউনিসিপ্যালিটির সাধারণ সভায় আলোচিত হয়। কোম্পানির পক্ষে সহকারী প্রকৌশলী এনসি সেন গুপ্ত এবং ২জন পরিচালক কেকে সেন ও এনকে দাস সভায় উপস্থিত ছিলেন। কমিশনারগণের প্রস্তাবে চুক্তির মেয়াদ ২০ বছর থেকে কমিয়ে ১০ বছর করা হয়। অবশেষে উভয় পক্ষ ১৭ প্যারার একটি চুক্তিতে (Agreement) স্বাক্ষর করে।৪৩ 
সে সময়ে বাল্বগুলো ছিল ৪০ ও ২৫ ওয়াটের। ১৯৬২ সালে কয়েকটি রাস্তার মাঝে মাঝে ১২৫ ওয়াটের মার্কারী বাল্ব লাগানো হয়। ১৯৭৮ সালে ২টি রাস্তায় ডবল টিউব লাইট সেড লাগানো হয়। ১৯৮৯ সালের ২০ জুন রাজশাহীতে লো প্রেসার ৯০ ওয়াটের ৪৬৭টি সোডিয়াম বাল্ব লাগানো হয়।
সার্কিট হাউস রাস্তার দক্ষিণ প্রান্ত হতে গ্রেটার রোড হয়ে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত, সাহেব বাজার হতে রানীবাজার হয়ে গৌরহাঙ্গা পর্যন্ত এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-নাটোর রোডের কোর্ট হতে তালাইমারী মোড় পর্যন্ত এ সোডিয়াম বাল্বগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। এতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৮২ লাখ টাকা। ঢাকা সিটি সিটি কর্পোরেশন ডিপোজিট ওয়ার্ক হিসেবে কাজটি সম্পাদন করে।৪৮ 
মহানগরীর কাজী নজরুল ইসলাম সরণিতে (কাশিয়াডাঙ্গা-লক্ষ্মীপুর রাস্তায়) প্রথম ২০০টি ১৫০ ওয়াটের হাই প্রেসার সোডিয়াম বাল্ব ২০০৩ সালের জুনে লাগানো হয়েছিল। ২০০৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া এর উদ্বোধন করেন।৫০
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে আলো সেবার প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের পাশাপাশি এর ক্রমসম্প্রসারণ হচ্ছে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ শাখার ১৫ জুন ২০০৩ তারিখের তথ্যানুসারে মহানগরীর মোট ৬০ শতাংশ এলাকার রাস্তায় আলো সেবা প্রদান করা হয়। তখন লাইটপোস্ট ছিল ১২ হাজার ৭শ টি। এর ৮শ টি সিটি কর্পোরেশন ও অবশিষ্টগুলো বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড স্থাপন করে। লাইটপোস্টগুলোই ২৩০০ টি সোডিয়াম, ২০০ টি হাই প্রেসার সোডিয়াম ও অবশিষ্টগুলোই সাধারণ বাল্ব ছিল।
১৪ ডিসেম্বর ২০০৫  তারিখে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে ২৩০০ পয়েন্টে সোডিয়াম বাল্ব ও ১১ হাজার পয়েন্টে সাধারণ বাল্ব লাগিয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ৮০ শতাংশ এলাকার সড়ক/রাস্তার আলোকায়ন করছে। ২০ শতাংশ এলাকায় বিদুৎ খুঁটি না থাকায় আলোসেবা প্রদান সম্ভব হয় না।
রাতের মহানগরীকে সুশোভিতকরণ ও সাশ্রয়ী বাতি স্থাপন: ২০০৮ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে মহানগরীর সড়কসমূহে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বাতি ও রূপলাইট স্থাপন করা হয়। ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়  ও রাতের নগরী অপরূপ সৌন্দর্যে বিকশিত হয়। মহানগরবাসীসহ মহানগরীতে আগত দেশি-বিদেশি অতিথিবৃন্দ নগরীর এ সৌন্দর্য উপভোগে মুগ্ধ হন। 
সোলার স্ট্রিট লাইটি স্থাপন: নগরভবনের গ্রীনচত্বর ও ১নং ওয়ার্ডের রায়পাড়ার মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে এ বাতি স্থাপন করা হয়েছে।