ফিরে যেতে চান

মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল

মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল

মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের চতুর্থ নির্বাচিত মেয়র। মেয়র ও প্রশাসকগণের মধ্যে চতুর্দশ। রাজশাহীবাসীর কাছে তিনি বুলবুল নামে সুপরিচিত। তিনি ১৯৬৫ সালের ৫জুন রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার পুঠিয়াবাজার গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা আব্দুর রশিদ (মৃত্যু ২৫ জুন ২০০০)  পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। মা মাওলুদা খাতুন ১৯৭২ সালের ২৯ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। ফলে পিতা আব্দুর রশিদ ফাতেমা বেগমকে বিয়ে করেন। ফাতেমা বেগম বুলবুলসহ মাওলুদা খাতুনের রেখে যাওয়া চার সন্তানকে পরম মাতৃস্নেহে বড় করেন।  তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে বুলবুল সবার বড়। তাঁর শৈশব অতিবাহিত হয় আঁতুড় মাটির গন্ধে।  সেখানেই অক্ষর জ্ঞানের অন্বেষণের সূচনা হয়। ১৯৭১ সালে কান্দরা সরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৭৪ সালে তাঁর পরিবার রাজশাহী মহানগরীতে আসে এবং বেলদারপাড়া ও ষষ্ঠীতলায় কয়েক বছর থাকার পর উপশহরে স্থায়ীভাবে বসবাস আরম্ভ করে। রাজশাহী মহনগরীতে আসার পর বুলবুলকে রাজশাহী শিরোইল হাই স্কুলে ৫ম শ্রেণিতে ভর্তি করে দেয়া হয়। এ স্কুল থেকেই তিনি ১৯৮১ সালে ২য় বিভাগে এসএসসি পাস করেন। ১৯৮১ সালে রাজশাহী সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৮৪ সালে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৮৫ সালে তিনি রাজশাহী কলেজে বিএ প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বানেশ্বর ডিগ্রী কলেজ থেকে তিনি স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৮৭ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রিলিমিনারী শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং ১৯৮৮ স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভুক্ত আইন কলেজ থেকে তিনি ১৯৯২ সালে এলএলবি পাস করেন।
গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বুলবুল কিশোর বয়সেই সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের প্যানেলে ১৯৮২ সালে রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্র সংসদে ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন। বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৫/১৯৮৬ সালে ছাত্রদল, রাজশাহী কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি, ১৯৯১ সালে ছাত্রদল, রাজশাহী জেলা শাখার সহসভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯৪ সালে যুবদল, রাজশাহী জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালে যুবদল, রাজশাহী মহানগর শাখার  আহবায়ক মনোনয়নের পর ২০০২ সালে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও ২০০৩ সালে রাজশাহী মহানগরী শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে তিনি পুনরায় যুবদল, রাজশাহী মহানগরী শাখার আহবায়ক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মনোনীত হন। 
রাজনীতিতে অংশগ্রহণের পর রাজপথ তাঁর জীবনের সঙ্গী হয়ে ওঠে। বিভিন্ন জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা রাখেন। এ জন্য তাঁকে পুলিশী নির্যাতন ও কারাবন্দী হতে হয়। গত শতাব্দীর আশির দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকায় ১৯৮৯ সালে কারাবন্দী হন। এরপর রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে ২০১২, ২০১৪ ও ২০১৬ সালে কারাবরণ করেন। 
২০০৮ সালের ৪ আগস্ট বুলবুল রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের নিকট পরাজয় বরণ করেন। ২০১৩ সালে তিনি পুনরায় অংশ গ্রহণ করে মেয়র নির্বাচিত হন। এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৩ সালের ১৫ জুন। ২০১৩ সালের ২১ জুলাই মেয়র ও নির্বাচিত কাউন্সিলরগণের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র সরিফুল ইসলাম বাবুর নিকট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সাধারণ সভার আয়োজন হয় ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর। ২৬ নভেম্বর ২০১৩ তারিখ সন্ধ্যা সোয়া সাতটার পর নগর ভবনের সামনে একটি রাজনৈতিক মিছিলে তিনি পুলিশের রাবার বুলেটে বিদ্ধ হন।৬২৩ মামলার আসামী হওয়ার কারণে ৭ মে ২০১৫ তারিখে তিনি মেয়র থেকে সাময়িক বরখাস্ত হন।৬২৪ সাময়িক বরখাস্তের প্রায় ২৩ মাস পর আদালতের রায়ের ভিত্তিতে তিনি ২ এপ্রিল ২০১৭ তারিখ রোববার মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই আবারও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ সচিব মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা স্বাক্ষরিত সাময়িক বরখাস্তের আদেশ আসে ফ্যাক্স যোগে। তখন তিনি নগর ভবন ত্যাগ করেন। এ আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ৪ এপ্রিল ২০১৭ তারিখ মঙ্গলবার হাই কোর্টে রিট করেন। রিট আবেদনের শুনানী শেষে হাই কোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্ত আদেশ স্থগিত করেন। ফলে ৫ এপ্রিল ২০১৭ বুধবার সকাল ১১ টার দিকে পুনরায় মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।৭৮৩
পেশাগত জীবনে বুলবুল একজন ব্যবসায়ী। খেলা, বই পড়া ও সংগ্রহ, বাগান করা বুলবুলের প্রিয় শখ। ১৯৯৬ সালে তিনি রেবেকা সুলতানা সিমিকে বিয়ে করেন। এ দম্পতির ঘরে এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। পুত্র সাদাত হুসাইন আলফী বর্তমানে রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুলের ছাত্র। কন্যা সুবাইতা বিনতে হুসাইন একই স্কুলে অধ্যয়নরত। তিনি সপরিবারে রাজশাহী মহানগরীর ৭৪/৩, উপশহর হাউজিং এস্টেটে বসবাস করছেন।