ফিরে যেতে চান

সরিফুল ইসলাম বাবু

সরিফুল ইসলাম বাবু  ২ জুলাই ২০১৩ হতে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত  রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর পিতা আলহাজ মহিউদ্দীন সরকার ও মা সোনাভান নেসা। তাঁদের চার সন্তানের মধ্যে বাবু দ্বিতীয় ও একমাত্র পুত্র। বাবুর পূর্ব বংশের আদি নিবাস ভারতের পশ্চিম বাংলা। তাঁরা ছিলেন প্রধানত ভূস্বামী ও কৃষিজীবী। ১৯৬৪ সালে এ পরিবারটি রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার হুজুরীপাড়া ইউনিয়নের দারুশার কর্ণহার গ্রামে আগমন করে। কর্ণহার গ্রামটি রাজশাহী মহানগরীর প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে উত্তর-পশ্চিম পাশে অবস্থিত। এ গ্রামে ১৯৬৬ সালের ১৬ অক্টোবর বাবুর জন্ম। ১৯৭২ সালে কর্ণহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাবুর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ শুরু হয়। সেখানে তিনি দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। সন্তানদের যুগোপযোগী শিক্ষায় গড়ে তোলার উদ্দেশ্য বাবুর পিতা ১৯৭২ সালে সপরিবারে রাজশাহী মহানগরীর কুমারপাড়ায় এসে বসবাস শুরু করেন। বাবুকে পার্শ্ববর্তী মুন্নুুজান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯৭৩ সালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর লোকনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং ১৯৮২ সালে এসএসসি পাস করেন।  ১৯৮২ সালে রাজশাহী সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে বাবু বামধারার রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ দেশে সামরিক শাসন জারী হয়। সামরিক শাসক মজিদ খাঁনের শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে। বাবু সামরিক শাসন ও শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই তিনি ১৯৮২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর  বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নে যোগদান করেন। ছাত্র ইউনিয়নের জনপ্রিয় নেতা হিসেবে তিনি বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৩ সালে কলেজ শাখার আহবায়ক নির্বাচিত হন। সিটি কলেজ থেকেই ১৯৮৪ সালে এইচএসসি পাস করেন। এইচএসসি পাসের পর তিনি ১৯৮৪ সালে রাজশাহী কলেজে ভর্তি  হন। ১৯৮৭-৮৮ শিক্ষা বর্ষে রাজশাহী কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তিনি সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জয়লাভ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাজশাহী কলেজ  থেকে ১৯৮৮ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। 
১৯৮৬ সালে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের রাজশাহী মহানগরী শাখার সভাপতি, ১৯৮৯ সালে জেলা শাখার সভাপতি হন। ১৯৮৯ সালেই কমিউনিষ্ট পার্টি অব বাংলাদেশে (সিপিবি) যোগদান করেন। ১৯৯৩ সালে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। বিগত শতাব্দীর আশির দশকে স্বৈরাচার বিরোধী  ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র সমাজের ১০ দফা ও গণমুখী বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষানীতির আন্দোলন, সাম্প্রদায়িক বিরোধী আন্দোলন ও বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বাবু সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। 
১৯৯৪ সালে ৩০ জানুয়ারি সর্ব প্রথম রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও ৩০ জন কমিশনার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর পূর্বে ১৯৮৮ সালে শুধু কমিশনার নির্বাচন হয়েছিল। মেয়র ছিলেন সরকার কর্তৃক মনোনীত। ১৯৯৪ সালে বাবু ২৭ বছর বয়সে নির্বাচনে ১২নং ওয়ার্ড থেকে কমিশনার নির্বাচিত হন। ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল দ্বিতীয় বার রাজশাহী সিটি কর্পোরেশেনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাবু পুনরায় আবারও একই ওয়ার্ড থেকে কমিশনার নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বাবু অংশ গ্রহণ করেন এবং একই ওয়ার্ড থেকে তৃতীয় বার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন [১৪ মে ২০০৮ তারিখে প্রকাশিত স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) অধ্যাদেশ, ২০০৮ অনুযায়ী কমিশনার পদবি কাউন্সিলর হয়]। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) অধ্যাদেশ’ ২০০৮ এর ২০ (এক) ধারা অনুযায়ী ২০০৮ সালের ১১  অক্টোবর কাউন্সিলরদের গোপন ভোটে প্যানেল মেয়র নির্বাচিত হয়। ২৭টি ভোট পেয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট প্যানেলে বাবু প্যানেল মেয়র-১ নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের ১৫ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের দ্বিতীয় সাধারণ সভায় এ নির্বাচন অনুমোদন লাভ করে। গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক বাবু ২০০৯ সালের ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ক্রীড়ার প্রতি তিনি বিশেষ অনুরাগী। ফলে একজন ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও আত্ম প্রকাশ করেন। 
তিনি ১৯৯৭ সালে ১৪ ফেব্রুয়ারি পাবনার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে বিয়ে করেন। তাঁর স্ত্রী সাবিনা পারভীন মহানগর কলেজ, রাজশাহীর অধ্যক্ষ। এ দম্পতির প্রথম সন্তান সামান্তা ইসলাম ১১ অক্টোবর ২০০০ তারিখে ও দ্বিতীয় সন্তান সাদিয়া ইসলাম ২ নভেম্বর ২০০২ তারিখে জন্ম গ্রহণ করে ।