ফিরে যেতে চান

এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন

এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মেয়র হিসেবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফকরুদ্দিন আহমদের নিকট শপথ বাক্য পাঠ করেন এবং ২০০৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. রেজাউন নবী দুদুর নিকট থেকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ৩য় নির্বাচিত মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তবে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মেয়রগণের মধ্যে ছিলেন দ্বাদশ। ২০০৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সাধারণ সভা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর নেতৃত্বাধীন পরিষদের যাত্রা শুরু হয়। ২০১৩ সালের ১৫ জুন ৪র্থ মেয়র নির্বাচনে পুনরায় মেয়র প্রার্থী হওয়ায় আইনগত কারণে তাঁকে ৯ মে ২০১৩ তারিখে পদত্যাগ করতে হয়। এ নির্বাচনেও তিনি নাগরিক কমিটির প্রার্থী ছিলেন। লিটন ১৯৫৯ সালের ১৪ আগষ্ট রাজশাহী মহানগরীর কাদিরগঞ্জ মহল্লায় সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হেনা। মাতা জাহানারা জামান। লিটন দুই ভাই চার বোনের মধ্যে চতুর্থ। 
লিটন জমিদার ও রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তাঁর পূর্ব পুরুষের নিবাস ছিল রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ মাজারের দক্ষিণে ভেলনা নামক গ্রামে। তাঁর প্রপিতামহ হাজি লাল মোহাম্মদ সরদার (১৮৪৮-১৯৩৬) ভাগ্য পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে রাজশাহী মহানগরীতে আসেন ও ১৮৬৩ সালে কাদিরগঞ্জ মহল্লায় বসতি স্থাপন করেন। কঠোর প্রচেষ্টায় তিনি সাফল্য অর্জন ও রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ি উপজেলার অন্তর্গত গুলাইয়ের জমিদারির পত্তন করেন। তিনি ১৯২৪ থেকে ১৯২৬ ও ১৯৩০ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত বাংলার লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য (এমএলসি) নির্বাচিত হন। সমাজসেবায়ও তাঁর খ্যাতি ছিল। লিটনের দাদা আব্দুল হামিদ মিয়াও (১৮৮৭-১৯৭৬) বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও পাকিস্তান শাসনামলে পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদের সদস্য (এমএলএ) ছিলেন। বাবা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন। রাজনৈতিক ভূমিকা তাঁকে দেশের অন্যতম জাতীয় নেতাতে পরিণত করে। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রবাসী সরকারের স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী হিসেবে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের অন্তর্গত মুজিবনগরে (বৈদ্যনাথতলা আমবাগানে) শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সাল ৬ দফা আন্দেলনের সময় তিনি নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারী জেনারেল নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালের ২০ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেসনে সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অধিষ্ঠিত ছিলেন। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কতিপয় বিপথগামী সেনাসদস্য  ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর অন্য ৩ জন জাতীয় নেতার সঙ্গে তাঁকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা  করে। 
লিটনের শিশু ও কিশোর কাল কাটে রাজশাহীতে। হাই স্কুল ও কলেজ জীবন কেটেছে ভারতের কলকাতায়। রাজশাহী কলিজিয়েট স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সাল থেকে ভারতের কলকাতার কাছে নরেন্দ্রপুর আর কে মিশন স্কুল ও কলেজে অধ্যয়ন শুরু করেন। ১৯৭৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএস সি পাস করেন। এ বছরই বাবার মৃত্যুতে লিটনের জীবনে ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে আসে। মা জাহানারা ৬ নাবালক সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। সংসারে আর্থিক সংকটও দেখা দেয়। মার দৃঢ় মনোবল ও প্রচেষ্টায় ভাই-বোনসহ এ পরিস্থিতিতেই লিখাপড়া অব্যাহত রাখেন লিটন। ফলে ১৯৭৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক সম্মান অর্জন করেন। ১৯৮১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাক্কালে মহানগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগের সহ সভাপতি হিসেবে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। রাজনীতি অনুশীলনের পাশাপাশি তিনি পড়াশোনা অব্যাহত রাখেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১৯৮৩ সালে আইন বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৫ সালে রাজশাহী বার কাউন্সিলে এন্ডরোল্ড হন। তবে আইন পেশায় তিনি মনোযোগী হতে পারেননি। রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীদের কাছে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজশাহী মহানগর শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে মহানগর এ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। সে থেকে তিনি বার বার কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজশাহী মহানগরী শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মহানগরী শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি। এ ছাড়া দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি রাজশাহী মহানগরীর বেলদারপাড়া নিবাসী আব্দুস সাত্তারের কন্যা শাহীন আকতার রেনীকে বিয়ে করেন। বর্তমানে এ দম্পতি আনিকা ফারিহা জামান অর্না ও শ্রেয়া দু মেয়ের জনক-জননী। 
১৯৯৬ সালের ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে রাজশাহী-২ (পবা-বোয়ালিয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
তাঁর ক্রীড়াঙ্গনের জীবন বেশ উজ্জ্বল। তিনি জ্যাভলিন, শট পুট ও ডিসকাশ প্রতিযোগিতায় একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছেন স্কুল ও কলেজ জীবনে।